Header Ads

কোরআনের কারামতী

কোরআনের কারামতী 
রুহুল আমীন সুহাইল
১-হযরত ক্বাসিম নানুথভী রাহঃ একবার হজ্বের সফরে জাহাজে করে যাচ্ছেন । ঘটনা চক্রে রমযানের মাস শুরু হয়ে যায় । সফর সঙ্গীরা তারাবীহ নিয়ে আলোচনা করছে । খতম তারাবীহ হবে না কি সূরা ? এই সফরে আরও অনেক আলেম ছিলেন । কিন্তু কোন হাফিজে কোরআন ছিলেন না । ক্বাসিম নানুথভী রাহঃ চিন্তা করলেন এতো আলেম থাকতে সূরা তারাবীহ কেন হবে ? তিনি ঘোষণা দিলেন এশার জামাতের পর খতম তারাবীহই হবে । যেই ঘোষণা সেই কাজ । প্রতিদিন এক পারা কোরআন মুখস্ত করেন এবং তারাবীহে তা পড়ে শুনাতেন ।
২- ইমাম মুহাম্মাদ রাহঃ ইমাম আবু হানিফা রাহঃ এর দরবারে গেলেন পড়তে । ইমাম সাহেবের কাছে প্রথমবার যাবার পর আরজ করলেন আপনার দারসে আমি বসে ইলমে দ্বীন অর্জন করতে চাই । ইমাম সাহেব বললেন- তুমি কি হাফিজে কোরআন ? তিনি বললেন- জি না । ইমাম সাহেব বললেন- তাইলে যাও আগে কোরআন হিফয করে আসো । তবেই তোমাকে আমার ছাত্র হিসেবে গ্রহণ করবো । তিনি চলে গেলেন । এক সপ্তাহ পর ফিরে এসে বললেন- আমাকে আপনার দারসে বসার অনুমতি দিন । ইমাম সাহেব বললেন গত সপ্তাহে না তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম ? বললাম আগে কোরআন হিফয করে আসতে । তিনি উত্তরে বললেন- জি আমি হিফয করেই এসেছি । চাইলে আপনি বা কাউকে দিয়ে আমার পরীক্ষা নিতে পারেন ।
৩-মুফতি তাকি উসমানি দাঃবাঃ এর এক কিতাব যার নাম তারাশে' সেখানে একটি ঘটনা উল্লেখ করেন- এক মজলিসে বড় বড় আলিম উলামা বসা ছিলেন যাদের অধিকাংশই হাফিজে কোরআন । এই মজলিসে একজন আলিমের আলোচনা আসলো, উনার নাম হিশাম কালবী । হিশাম কালবী ব্যাপারে উপস্তিত আলিমরা আলোচনা করছিলেন উনি তো বড় মাপের আলিম কিন্তু হাফিজে কোরআন নয় । হিশাম কালবীও মজলিসে ছিলেন । তিনি এই আলোচনা শুনে মজলিস থেকে উঠে চলে গেলেন । তিনদিন পর আবারো এসব আলিমদের মজলিসে এসে বললেন- আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুক । আপনারা আমার ব্যাপারে এমন আলোচনা করেছিলেন । সেই কথা আমার অন্তরে নাড়া দিলে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিলাম কোরআন শরীফ হিফয করার । আলহামদুলিল্লাহ্‌ ! তিন দিনেই পূর্ণ কোরআন মুখস্ত করে আসলাম । আপনাদের মধ্যে থেকে কেউ পরীক্ষা নিয়ে নিন ।
Powered by Blogger.