Header Ads

সীমান্তে মিয়ানমারের হাজারো স্থলমাইন, ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সীমান্তে গত তিন দিন ধরে স্থলমাইন বসাচ্ছে মিয়ানমার। দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঠেকাতে এটি করা হচ্ছে বলে ঢাকার দুটি সূত্রের বরাতে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সেই বাংলাদেশি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের এই তৎপরতার প্রতিবাদ জানাবে।
বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সূত্রটি তার নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
অবশ্য খবরের সত্যতাও পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে ৩১ নং পিলারের কাছে রায়বুনিয়া অংশে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা নারীর দুই পা উড়ে যায়।
গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা বিদ্রোহী ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে পালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা যাতে ফের রাখাইনে যেতে না পারে, সেজন্য মিয়ানমার কাঁটাতার ও সীমান্তের পিলারগুলোর মাঝে মাঝে স্থলমাইন বসাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র ও ছবির মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাদেশের নজরে এসেছে। এছাড়া বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনী বিজিবও দেখেছে, সীমান্তের কয়েকটি স্থানে মাটিতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি দল কিছু স্থাপন করছে।
এরপর বাংলাদেশ তার বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, মিয়ানমার এসব স্থানে স্থলমাইন স্থাপন করছে।
বাংলাদেশের সূত্রের কাছে রয়টার্সের প্রশ্ন ছিল স্থলমাইন স্থাপনকারীরা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী কিনা? জবাবে তিনি জানান, ‘এটা নিশ্চিত স্থলমাইন স্থাপন করা দলগুলো রোহিঙ্গা বিদ্রোহী নয়।’
বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান রয়টার্সকে বলেছেন, ‘মঙ্গলবার মিয়ানমার অংশে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং সোমবারও এ রকম দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, সীমান্তে স্থলমাইন বসানো হয়েছে।’
মঙ্গলবার সীমান্ত ক্রস করার সময় একটি রোহিঙ্গা ছেলের পা উড়ে যায়। তাকে বর্তমানে বাংলাদেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অপর আরেকটি ছেলেও আহত হয়েছে। মাইন বিস্ফোরণের ফলে সে আহত হয়েছে বলে ধারণা এই বিজিবি কর্মকর্তার।
উৎসঃ   রয়টার্স
Powered by Blogger.