Header Ads

নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য তুর্কি রুটি বিক্রেতার মহানুভবতা

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য নিজের দুই দিনের রোজগারের অর্থ দান করেছেন তুরস্কের এক রুটি বিক্রেতা।
৪০ বছর বয়সী এরকান আইহান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাকায়েলি প্রদেশের পথে পথে সিমিট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এটি এক ধরনের গোলাকার রুটি যা তিল বীজ দিয়ে আবৃত থাকে। রাখাইনের সহিংসতায় অন্য সবার মতো তিনিও অত্যন্ত মর্মাহত।আইহান বলেন, ‘আমি ঈদুল আজহার উৎসবে কিছুই খেতে পারিনি। তারা (মায়ানমার কর্তৃপক্ষ) আমাদের ভাই ও বোনদের নির্মমভাবে হত্যা করছে।’
তিনি রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য তার দুই দিনের রোজগার ১৪৭ তুর্কি লিরা (৪৩ ডলার) তুরস্ক ভিত্তিক হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের (আইএইচএইচ) অ্যাকাউন্টে প্রদান করেন।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দুর্দশায় পৃথিবী নীরব থাকায় তাদের সহায়তায় আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে রোহিঙ্গা কেবল আমার সাহায্যে তাদের অসহায় অবস্থার পরিবর্তন হবে না। এজন্য আমি বিশ্বের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি আমাদের ভাই এবং বোনদের রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে।’
আইহান জানান, নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও দেখে তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন নি।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বের সকল মুসলমানদেরকে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রার্থনা করার এবং তাদের সাহায্য করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা তাদের অধিকার বিশেষ করে দেশটির নাগরিকত্ব চেয়ে আসছে।
আর সরকার দীর্ঘদিন সেই দাবিকে উপেক্ষা করে আসছে। শুধু উপেক্ষা নয়, রীতিমত রাষ্ট্রীয় মদদে দমনপীড়ন চালানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর, যার সর্বশেষ নজির গত ২৪ আগস্ট।
মায়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার আগেই রাখাইন অবরুদ্ধ করে রাখে। এরই বদলা নিতে রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে ওইদিন প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রায় ৪০০ জনকে হত্যা করেছে এবং সৈন্যরা ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ পরিচালনা করছে।
Powered by Blogger.