Header Ads

জমিয়তের মূল উদ্দেশ্য কী?

জমিয়তের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে হলে আমাদের একটু পিছনে যেতে হবে। তুমি হয়তো জানো জমিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯১৯ সালে। এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য জানার আগে কিছু জিনিস উল্লেখ করতে হবে।
এক
ইসলাম একটি সার্বজনীন ধর্ম। মানবজীবনের সকল সমস্যার সমাধান ইসলামে আছে। অন্যান্য সকল ধর্মের মতো ইসলাম নিছক একটি ধর্ম নয়, ইসলাম একটা সফল রাষ্ট্র ব্যবস্থার নামও। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সা. মদীনায় একটি রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা ফরয। ইসলামী আইন না থাকলে কুরআনের অনেক আয়াত অনর্থক হয়ে যায়। ইসলামী আইন না থাকলে দ্বীনের অন্য কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেয়া যায় না। ১২০০ খৃষ্টাব্দ থেকে নিয়ে ভারতে ব্রিটিশের আগমন পর্যন্ত এদেশে ইসলামী শাসন ছিলো। কিন্তু ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশরা এদেশের ক্ষমতা দখল করে নিলে এদেশে ইসলামী শাসন ভেঙ্গে পড়ে। যারফলে ইসলামী তাহযিব, সংস্কৃতি, ইসলামী শিক্ষা, ইসলাম প্রচার -সবকিছুই থমকে দাঁড়ায়। ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশ তাড়িয়ে এখানে পুণরায় ইসলামী শাসন কায়েম এবং ইসলাম বিরোধী আইন প্রতিহত করার লক্ষ্যে ১৯১৯ সালে সমগ্র ভারতবর্ষের উলামায়ে কেরাম জমিয়ত গঠন করেন। জমিয়ত বিগত ৯৬ বছর ধরে ভারত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে এই মহান লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে জমিয়তের মূল লক্ষ্য।
দুই
বৃটিশরা আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেলেও এদেশে তাদের আদর্শের বীজ বুনে গেছে সফলভাবে। বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বৃটিশের রেখে যাওয়া আইন অনুসারে চলে। এটা মানুষের বানানো আইন। পক্ষান্তরে জমিয়ত যে শাসনব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করে -এটা আল্লাহর বানানো আইন। মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। কোন আইন মানুষের জন্য ভালো হবে -এটা মানুষের চে' মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ ভাল জানেন। ছাত্রলীগ -ছাত্রদলরা মানুষের বানানো আইনের জন্য আন্দোলন করে, আর ছাত্র জমিয়ত আল্লাহর দেয়া আইনের জন্য আন্দোলন করে। এখন তুমিই বলো মানুষের বানানো আইনের জন্য তুমি আন্দোলন করবে? নাকি আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়বে। দুনিয়ার ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করবে? নাকি আখেরাতের অফুরন্ত সওয়াবের জন্য রাজনীতি করবে? এখানে বলা যায়, জমিয়তের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর জমীনে আল্লাহর আইন কায়েমের মাধ্যমে দুনিয়ায় শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেয়া এবং আখিরাতে এর বদলা অর্জন করা। অন্যদল করে তুমি কিন্তু আখেরাতে কিছু আশা করতে পারো না।
তিন
শিক্ষার্থীরা কলেজ ভার্সিটিতে ভর্তি হয় একটি সুন্দর জীবন তৈরি করতে। এখানে যদি সে নিরাপদ না হয়, তাহলে তার ভবিষতও হবে অনিরাপদ। প্রচলিত ছাত্ররাজনীতি ছাত্রসমাজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নি। উল্টো ছাত্রদের নিরাপত্তা তারা কেড়ে নিয়েছে। ছাত্রদের হাত থেকে খাতা-কলম তারা কেড়ে নিয়ে দা আর চাপাতি তুলে দিয়েছে। যে ছাত্রটি জাতির সম্পদ হওয়ার কথা ছিলো সে হচ্ছে জাতির বোঝা। ছাত্র জমিয়ত এ পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়। ক্যাম্পাসে শান্তির বানী প্রচার করতে চায়। সকলের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। অস্ত্র ফেলে দিয়ে ছাত্রদের হাতে খাতা-কলম ধরিয়ে দিতে চায়। এটাই হচ্ছে ছাত্র জমিয়তের লক্ষ্য। এই মহান লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে তোমার মতো তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। প্রথমে তোমার পাশে হয়তো কাউকে পাবে না। নিজেকে একা মনে হবে। কিন্তু ধৈর্য্য এবং দৃঢ়তার সাথে যদি তোমার আদর্শ সবার সামনে তুলে ধরতে পারো, তুমি সফল হবেই। তোমার নাম সোনার হরফে লেখা হবে। আখিরাতেও এর জাযা পাবে। তাই আসো আমরা সবাই মিলে ছাত্র জমিয়তের এই মহান লক্ষ্য বাস্তবায়ন করি। আল্লাহ আমাদের তাউফিক দিন।
হাফিজ মাওলানা ফরহাদ আহমাদ, সহসভাপতি সিলেট জেলা ছাত্র জমিয়ত 
Powered by Blogger.