Header Ads

আসামকে মিয়ানমার বানানো যাবে না: মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী


জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী বলেছেন, ভারতের আসামকে মিয়ানমার বানানো যাবে না। গতকাল (শুক্রবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার এক মসজিদে মুসুল্লিদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।
আজ (শনিবার) জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের প্রেস সচিব ইনযিমাম উল হক এ বিষয়ে  বলেন, জমিয়তের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী শুক্রবার কোলকাতার এক মসজিদে ভাষণ দেয়ার সময় বলেন, ‘আসামকে মিয়ানমার বানানো যাবে না। অথবা সেখানকার মুসলিমদের যদি কেউ রোহিঙ্গা বানানোর চেষ্টা করেন তাহলে ভুল ভাবছেন। এটি কখনো সম্ভব নয়। সরকার আসে, সরকার যায়। সরকারের পরিবর্তন হয়। কিন্তু আল্লাহ কাল ছিলেন, আজও আছেন, আগামীতেও থাকবেন। আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি সবসময় খেয়াল রাখেন। আমাদের আকাবীররা ভারতের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করে গেছেন। তারই ফলশ্রুতিতে ভারত স্বাধীন হয়েছিল। সেজন্য এখানকার মুসলিমদের মধ্যে কেউ চিড় ধরাতে পারবে না। আমাদের যা করণীয় তা হল আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত না হওয়ার জন্য বিশ্বের মুসলিমরা লাঞ্ছিত ও পদদলিত হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘দিল্লি অ্যাকশন কমিটি ফর আসাম’ সংস্থার পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ওই আলোচনা সভার পরে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী বলেন, ‘আসামে ৫০ লাখ মুসলিমের নাম জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সরকার।’
যদি এরকম চলতে থাকে তাহলে আসামে মিয়ানমারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।মাওলানা মাদানী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এনআরসি থেকে পঞ্চাশ লাখ ভারতীয় মুসলিমের নাম বাদ দেয়া হলে গোটা আসাম জুড়ে আগুন জ্বলবে। মুসলিমরা নিশ্চয়ই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। অশান্তির আগুন কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
মাওলানা মাদানীর ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে আসামে । রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আসামের ছয় বুদ্ধিজীবীসহ মাওলানা মাদানীর বিরুদ্ধে আসামের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আসাম পুলিশের একটি দল নয়াদিল্লিতে ড. হীরেন গোহাই ও জমিয়ত প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। বেশ কয়েকজনকে এরইমধ্যে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে মাওলানা মাদানী, বুদ্ধিজীবী ড. হীরেন গোঁহাই, মনজিত মোহন্ত ও হায়দর হোসেনকে গ্রেফতার করার দাবি তুলেছেন সংসদ সদস্য কামাখ্যা প্রসাদ তাসা। দিল্লির বৈঠকে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের ক্ষমা না করে গ্রেফতার করা উচিত বলেও কামাখ্যা প্রসাদ তাসা মন্তব্য করেছেন।
জমিয়ত প্রধান মাওলানা মাদানী অবশ্য তার বক্তব্য থেকে একচুলও পিছু হঠতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, বিগত তরুণ গগৈ সরকারের আমলে (কংগ্রেস সরকার) রাজ্যে একজনও বাংলাদেশি নেই বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন। কিন্তু এখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে যত্রতত্র বাংলাদেশি দেখছে। প্রকৃত নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। নাগরিক পঞ্জিতে সব নাগরিকের স্থান হোক এটাই কাম্য। কিন্তু মাতৃভূমি থেকে কাউকে উৎখাত করার চেষ্টা হলে আগুন জ্বলবেই।’
মাওলানা মাদানী বলেন, তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তাতে তিনি সফল হয়েছেন। তার বিরোধীরাই সর্বত্র তার বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। কুশপুত্তলিকা পোড়ানো তারই নামান্তর।
Powered by Blogger.