Header Ads

আরাকান ও আসামের ভাগ্য এবং আরশাদ মাদানীর স্বীকারোক্তি

চিত্রে থাকতে পারে: এক বা আরও বেশি ব্যক্তি
১. দুইদিন আগে প্রকাশিত বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য #আসাম থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে তাড়িয়ে সেখানে আরও একটি মিয়ানমার তৈরি করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের প্রবীণ নেতা মাওলানা আরশাদ মাদানী। এই মন্তব্য করার পর আসামে তোপের মুখে পড়েছেন তিনি৷ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সে রাজ্যে একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে, আসাম পুলিশও তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করছে। আসামে বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের যে তালিকা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, তার সূত্র ধরে মাওলানা মাদানী এ কথা বলেছিলেন। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন যারাই এই তালিকা প্রকাশের বিরোধিতা করবেন আসামে তাদের 'শত্রু' বলে গণ্য করা হবে। আসামের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই মাওলানা #মাদানীর বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে, বিভিন্ন দলের মুসলিম নেতারাও তার মন্তব্য নিয়ে সাবধানী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। 
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আসামে যে বৈধ নাগরিকদের তালিকা বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) তৈরির কাজ চলছে তা প্রকাশ হওয়ার কথা আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই। 
আরশাদ মাদানী বলেছেন, "চারশো বছর ধরে যারা বংশপরম্পরায় আসামে বসবাস করছেন তাদের আপনি বাংলাদেশি বলে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন, তা আমরা কিছুতেই হতে দেব না। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, তাহলে আগুন জ্বলে যাবে৷ ভারতীয় নয় বলে এই মুসলিমদের যদি আপনি বের করার চেষ্টা করেন, তাহলে তো বলব আসামের বিজেপি সরকার এটাকেও আর একটা মিয়ানমার বানানোর চেষ্টা করছে।" 
-
০২. আসামের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী হীরেন গোঁহাই-সহ ওই সভার উদ্যোক্তারা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জানান, এ বক্তব্যের দায় তাদের নয়৷ ওদিকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসমিয়া ও হিন্দু সংগঠনগুলি এর পরই মাওলানা মাদানীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে দেয়, তার #কুশপুতুল পোড়ানো হতে থাকে। হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে তিনি বিদ্বেষ ছড়োচ্ছেন, এই অভিযোগে রাজধানী গুয়াহাটি ও তেজপুরের বিভিন্ন থানায় আরশাদ মাদানীর বিরুদ্ধে অনেকগুলো এফআইআর দায়ের করা হয়। 
পুলিশ প্রধান মুকেশ সহায় জানান, তারা #জামিয়তের নেতার বিরুদ্ধে ভিডিও ও অডিও সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করছেন। তবে সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল নিজে। মি: সোনোওয়াল বলেন, "যে সব শক্তি এনআরসি বা নাগরিক তালিকার বিরোধিতা করবে, আসাম তাদের শত্রু বলে গণ্য করবে। তাদের বিরুদ্ধে আসাম সরকার হাত গুটিয়ে থাকবে না৷ বরাক-ব্রহ্মপুত্র পাহাড় জুড়ে যে বৃহত্তর অহমিয়া জাতি, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই শত্রুদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।" এনআরসি-কে ঘিরে আসামের মুসলিমদের মধ্যে তীব্র আশঙ্কা আছে সেটা সত্যি, কিন্তু মাওলানা মাদানীর বক্তব্যে তারা অন্যরকম অস্বস্তিতেও পড়েছে। রাজ্যে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় দল এআইডিইউএফ- এর দাবি, তার বক্তব্যকে বিকৃত করা হচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের কথায়, "আরশাদ মাদানীর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমার সন্দেহ, উর্দুতে দেওয়া তার বক্তব্য মিডিয়ার সবাই বোঝেনি, তিনি কিন্তু শান্তি বজায় রাখার কথাই বলেছিলেন। উনি শুধু একটা সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, কিন্তু সেটা অনেকে বুঝতে পারেনি।" কিন্তু রাজ্যে দীর্ঘদিন মুসলিমদের সমর্থন পেয়েছে যারা, সেই #কংগ্রেসওএখন আরশাদ মাদানীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতা আবদুল খালেক বলছেন, "মাদানী সাহেবের বক্তব্য বলে মিডিয়ায় যা প্রচার হয়েছে, তা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি একটা স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সন্তান, তার মুখে এ ধরনের কথা মানায় না।" সেই সঙ্গেই তিনি যোগ করছেন, "তবে আসামের মুসলিমদের ভাগ্য তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে, তাদের কোনও মাদানীর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।" বিবিসি বিশ্লেষকের মতে, "এনআরসি তালিকা প্রকাশের আগে আসামের পরিবেশ যে কতটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে আছে, সম্ভবত এই সব কথাবার্তাই তার প্রমাণ। জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের নেতা মাওলানা আরশাদ মাদানী সেই উত্তেজনাকে হয়তো আরও উসকে দিয়েছেন, যার পরিণতিতে এখন টগবগ করে ফুটছে গোটা রাজ্য।"
যাই হোক, এসব ক্রিয়া-প্রতিক্রয়ার মানে হলো, আসামের মুসলমানদেরকে ধীরে ধীরে আরাকানীদের ভাগ্য বরণ করতে হবে৷ এ অঞ্চলের মুসলমানদের সকলে যখন এক পর্যায়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিবে, তখন 'বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে' এমন অভিযোগ তুলে তার নিয়ন্ত্রণ নিবে ভারত৷ সহযোগিতায় থাকবে মিয়ানমার। মিয়ানমার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে তাদের দখলে নিতে চাইবে৷ সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাংলার বিপুল সংখ্যক মুসলমান মারা পড়বে এবং আর বিপুল সংখ্যক পালাতে গিয়ে সলিল সমাধি বরণ করবে৷ ভারত #আওয়ামীলীগকে দখল করে নিয়েছে অনেক আগে৷ কিছুদিন ধরে তারা বিএনপিকেও দখলে নেবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে৷ 
-
আশপাশে কোন মুসলিম দেশ না থাকায় আমাদের ভবিষ্যত অনেক কঠিন ও করুণ হবে বলে মনে হচ্ছে৷ মহান রব আমাদেরকে সুমতি رشد দান করুন এবং তাঁর কৃপাদৃষ্টি প্রাপ্ত বান্দা زاهد ومجاهد জাহিদ ও মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত করুন৷
Powered by Blogger.