Header Ads

রোহিঙ্গা নিপীড়নের কথা শুনলে হৃদয় ফেটে যায়’

সন্ত্রাসী মিয়ানমারের নিপীড়নের মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের আসা রোহিঙ্গাদের সরেজমিনে দেখতে এসে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান। এসময় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বুকে টেনে আবেগাপ্লুত হয়ে অঝোর ধারায় কাঁদেন।
তিনি রোহিঙ্গা বস্তিতে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার কাছে নিজেদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকে তার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে পাশবিক আচরণ করা হচ্ছে তা অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয়। কোনো হৃদয়ের জন্য তাদের অবস্থা নিজ চোখে দেখলে স্থীর থাকা সম্ভব নয়। তাদের সঙ্গে করা নৃশংসতার কথা শুনলে  হৃদয় ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। অথচ এমনটা ঘটছে বিশ্ব-চোখের সামনে। বিশ্ব নেতারা এর দায় এড়াতে পারে না।
পরিদর্শনকালে তিনি সদ্য অনুপ্রবেশ করা কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গা নারীদের কাছ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেন এমিনি এরদোগান। তাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রোহিঙ্গারা। এ সময় রোহিঙ্গাসহ উপস্থিতদের চোখ টলমল করছিল। তখন এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিদর্শন শেষে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে তুরস্ক সরকার। একই সাথে নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বিশ্ববাসীকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া ও তাদের কাছে মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহবান জানান। তিনি বলেন, আমাদের সবারই ছেলে-মেয়ে রয়েছে। রোহিঙ্গা নিষ্পাপ শিশুদেরকে আমরা এভাবে রেখে দিতে পারি না। আমরা এখানে এসেছি বিশ্ববিবেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে। তুরস্কের ফার্স্ট লেডি রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নেও সহায়তা করবেন বলে জানান।
এদিকে কক্সবাজার থেকে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগানের উখিয়া-টেকনাফের যাতায়াত পথে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসন। একইভাবে তার পরিদর্শন এলাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
তুর্কি ফার্স্ট লেডিকে স্বাগত জানিয়ে সড়কগুলোকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত রাখে স্থানীয় প্রশাসন।
বেলা আড়াইটায় তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে কুতুপালং ক্যাম্প ত্যাগ করেন। এ সময় ক্যাম্প এলাকাসহ আশেপাশে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুর জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি।
ক্যাম্পে তিনি ৪০ মিনিট সময় ছিলেন। তার সফর সঙ্গী ছিলেন তার ছেলে বিলাল এরদোগান, পরিবার ও সমাজ বিষয়ক মন্ত্রী ফাতেমা বাতুল সায়ান কায়া, ক্ষমতাশীন এ কে পি পার্টির উপ-প্রধান রওজা কাকজি কান, তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিআইকা) এর প্রধান সরদার তুশাম, দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা (এজিএফ) প্রধান মুহাম্মাদ গুলোলো উগলু, রেড ক্রিসেন্টেরর মহাপরিচালক ইবরাহীম আলতান ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
সূত্র : আল মুজতামা
Powered by Blogger.