Header Ads

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরা ঠেকাতে মিয়ানমারের নতুন পরিকল্পনা

সেনাবাহিনীর লাগাতার হামলা-নির্যাতন-ধর্ষণের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানেরা যাতে আর নিজ বাড়িঘরে ফিরতে না পারে, সে জন্য মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে প্রাণঘাতী স্থলমাইন পুঁতে রাখছে। তিন দিন ধরে মিয়ানমার এই স্থলমাইন পোঁতার কাজ করছে। নতুন করে সহিংসতা সৃষ্টির পর মিয়ানমার থেকে গত ১৩ দিনে দেড় লাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
তাদের অনেককেই সীমান্তে বাধা দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এমন হাজার হাজার মানুষ প্রাণভয়ে ফের বাড়িতে ফিরতে না পেরে সীমান্তেই অবস্থান করছে। বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাধা পাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে আর রাখাইনে না ফিরতে পারে, সে জন্যই স্থলমাইন বসানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে গতকাল বাংলাদেশ মিয়ানমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে বাংলাদেশের সূত্র জানিয়েছে, ‘আমাদের সদস্যরা তিন থেকে চারটি গ্রুপকে সীমান্তে কাঁটাতার বরাবর মাটিতে কিছু পুঁততে দেখেছে। পরে আমরা নিজস্ব মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, তারা (মিয়ানমার) সেখানে স্থলমাইন পুঁতছে।’
এ ধরনের কাজ তো ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা’ও করতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে, তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী না’। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, মঙ্গলবারও তিনি মিয়ানমার সীমান্তে দু’টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর আগে সোমবারও এ ধরনের দু’টি বিস্ফোরণ হয়েছে।
মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে একটি শিশুর বাম পা তিগ্রস্ত হওয়ার পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসে। তার সাথে আসা আরেকটি শিশুও সামান্য আঘাত ছিল বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, এগুলো স্থলমাইন বিস্ফোরণ হতে পারে। সোমবারের বিস্ফোরণের ব্যাপারে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে বিজিবি কর্মকর্তা আরো বলেন, সীমান্তে নো ম্যানস ল্যান্ডে চলাচলের কাদাপানির মধ্যে স্থলমাইল পুঁতে রাখা ছিল।
দু’জন রোহিঙ্গা জানান, এই বিস্ফোরণের ঘটনার কাছাকাছি সময়ে তারা সেখানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখেছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানিয়েছেন, সীমান্তে মাইন পেতে রাখার এবং এসব মাইনে বাংলাদেশে পলায়নরত রোহিঙ্গাদের হতাহত হওয়ার কিছু কিছু খবর তারাও পাচ্ছেন।
মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব
এ দিকে রয়টার্স জানায়, রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর চলমান কঠোর অভিযানের জেরে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের নিন্দা ও অভিযান বন্ধের আহ্বান জানাতে মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফাহ আমান বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় মিয়ানমার সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে কোনো পদপেই নেয়নি যে, এর ফলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের অগ্রগতি দেখা যাবে। এসব রোহিঙ্গার বেশির ভাগই বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইনে বাস করেন।
এক বিবৃতিতে আনিফাহ আমান বলেন, ‘রাখাইনের এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া বিশ্বাস করে যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংসতা ও বৈষম্যের বিষয়টি উচ্চতর আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরা উচিত।’
রোহিঙ্গাদের অধিকারের ব্যাপারে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়া বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
নয়াদিগন্ত
Powered by Blogger.