Header Ads

আমাদের আশ্রয় দেবে কে?

রোহিঙ্গাদের স্রোতের সঙ্গে ১০৫ বছর বয়সী রোহিঙ্গা এক নারীও বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধরা পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইনের তাদের বাড়ি-ঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করায় একটু শান্তি ও ভবিষ্যতের আশায় বাংলাদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন হাজারো রোহিঙ্গা।
হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম; যাদের ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু- দারিদ্র্যপীড়িত রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে আশ্রয় নিচ্ছেন।২২ বছর বয়সী তরুণী তাহেরা বেগম। বাংলাদেশে আসার পথে একটি জঙ্গলে তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে তাহেরা বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল এটি।’
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে শুরু হওয়া মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হাতে গণহত্যার বিবরণ দেন তিনি। বলেন, অসুস্থ, আহত এবং বয়স্করা তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর কাছে প্রতিকূল অভ্যর্থনা পেয়েছে।
সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় নিজের সন্তানের সামনে একদল মানুষের হাতের মারপিটের শিকার হয়েছেন হালিমা। সে ঘটনা স্মরণ করে হালিমা বেগম বলেন, ‘আমাদের কে নেবে?’
জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারে কয়েক শতাব্দি ধরে বসবাস করে আসছেন। বৌদ্ধ সংখাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে দশকের পর দশক ধরে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন তারা।
১৯৮০ সালে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করে। জাতিসংঘ বলছে, ধর্ষণ, নির্যাতন, গণধর্ষণ সহ্য করেছেন রাখাইনের এই সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা।
রাখাইনে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে মনে করে মিয়ানমার। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় ১২ পুলিশ নিহত হয়। এরপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযানে এখন পর্যন্ত এক হাজার রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা পালিয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর একই ধরনের অভিযানের পর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা। এছাড়া দুই দেশের শূন্য রেখায় এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা আটকা আছেন। অনেকেই আশ্রয় শিবিরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
রাখাইনের সহিংসতা ও রোহিঙ্গা নিপীড়নের জেরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়ে প্রথমবারের মতো এই ইস্যুতে ৬ সেপ্টেম্বর কথা বলেন সু চি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখ খুলেই মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এই নেত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের স্বার্থে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে উত্তেজনা উসকে দেয়া হচ্ছে।’
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে ৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে দুই লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশের ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের প্রয়োজন।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস বলেছেন, ‘বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৬০ হাজার নতুন আশ্রয় কেন্দ্র, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য সেবাও প্রয়োজন। ধর্ষণের শিকার নারী ও তরুণীদের জন্য বিশেষজ্ঞ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
সূত্র : আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি।
উৎসঃ   jagonews24
Powered by Blogger.