Header Ads

জমিয়তের নামে সুরক্ষা কমিটি অবৈধ : আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী

[আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ও প্রবীণ আলেমদের অন্যতম একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ঈমান-আক্বীদার ইস্যুসহ ইসলামী রাজনীতি ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে তিনি রাজপথে প্রথম কাতারে থাকা ইসলামী নেতা। তিনি একাধারে ইসলামিক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং ঈমান-আক্বীদা ভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রসঙ্গসহ সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে গত রাতে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ইনসাফ শো-তে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। শো-তে উপস্থাপক ছিলেন ইনসাফের সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার। শো-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য প্রকাশ হলো]
মাহফুজ খন্দকার : আসসালামু আলাইকুম! হাযরাত, কেমন আছেন?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : ওয়ালাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ, ভাল।
মাহফুজ খন্দকার : হাযরাত, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রসঙ্গে কিছু জানতে চাচ্ছিলাম। জমিয়তের কার্যক্রম বর্তমানে কেমন চলছে?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : আলহামদুলিল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দলীয় কার্যক্রম ভালোই চলছে। বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। দলের নেতা-কর্মীরাও আলহামদুলিল্লাহ দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের উপর দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলেছেন। ঢাকা মহানগরী এবং জেলাওয়ারী কমিটির নিয়মিত বৈঠক ও কার্যক্রমও যথারীতি চলছে।
মাহফুজ খন্দকার : দেশের সব জেলাতেই কি আপনাদের দলীয় কার্যক্রম ও জেলা কমিটি রয়েছে?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী :  ৪০টির মতো জেলায় জমিয়তের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এসব জেলায় দলীয় কার্যক্রমও পূর্ণাঙ্গভাবে চলছে। অবশিষ্ট জেলাসমূহে কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছে।
মাহফুজ খন্দকার : সংসদ নির্বাচন তো ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে যদি কিছু বলতেন? আর আগামী নির্বাচনে আপনারা কি পরিমাণ আসনে প্রার্থী দিতে পারেন, একটু ধারণা দেবেন?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ভালো। আগামী সংসদ নির্বাচনে জমিয়ত ৫০টি আসনে নির্বাচনের টার্গেট নিয়েছে।
মাহফুজ খন্দকার : আপনারা তো ২০ দলীয় জোটে রয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে কি জোটের সাথে আপনাদের কথা হয়েছে? আর শুনছি নতুন ইসলামিক জোট হচ্ছে। আপনারা কি তাতে অংশগ্রহণ করবেন?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : জোটের সাথে আসন নিয়ে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিক কোন কথা হয়নি। তবে আমরা ৫০টি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জোটের সাথে আলোচনায় ন্যূনতম ৩০টি আসনের বিষয়ে আমরা আশাবাদি, ইনশাআল্লাহ। আর হ্যাঁ! আমরা ভিন্ন কোন নির্বাচনী জোট করছি না। আমরা২০ দলীয় জোটে আছি এবং জোটের সাথে থেকেই নির্বাচনে যাবো, ইনশাআল্লাহ।
মাহফুজ খন্দকার: কিছুদিন যাবত শুনতে পাচ্ছি জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি পদ নিয়ে মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবের সাথে একটু মনোমালিন্য বা ভুলবুঝাবুঝি হচ্ছে। মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবের দলে পদাবনতি হয়েছে বলেও শুনলাম। বর্তমানে মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব জমিয়তের কোন পদে আছেন?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : সম্প্রতি মাজলিসে শূরার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নির্বাহী সভাপতির পদ বিলোপ করা হয়। বর্তমানে মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব এখন জমিয়তের সম্মানিত সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
মাহফুজ খন্দকার : আপনার ব্যাপারে কেউ কেউ অভিযোগ তুলতে চান যে, আপনি একক ক্ষমতাবলে মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবকে নির্বাহী সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়েছেন। এমন অভিযোগের সত্যতা কতটা রয়েছে?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : এরকম অভিযোগের পুরোটাই মিথ্যা ও অবান্তর। জমিয়তের নিজস্ব গঠনতন্ত্র রয়েছে। শক্তিশালী মাজলিসে শূরা ও মজলিসে আমেলা রয়েছে। মাজলিস শূরা আর আমেলার বৈঠক থেকে অনুমোদন ছাড়া দলের অভ্যন্তরের প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। নির্বাহী সভাপতির পদ আগেও ছিল না। কয়েক বছর আগে অস্থায়ীভাবে এই পদ তৈরি করা হয়েছিল। এখন শূরা ও আমেলার সম্মানিত সদস্যগণ এই পদের প্রয়োজন মনে করছেন না। নির্বাহী সভাপতির পদ বিলোপে মজলিসে শূরা ও আমেলার বাইরে গিয়ে এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।
মাহফুজ খন্দকার : আপনার ব্যপারে তারা বলে থাকেন, আপনি কিনা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি ও ওবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন, যার কারণে আপনি নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন না?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : এটিও একটি অবান্তর কথা। আমি জমিয়তের পূর্বেও বেফাক সহসভাপতি ও হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর আমির হিসাবে আছি। যারা বেফাক ও হেফাজতে আমার সাথে কাজ করছেন, তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন আমার বিষয়ে। আমি সকলের সাথে পরামর্শ ব্যতিত কোনো সিদ্ধান্ত কখনোই নেই না। আর সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বাইরে কারো একক পরামর্শও আমি গ্রহণ করি না।
মাহফুজ খন্দকার : এখন জমিয়ত সুরক্ষা কমিটি নামে একটি কমিটি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : কারো যদি জমিয়তের কোনো নিয়ম ভালো না লাগে বা এই ব্যাপারে কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তিনি আমীরে জমিয়তকে জানাতেই পারেন বা দলীয় ফোরামে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু এর জন্য সুরক্ষা কমিটি করতে হবে কেনো? তাছাড়া জমিয়তের গঠনতন্ত্র মতে এ ধরণের কোন কমিটি করার সুযোগ নেই। কেউ এ ধরণের কমিটি করে থাকলে অবশ্যাই এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী অপতৎপরতা বলে গন্য হবে।
মাহফুজ খন্দকার : সুরক্ষা কমিটির অন্যতম দাবী হচ্ছে আপনার পদত্যাগ। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : জমিয়তের অনেক নেতাকর্মী অনেক আগে থেকেই আমাকে জমিয়তের সাংগঠনিক কমিটিতে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমীরে জমিয়তের আদেশ পালনার্থে আমি জমিয়তের সাংগঠনিক কমিটিতে যোগদান করি। এখন আমিরে জমিয়ত যদি আমাকে ইস্তফা দিতে বলেন, আমি সাথে সাথেই হযরতের নির্দেশ মেনে ইস্তফা গ্রহণ করতে রাজী আছি। আমি কখনোই পদ লোভী ও অর্থলোভী নই। আমার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সকলেই এটা জানেন।
মাহফুজ খন্দকার : জমিয়তের নতুন সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অনেকের প্রশ্ন, তারা বহিরাগত। হঠাৎ করে এসে দলের এতোটা সিনিয়র পদ তারা কীভাবে পেতে পারেন?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : প্রথমতঃ জমিয়তের দলীয় ফরম পুরণ করে যেহেতু তাঁরা জমিয়তে যোগদান করছেন, তাই তাঁরা জমিয়তের কর্মী। এখানে বহিরাগত বলাটা কখনোই উচিত হয়নি। দ্বিতীয়তঃ এভাবে ভিন্ন দলের উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তিত্ব জমিয়তে যোগদান করে সিনিয়র পদে আসন গ্রহণ করাটা এই প্রথম নয়; জমিয়তের প্রতিষ্ঠা থেকে এ পর্যন্ত এমন বহু নজির রয়েছে। এখন কে উ এ ধরণের প্রশ্ন তুলে থাকলে সেটা অসৎ উদ্দেশ্য থেকেই বলে থাকবেন। এমন উক্ত দলের মারাত্মক শৃঙ্খলা বিরোধী।
মাহফুজ খন্দকার : রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার বা জনগণের কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন?
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : এক্ষেত্রে আমি বলবো, সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকে মিয়ানমারের পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের দেশে পাঠানোর বিষয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতে হবে। পাশাপাশি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর তাদের মৌলিক অধিকার যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের বিষয়েও আগে থেকে মিয়ানমারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করা। পাশাপাশি মিয়ানমার ইস্যুতে দেশের আভ্যন্তরেও রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আর জনগণের উচিত তাদের সামর্থের সেরাটুকু দিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো। আলহামদুলিল্লাহ জমিয়তের একটি টিম শুরু থেকেই কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে কাজ পরিচালনা করছে।
মাহফুজ খন্দকার : হাযরাত, ইনসাফকে সাক্ষাতকার দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী : আপনাকেও ধন্যবাদ।
সূত্র- ইনসাফ
Powered by Blogger.