Header Ads

শাহিনুর পাশার ফেসবুকিংয়ে উত্তাল ফেসবুক পাড়া

নিউজ শেয়ার অনলাইন ডেস্ক- মনে করছি আজকে ভিন্নধর্মী কিছু লেখবো, হুজুগে কমেন্টে যাওয়ার পুর্বে আমার পুর্ন লেখাটা পড়ে একটু ভাল করে অনুধাবন করে কিছু বলার থাকলে কমেন্টবক্সে বলতে পারেন ! আমি এখানে ৪ টি বিষয় নিয়ে আলচনা করতে চাই!
প্রথম বিষয় হচ্ছে- গতকাল ঢাকা আরজাবাদে জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং তাকে কেন্দ্র করে জমিয়তের যুগ্ন মহাসচিব সাবেক এমপি জনাব পাশা ভাইয়ের অনলাইনে ভাইরাল সৃষ্টকারী নিচের স্কীনসর্টের পোস্টটি ! পোস্টের মাঝে উনার উদ্দেশ্যের আগা গোড়া কিছুই বুঝা না গেলেও ছয়টি কথা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে! ১. প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসেন জমিয়তকে! ২. দলের মহাসচিব কাসিমী সাহেবকে বাবার মতই সম্মান করেন! ৩. জমিয়তের অন্যতম মমুরব্বি, সিলেট অঞ্চলের আলেম-উলামার অভিবাবক শেখ জিয়া উদ্দিন সাহেবের পরামর্শে জমিয়তকে এগিয়ে নিতে চান! ৪. গতকালের প্রোগ্রামে বিশেষ কোন ব্যক্তি উনার সাথে মারাত্বক অসদাচরণ (মারপিঠ) করেছেন! ৫. বিষয়টির ব্যাপারে প্রোগ্রামের উপস্থিত শীর্ষব্যাক্তি সভাপতি আল্লামা হবিগঞ্জি সাহেবের নিকট বিচারপ্রার্থী হয়েছেন! ৬. আগামী মাস তথা ডিসেম্বের মাঝেই কেন্দ্র থেকে আলগ হয়ে নিজ নেতৃত্বে নতুন দলের ঘোষনা করবেন!
২য় বিষয় হচ্ছে- গতকাল পাশা সাহেব কেন্দ্রিক বিষয়ের বাস্তবতা! এখানে প্রত্যক্ষদর্শিদের বর্ণনা মতে উনি জুহরের পর সবাই খানা খাওয়ার শেষে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত হন! উনাকে দেখেই মাদ্রাসা কতৃপক্ষ বিশেষ ভাবে খানার ব্যাবস্থা করার তাকিদ দিয়ে উনাকে খানা খেতে আহবান করতে গেলে দেখা যায়- উনি কারও সাথে কোন রকমের কথা ছাড়াই সোজা মহাচিবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করেন- আমাকে কেন দাওয়াত দেয়া হলনা? উনি বলেন- দাওয়াতের দায়ীত্ব তো আমার নয় ইন্তেজামি কমিটির! ঠিক আছে বসেন পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে! উনি তখন না বসে সাংগঠনিক সম্পাদকের নিকট গিয়ে হোঙ্কারী শুরে একই প্রশ্ন ছুড়লে সাংগঠনিক সম্পাদকও কাসেমী সাহেবের মত উত্তর দেন! প্রতিউত্তরে উনি বলে উঠেন- আপনারা মনে মনে আমাকে মায়নাস করতে চান! উত্তরে বলা হলো ভাই মনের খবর আপনি কেমনে জানলেন? এটি আলিমুল গায়েবই জানেন! এই যে অহেতুক একটি কথা আপনারা প্রায়ই বলে থাকেন এটি কিন্তু দলের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক! তখন উনি বলেন- আমি দেখছি দিন দিন আমাকে কেন্দ্র থেকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত অবমুল্যায়ন করা হচ্ছে! উত্তরে বলা হল- দলীয় বিষয় নিয়ে বার বার বয়লা (নীতিহীন) কাজ করবেন আবার কর্মীদের কাছ থেকে মুল্যায়ন পাবেন এটি কেমনে হয় আপনিই বলুন! তখন উনি সাংগঠনিক সম্পাদককে যচ্ছেতাই বলে সোজা চলে যান প্রোগ্রামের সভাপতি আল্লামা হবিগঞ্জির নিকট! ওখানে গিয়ে হুজুরে কানে কি যেন ফিস ফিস করে বলে সভাস্থল ত্যাগ করে আলোচিত সমালচিত এই পোস্ট করেন! এ সবই আবার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে!
৩য় বিষয় হচ্ছে- আলচিত বিষয়ে নিরপেক্ষ পর্যালচনা! এখানে সবার একটি কথা জানা দরকার যে, যে কোন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন কর্মশালার মুল উদ্দোক্তা ঐ দলেরই নীতি নির্ধারকগন হয়ে থাকেন! আর একটি দলের নীতিনির্ধাক হিসেবে সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি (এক বা একাধিক), মহাসচিব, যুগ্ন মহাসচি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে থাকেন! আবার কোন প্রোগ্রামের উদ্দোক্তাকে সেই প্রোগ্রামের দাওয়াত দিতে হয়না! যেমন- বরযাত্রার প্রোগ্রামে বরের বাবাকে কেউ দাওয়াত দেয়না; কারন উনি এটার উদ্দোক্তা! সেই হিসেবে গতকালের প্রোগ্রামে জমিয়তের যুগ্ন মহাসচিব পাশা সাহেবকে দাওয়াত দেয়ার প্রশ্নই আসলে হাস্যকর! অতএব এখানে কেন দাওয়াত করা হলনা সেই প্রশ্নটি অবান্তর! তদুপরি বলা যাবে- দলের বর্তমান বিবাদমান পরিস্থিতিতে মহাসচিব বা সাংগঠনিক সম্পাদকের পক্ষ হতে দাওয়াত পাগল এই বেচারাকে সৌজন্যতার খাতিরে হলেও একবার ফোনে দাওয়াতটা দিয়ে দিলেও কোন অসুবিদার কিছু আসতনা, এতে করে আজকের দৃষ্টিকটু ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়া যেত! আশা করি আগামিতে বিষয়টির প্রতি কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধাকদের সুদৃষ্টি থাকবে!
৪র্থ বিষয় হচ্ছে- আমার আজকের পোস্টের শিরনাম- পাশা সাহেবের পোস্টটির আলোকে উনাকে বলতে চাই- ১. আপনার কথা: 'ভালবাসি প্রাণের চেয়েও বেশি আমার দলকে' এর সাথে কি আপনার কাজের নুন্যতম মিল আছে? প্রথমত, যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করে বিবেকের আয়নায় একটু দেখে বলুন ত- সোসাল মিডিয়ায় আপনার এই পোস্টের দ্বারা দলের ভিতরে এবং বাহিরে আপনার দলের কি পরিমান লাভ আর কি পরিমান ক্ষতি হচ্ছে! এতে কি দলীয় কর্মীরা আপনারা মুরব্বীদের ব্যাপারে আশাহত হচ্ছেনা, এর দ্বারা কি কর্মীরা দলীয় দাওয়াতি কার্যক্রমে বাধাগ্রস্থ হবেনা, এর দ্বারা কি দলের আগ্রযাত্রা প্রশ্নের সম্মুখিন হবেনা, এর দ্বারা কি দলের বাহিরের লোকদের কাছে দলের ইমেজ ক্ষুন্ন হবেনা???? প্রাণের চেয়েও বেশি করে যে দলকে ভালবাসেন সেই দলের একটি প্রগ্রামে দাওয়াত না পাওয়াতে আপনার প্রাণ এত ব্যাকুল হয় কি করে? দাওয়াত না পাওয়াতে যে পরিমান অবমুল্যায়িত হয়েছেন মনে করেন, সেই বিষয়টি সুসাল মিডিয়ায় প্রচার করে আপনার দলকে তার চেয়ে যে হাজার গুণ অবমুল্যায়িত করলেন তার খেয়াল কি করছেন? মানলাম দাওয়াত দেয়া হয়নি ভুল হয়েছে, আপনি বিনা দাওয়াতেও ত ওখানে গেলেন! এটিই ছিল দলকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসার পরিচায়ক! কিন্তু ওখানে গিয়ে এবং ততপরবর্তী সুসালে পোস্ট মেরে বুঝিয়ে দিলেন- আপনি দল নয় নিজেকেই ভালবাসেন! দল নয় নিজেকেই জাহির করতে চান! ২. আপনার কথা: 'কাসেমী সাহেবকে বাবার মত সম্মান করি' এর সাথে কি আপনার কাজের নুন্যতম মিল আছে? আপনার বাবার জীবদ্ধশায় কি আপনার প্রতি আপনার চাচা, ভাইদের কোন অসৌজন্য আচরণে বাবাকে জানানো এবং উনার সিদ্ধান্ত বা সমাধানের পুর্বেই গ্রামে বা বাজারে গিয়ে ঢুল পিঠেছিলেন? আপনার গতকালের আচরণ কি বাবার লুঙ্গি খুলে বাবাকে উলঙ্গ করে কপালে চুমু খায়ার মত হয়ে গেলনা? চৌধুরী পরিবারে বাবার সম্মান কি এমনই করা হয় ? ৩. আপনার কথা: 'রাজনীতির প্রেরনার বাতি শেখ জিয়ার পরামর্শে জমিয়তকে এগিয়ে নিতে চাই' এর সাথে কি আপনার কাজের নুন্যতম মিল আছে? একাধারে দলের অভ্যন্তরি একান্ত বিষয় নিয়ে সুসাল মিডিয়ায় লেখালেখি করা, এবং এ সংক্রান্ত কিছু অপরিনামদর্শিদের লেখালিতে দলের সিনিয়র মুরব্বিদের ব্যাপারে তাচ্ছিল্যিক কমেন্ট করে বেআদবীকে উতসাহ দেয়া সহ গতকালের পোস্টটি কি দলকে এগিয়ে নিতে শেখ জিয়ার পরামর্শে করে যাচ্ছেন? এ পর্যন্ত আপনাদের কথিত দলীয় অভ্যন্তরিন অনিয়মের বিষয় নিয়ে কতবার শেখ জিয়ার সাথে পরামর্শ করেছেন ? বিগত এক বছরের মাঝে উনার নিকট একান্ত ভাবে কয়বার বসে দলকে এগিয়ে নিতে পরামর্শ নিছেন? দেখেছি গতকালের বিষয়ে আল্লামা হবিগঞ্জির নিকট বিচার দিয়েছেন, যা আপনার পোস্টেও উল্লেখ আছে ! আপনি একজন পেশাদার আইনজীবি হিসেবে বলতে চাই- ১. বিচারাধিন বিষয়ে অপেন মাঠে কথা বলা দন্ডনীয় অপরাধ নয় কি? ২. বিচারকের উপর বলপ্রয়োগ বা চাপ সৃষ্টি করা ফ্যঁসিবাদের আলামত নয় কি? বিচার দিয়ে রায় ঘোষনা করা বিচার মানি তাল আমার মতো হয়ে যাওয়া নয় কি? আপনি বিচার দিলেন, আবার বিচারক ইজলাসে বসার আগেই লুঙ্গি খুলে হাঙ্গ দাবী মাইনতে হবে নইলে গদি ছাড়তে হবে মিছিল দিয়ে মাঠে নেমে গেলেন, এটি কিসের আলামত?
অন্যদিকে আপনি বিগত কিছু দিন থেকে আকারে ঈঙ্গিতে আপনার বাবার সমান একজন মুরব্বিকে নিয়ে অহরহ কটুক্তি করে যাচ্ছেন (যার কিছু নমুনা কমেন্ট বক্সে দেয়া হবে) এসব কি এডভুকেট ডিগ্রী এবং চৌধুরী খান্দানের রীতি নীতি? অন্যকে প্রতিনিয়ত অসম্মান করে নিজে সম্মান খুঁজা উলুবনে মুক্তার তালাশ নয় কি জনাব ? আপনি যাদের বেলায় বলতে ছাচ্ছেন তাদের সংগঠনের মেজাজ নাই, বাস্তবতা আল্লাহই ভাল জানেন তবে আমি এখানে বলবো- তারা আসলে আপনার সাথে যেমন আমাই তেমন নাতিন জামাইর মতনই হয়তো আচরণ করছেন! আপনি নিজের মাঝে আগে সংগঠনের মেজাজ তৈরী করুন পরে দেখবেন আপনার বেলায় সবার সংগঠনের মেজাজ তৈরী হয়ে যাবে! কিছু পেতে হলে আগে দিতে হয়, কথাটি মনে রাখবেন! আগে আপনি মুরব্বিদের বেলায় শ্রদ্ধাশীল হোন পরে দেখবেন অটোমেটিক সবাই আপনার বেলায় শ্রদ্ধাশীল হয়ে যাবে!
পাশা ভাই অত্যন্ত স্বশ্রদ্ধেয় আপনাকে বলতে চাই- সংগঠন নিয়ে ইদানিং আপনার ব্যাপারটি সহ্যের বাহিরে চলে যাচ্ছে, আপনি আর আমাদের সহ্যের পরিক্ষা নিবেন না প্লীজ! সংগঠন নিয়ে আপনার যত মান অভিমান, যুগ অভিযোগ আছে, এসব নিয়ে সুসাল মিডিয়ায় বা পথে ঘাটে বোমা ফাটিয়ে দলের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে একান্ত করে আপনি যাকে দিয়ে সমাধান হবে মনে করেন তাঁর সাথে আলাপ করে সমাধান করেন, প্রয়োজনে একাধিক জন! নিতান্ত প্রয়োজনে নিরবে নিভৃত্বে আপনার সমসাময়িক বা জুনিয়র সারির কিছু লোক সংগ্রহ করে একসাথে গিয়ে কেন্দ্রে বসে! কথা হলো- দলের অভ্যন্তরিন সমস্যা আপনার মত দলপ্রেমীর মাধ্যমে দলের সাধারন কর্মী বা দলের বাহিরের লোকেরা জানবে কেন! আবার দলের কোন মুরব্বি বা পরিচিত কারও ব্যাপারে আপনার হিংসাত্মক বা ব্যঙ্গাত্মক কিংবা বিদ্রুপাত্মক কোন কমেন্ট কারও পোস্ট আমরা দেখতে চাইনা, সাথে সাথে আপনার কোন পোস্টেও দলীয় যেকোন মুরব্বী বা যেকোন দায়ীত্বশীল ব্যাক্তির বেলায় মানহানীকর কারও কোন কমেন্টও সহ্য করতে পারিনা! অনেক সময় আপনার অনেক পোস্টে আপনি যেসব মুরব্বিদের নাম স্বসম্মানে উচ্চারণ করেন তাদের শানে যখন কেউ দৃষ্টকটু কমেন্ট করে আর তা ঘন্টার পর ঘন্টা বহাল তবিয়তে দেখি বা এতে আপনার রিপ্লাই পাই তখন কিন্তু খুবই দুঃখ লাগে! মনে মনে ভাবতে থাকি এটি আসলে মনে হয় আপনারই মনের প্রতিধ্বনি! অতএব আপনার অবস্থান সর্ব মহলে সমুন্নত রাখতে মুল কাজটাই হলো- প্রথমে আপনি নিজেই সচেতন হোন! প্লীজ প্লীজ প্লীজ!!!
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত )
Powered by Blogger.