Header Ads

নেতৃত্বের টানাপুড়নে ঝুলিয়ে আছে ইসলামী ঐক্যজোট-জমিয়তের নির্বাচনি লিয়াজো



নিউজ শিয়ার অনলাইন ডেক্স:- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বচনের দিন তারিখ ঘনিয়ে আসলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে মরহুম মুফ্তি আমিনী'র প্রতিস্টিত মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক নির্বাহী সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের নির্বাচনী লিয়াজো এক রকমের পাকাপোক্ত হওয়ার পরও শুধু নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়নের কারণে ঝুলিয়ে আছে লিয়াজোর বিষয়টি! 
উল্লেখ্য যে, মুফতি আমিনীর মৃত্যুর পর বর্তমানে ইসলামী ঐক্যজোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবদুল লতিফ নিজামী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ। প্রথমজন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও দ্বিতীয়জন যুগ্ম মহাসচিব। যথাযোগ্য সম্মান না পাওয়ার অভিযোগ এনে উনারা ঐক্যজোটকে গত বছরের ৭ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগের ঘোষনা করেন। ২০১৩ সালে হেফাজত সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি মুফতি ফয়জুল্লাহ। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকলেও বিএনপি জোট ত্যাগের পর তিনি নির্বিঘ্নে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। নিয়মিত লালবাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অফিসও করছেন। 
নির্বরযোগ্য তথ্যমতে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে হেফাজত সংক্রান্ত বিষয়ে যেকোন হয়রানি হতে মুক্তিলাভ ও উন্মোক্ত ভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগের প্রতিশ্রুতি সহ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী ১৪ দলীয় জোটের সাথে নির্বাচনে গেলে উল্লেখযোগ্য আসন ছাড়ের প্রলোভনের কারনেই মূলত ইসলামী ঐক্যজোটের বি এন পি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগের সিদ্ধান্তটি! ইতিমধ্যে মরহুম মুফতি আমিনী'র ছেলে হাসানাত আমিনী সহ দলের গুরুত্বপুর্ণ একাধিক নেতার সরকার দলীয় নিতিনির্ধারকদের সাথে দফায় দফায় গোপন বৈঠকের খবরাখবরও বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে! সম্প্রতি এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে ‘সহযোগিতা’ চেয়ে একটি চিঠির খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। হেফাজতে ইসলামকে ‘সরকারের পক্ষে’ রাখার শর্তে চাইছে ২০টি আসনে ‘দিকনির্দেশনা’। প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানোর জন্য খসড়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২০টি আসন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে আসনগুলোতে আপনার দিকনির্দেশনা, সহযোগিতা আমরা একান্তভাবে কামনা করি।’ 
তা ছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ৭ জানুয়ারি ঢাকায় মহাসমাবেশ করতে চায় ইসলামী ঐক্যজোট। এখান থেকে ধর্মভিত্তিক মোর্চা গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা। মহাসমাবেশ আয়োজনেও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে হেফাজত সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিনের কারাভোগি নেতা দুই যোগেরও বেশি সময়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিবের পদে থাকা দলটির সাবেক নির্বাহী সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের সাথে ইসলামী ঐক্যজোট নেতারা নিয়মিত যুগাযোগ করে আসছেন! মুফতি ওয়াক্কাসের গনিষ্ট একজন সহযোগি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, 'নির্বাচন কমিশনের সাথে মত বিনিময়ের প্রায় মাসাধিক পুর্বে মুফতি ওয়াক্কাসের নেতৃত্ব আমাদের একটি প্রতিনিধি দল লালভাগে গিয়েছিল! এখানে আগামি নির্বাচনে জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্য হারে আলেম-উলামাদের অবস্থান নিশ্চিত করা নিয়ে আলচনা হয়! ইসলামী ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দেগন আগামি নির্বাচনে হেফাজত সংশ্লিস্ট দেশের রাজনৈতিক দল সমুহ আওয়ামি মহাজোটের সাথে লিয়াজো ভিত্তিক অংশ গ্রহণ করলে আমাদের জন্য কমপক্ষে বিশটি আসন ছেড়ে দেয়া হবে বলে প্রায় নিশ্চিত করে বলেছেন! আর হেফাজতের আন্দোলনে জমিয়তের মুখ্য ভুমিকা হিসেবে জমিয়ত যদি ইসলামী ঐক্যজোটের ধর্ম ভিত্তিত মুর্চায় শরিক হয় তবে জমিয়তকে সর্বোচ্চ মুল্যায়ন সহ নির্বাচনে ৫-৭ আসন ছাড় দিবে বলে আশ্বস প্রদান করেন তারা!'
আগামি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে জমিয়ত নেতা মুফতি ওয়াক্কাসের রাজনৈতিক লিয়াজো প্রায় পাকাপোক্ত হয়ে গেলেও ঐক্যজোটের অন্যতম এক নেতার কথায় জানা যায়- 'উনাদের অযৌক্তিক একটি দাবীর সামনে থমকে আছে জমিয়তের সাথে আমাদের আগামির সকল কার্যক্রম! উনাদের সাথে আমাদের লিয়াজোর সামনে বাদ সাজে আগত মুর্চার প্রধান নেতৃত্বের বিষয়টি! জমিয়ত নেতা শেখ মুজিব, গোলাম ইকরাম, ওয়ালি উল্লাহ আরমান গং দের দাবি হলো মুফতি ওয়াক্কাসকে মুর্চার চ্যায়ারম্যন বানানুর বিষয়টি নিশ্চিত হলেই তারা আমাদের সাথে মুর্চা গঠনে রাজি! কিন্তু আগামি নির্বাচন নিয়ে সরকারের সাথে সমজতার মুখ্য ভুমিকা আমাদেরই হওয়ায় আমরা এখানে কখনও ছাড় দিতে পারিনা! তাছাড়া মুফতি ওয়াক্কাস তো চাইলেই জমিয়তকে ২০ দল হতে বের হয়ে আসার ঘোষণা দিতে পারবেন না! এর জন্য দরকার নিজ দলে উনার নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান! নিজ দলে উনার নির্বাবাহি সভাসতির পদটি ইতিমধ্যে হ ঝ ব র ল অবস্থায়!'
সুনিদৃষ্ট তথ্য মতে জানা যায় যে, মুফতি ওয়াক্কাস তাঁর দলে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারি নির্বাহী সভাপতির পদকে কাজে লাগিয়ে আগামি নির্বাচনের পুর্বে যেকোন মুহুর্তে সংবাদ সম্মেলন করে জমিয়তকে ২০ দলীয় বি এন পি জোট হতে বের হওয়ার ঘোষনা দিয়ে দেয়ার আসংখ্যাকেই কেন্দ্র করে মুলত দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাহী সভাপতির পদটি বিলুপ্ত করা হয়! কেননা মুফতি ওয়াক্কাস জমিয়তকে বি এন পি জোট হতে বের করে আনার মুচলেখা দিয়েই কারামুক্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন আছে! আওয়ামী সরকারের রুসানল হতে বাঁচতে মুফতি ওয়াক্কাসকে যে করেই হোক ২০ দল হতে বের হতেই হবে! কিন্তু দলের মাঝে উনার নড়বড়ে অবস্থানের ফলে বিষয়টি প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে! এ জন্য সম্প্রতি দল থেকে বের হয়ে নতুন করে দল ঘোষনার জুরালো ততপরতা চালাতেও উনাকে দেখা যাচ্ছে! তবে নতুন করে দল ঘোষণার বিষয়টির প্রতি সাহস পাচ্ছেন না দুইটি জিনিষের কারণে! ১. জমিয়ত হতে আলগ হয়ে মাঠ পর্যায়ে কি পরিমান নেতা-কর্মীকে উনার সাথে পাবেন এ বিষয়ে কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না, এখানে জমিয়তে বিপুল জনপ্রিয় নেতা এড মাও. শাহিনুর পাশা চৌধুরীর হোযোগী মনভাবকে কাজে লাগিয়ে নিজের পাশে বিড়ানুর সর্বোচ্ছ প্রচেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন! ২. ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে লিয়াজোর ব্যাপারে সম্ভাব্য মুর্চার সর্বোচ্চ পদবি চ্যায়াম্যানের পদটির ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা দেখছেন না! এ নিয়ে ঐক্যজোটের সাথে এখনও দরকাসাকসি চলছে! একারনেই জমিয়ত হতে আলগ হওয়ার প্রাথমিক ধাপ 'জমিয়ত সু'রক্ষা কমিটি'র কার্যক্রমকে স্তিমিতাকারে চালিয়ে যাচ্ছেন! জানা গেছে আর কিছু হোক না হোক লালভাগিদের পক্ষ হতে কোন সবুজ সংক্ষেত পেয়ে গেলেই জমিয়ত থেকে আব্যহতি দিয়ে নতুন দল ঘোষনা করে ফেলার বিষয়টি উনাদের একান্ত বিবেচনাধীন! আর না হয় আমও যাওয়া এবং ছালাও যাওয়ার আসংখ্যায় নতুন কিছু করতে যাবেন না! এখন দেখার বিষয় ইসলামী ঐক্যজোট মুফতি ওয়াক্কাসকে ছাড় দেয় কি না!
Powered by Blogger.