Header Ads

দিল্লির জমিয়ত দফতরে পুলিশি হানা, আরশাদ মাদানিকে জেরা

news-image



জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আল্লামা আরশাদ মাদানির একটি বক্তব্য নিয়ে পুলিশ জেরা করেছে। গত শনিবার অসম পুলিশের একটি তদন্তকারী দল জমিয়তের দিল্লির অফিসে হানা দেয়।
জানা যায়, আল্লামা আরশাদ মাদানির পাশাপাশি তার সহকারী মাওলানা ফজলুর রহমান কাসেমীকেও জেরা করে পুলিশ।
অসম পুলিশের এসিপি প্রাঞ্জল বরার নেতৃত্বে দলটি জমিয়তের এই দুই নেতাকে জেরা করার পাশাপাশি বেশ কিছু নথিপত্রও নিয়ে যায় অফিস থেকে। তদন্তের স্বার্থে এসিপি এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে একই বিষয়ে আরশাদ মাদানিকে ফের জেরা করা হতে পারে বলে জানান প্রাঞ্জর বরা।
এর আগে একই দিন আল্লামা আরশাদ মাদানি এক সংবাদিক সম্মেলন ডেকে ঘোষণা দেন, পুলিশ যদি এ বিষয়ে তদন্ত করতে চায় তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।
‘আসামকে দ্বিতীয় মিয়ানমার বানানো হচ্ছে’ এমন বক্তব্যের জের ধরে আল্লামা আরশাদ মাদানির বিপক্ষে ক্ষোভ দেখায় সেখানকার নাগরিক। আদালতে ৫টি এফআইআরও দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। এর প্রেক্ষিতেই অসম পুলিশ দিল্লির জমিয়ত অফিসে হানা দেয়।
পুলিশ জমিয়তের দুই নেতাকে ছাড়াও ‘দিল্লি অ্যাকশন কমিটি ফর অসম’ নামের একটি সংগঠন বিষয়েও তদন্ত করছে। আরশাদ মাদানি এ সংগঠন আয়োজিত ১৩ নভেম্বরের সেমিনারেই উক্ত ভাষণ দিয়েছিলেন।
এদিকে আল্লামা আরশাদ মাদানি নিজের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে পরিস্কার করেছেন সাধারণ মানুষের কাছে। তিনি বলেন, আমার উর্দু ভাষণ বুঝতে পারেনি অসমের জনসাধারণ। অসমের বুদ্ধিজীবিরাও বুঝতে পারেননি। এ কারণেই মূলত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন,  এনআরসি (নাগরিক তালিকা) থেকে বাদ পড়া ২৫ লক্ষ মানুষের জন্যই ছিল আমার সেদিনের ভাষণ। আমি সেখানে অশান্তির অশঙ্কার কথা বলেছিলাম। আগুন জ্বালানোর কথা বলিনি।
আল্লামা আরশাদ মাদানি আরও বলেন, আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। আমি তরুণ গগৈ’র কথার ভিত্তিতেই বলেছিলাম আসামে কোনো বাংলাদেশি নেই। এ নিয়ে আমি পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করবো।
অসম এসিপি প্রাঞ্জল বরা জানিয়েছেন, দিল্লিতে তদন্ত শেষ করে তারা গুহাটি ফিরে গিয়ে তারা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তবে দিল্লিতে এই তদন্ত ও জেরা কতদিন চলবে সেটি বিষয়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে কিছু জানাননি।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্য আসাম ‘বিদেশি’ ইস্যুতে বরাবরই সরব। এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়লে চলতি বছরই ৩০ লাখ বাঙালির গায়ে সরকারিভাবে পড়বে বিদেশি তকমা। তাই তাদের রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথই খোলা থাকছে না আসাম সরকারের হাতে।
কিন্তু ৩০ লাখ মানুষ যাবে কোথায় এই নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে সর্বত্রই। এটি বাস্তবায়ন হলে রোহিঙ্গাদের মতোই পরিস্থিতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর এ বিষয়েই আল্লামা আরশাদ মাদানি ১৩ নভেম্বরের সমাবেশে মুখ খুলেছিলেন।
সূত্র: অসমিয়া প্রতিদিন, সাময়িক প্রসঙ্গ- আসাম

AddThis Sharing Buttons
Share to FacebookShare to TwitterShare to PrintShare to ES
Powered by Blogger.