Header Ads

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণের নামে শাহিনুর পাশার রোড মার্চ প্রতারণা !

গতকাল মানবতার চাঁদর গায়ে নিয়ে শতাব্দীর সেরা বেঈমানী দেখলো বিশ্ববাসী, বরাবরের মত গতকালও হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’র ব্যানারে সিলেট-টেকনাফ রোডমার্চের নামে আত্মসিত হল ৯৫ লাখ টাকা!!!
সিলেটের মাটি ও মানুষের কথিত প্রাণের স্পন্দন ! সাবেক সাংসদ এড. মাও. শাহিনুর পাশা চৌ. Shahinoor Pasha Chowdhury ! উনি প্রায়ই একটি কথা বলতে শুনা যায়- 'আমার এ পর্যন্ত আসতে জীবনে অনেক কিছু খোয়াতে হয়েছে' পৈত্রিক সম্পত্বি হতে শুরু করে নিজের ব্যাক্তিত্ব, অস্তিত্ব, শ্রম, অর্থ, আরাম-আয়েশ সবই খরছ করে, আমার এখনের এই অবস্থান ! একারণেই হয়ত বিগত কয়েক বছর হতে সময়ে সুযোগে উনাকে অর্থ আত্মসাত এবং ব্যাক্তি প্রতিষ্টার প্রতি প্রায়ই উদগ্রিব দেখা যায়! ২০১১ সালের ঐতিহাসিক টিপাইমূখি লংমার্চে, মরহুম খান সাহেবের সরলতাকে পুঁজি করে এবং আল্লামা জিয়া উদ্দিন সাহেবের উদারতাকে কাজে লাগিয়েন সদস্য সচিব হয়ে যান ! যার সুবাদে লাখ লাখ টাকার গাফলা করতে বিলকুল ভুলেন নি ! প্রমান- সেই লংমার্চের বাজেট এক দেড় কোটি টাকা করা হলেও, কত টাকা আয় আর কত টাকা ব্যায় হয়েছে তার হিসাব কিন্তু উনি আজও দিতে পারেন নি ! খান সাহেব সহ ততকালিনের মুরব্বিয়ানে কেরাম হিসাব চাইলে আয় ব্যায়ের হিসাবের কাগজপত্র হেরে গেছে বলে দায় সারা জবাব দিয়ে পার পেয়ে যান !
হেফাজত ইসু নিয়ে ব্যাক্তি প্রতিষ্টার মানষে ২০১৩ সালে সিলেট মহানগরের সভাপতির পদ নিয়ে স্বীয় উসতায, সিলেটের শীর্ষস্থানীয় হাতেগুনা কয়েক আলেমদের একজন, হাজার হাজার উলামায়ে কেরামের মধ্যমনি, আযাদ দ্বীনি এদারার মহাসচিব আল্লামা বরকতপুরী হুজুরের সাথে এদারা অফিসে হাতাহাতির ঘটনা ঘটাতে উনার মানষিকতায় সামান্যতমও লজ্জাবোধ লাগে নি ! প্রমাণ- শত শত প্রত্যক্ষ্যদর্শী + বরকতপুরি হুজুর আজও জীবিত, চাইলে যে কেউই উনাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন !
উনি তার দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব হওয়া সত্যেও দলের সিলেট মহানগর শাখায় নিজের শক্ত অস্তিত্ব (সভাপতির পদ) লাভের হীন মানষিকতায় বিগত দুই বছর হতে নেতাকর্মিদের মাঝে অভ্যন্তরিন বিরোধ জিইয়ে রেখে আসেন ! প্রমান- নিজ মাদ্রাসার ছাত্র-উস্তাদ দিয়ে বার বার কেন্দ্রভ্রষ্টদের সহযোগিতা করা এবং কেন্দ্র কতৃক দুষি লোক (মালেক চৌ.) কে প্রকাশ্যে আস্কারা দেয়া!
গেল বছর দলের লন্ডন বার্মিংহাম শাখার পক্ষ হতে দলীয় কর্মী শহিদ আবু সুফিয়ানের পরিবারকে অনুদানের প্রায় এক লাখ সত্তর হাজার টাকাতে চেক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আত্মসাতের অপচেস্টা করেন ! সাথে সাথে আবু সুফিয়ানের ছোট ভাইকে কিছু দিন পর পর গিয়ে আদরের বাহানায় শহরে নিয়ে এসে চুপে চুপে বিভিন্ন সমাজ দরদির সামনে পেশ করে হাজার হাজার টাকার ইনকাম করেন ! প্রমাণ- চেক হস্তান্তরের পর অসহায় পরিবার তা নিয়ে ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট একাউন্ট কোন টাকা নাই বলে ম্যানাজারের পরিস্কার বক্তব্য ! অতপর তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততায় দেড় মাস পর টাকা উদ্ধার, আবু সুফিয়ানের ছোট ভাইকে তিন, পাঁচ, সপ্তাহ দিন সাথে রেখে ৩,৫,১০ হাজার টাকা হাতে গুজিয়ে পুনরায় বাড়িতে রেখে আসা ! শিশুর কাছ থেকে কথাবার্তার ছলে বিষয়টি শহিদের মা বুঝতে পেরে পরবর্তীতে ছেলেকে উনার সাথে দিতে পরিস্কার অসম্মতি প্রকাশ করেন ! চাইলে কেউ যাঁচাই করতে পারেন !
ঐ গেল বছরই দলের বিভিন্ন প্রবাসী শাখা হতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যার্থে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা গিলে খাবার অপচেষ্টা করেন- প্রমাণ- উনার নিকট টাকা জমা হওয়ার পর চার মাস অতিবাহিত হলেও টাকাগুলা নিয়ে চট্ট্রগ্রাম না গেলে দাতাদের অনেকে ফোনে উনাকে চাপ দেয়, তাতেও কাজ না হলে অধম আমি সুসাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌছে দেন !
এদিকে গতকালের রোডমার্চের মাধ্যমে ঘটিয়ে ছাড়েন স্মরণকালের সর্ববৃহত এবং সেরা গাফলা ৯৫ লাখ টাকার ! এর জন্য উনি অবশ্য পূর্ব থেকেই অতি সচেতনতার সাথে রোডম্যপ করে আসছিলেন ! কোন রকমের দলীয় পরামর্শ ছাড়া, নিজ অঞ্চলের সকল সচেতন ও সুপরিচিত মুরব্বি উলামায়ে কেরামগনকে ডিংগিয়ে আকস্মিক ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করেন হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’র ব্যানারে সিলেট-টেকনাফ রোডমার্চ । ব্যাপক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে চালান প্রচারণা । সাথে সাথে কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে দেশ বিদেশ হতে জুরালো ভাবে অনুদান সংগ্রহ করেন। নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে যার পরিমান কোটির চেয়েও বেশি ! এই টাকাগুলা জায়েজ করতে অভিনব কূট কৌশল গ্রহণ করে যেরকম ধূর্ততার আশ্রয় নেন তার কাছে চাপা পড়েছে মানবিকতা। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রচিত করলেন এক অধর্মের ঘৃন্য উপাখ্যান। রোডমার্চের আগের দিন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পাশা সাহেব দাবী করলেনন, প্রশাসন অনুমোদন দিয়েছে রোডমার্চের। দুই শতাধিক গাড়ি থাকবে বহরে। খরচ হবে কোটি টাকার ওপরে।
কিন্তু দেখা গেল নির্ধারিত স্থান থেকে মাত্র ৬৮টি গাড়ি নিয়ে শুরু হয় রোডমার্চ । কয়েক কিলোমিটারের মাথায় রশিদপুর যাওয়ার আগেই রোডমার্চ থামিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, রোডমার্চের কোন প্রশাসনিক অনুমোদন নেয়া হয়নি। ত্রান বিতরণের জন্য নেয়া হয়েছে অনুমোদন। এত গাড়ি, এত মানুষ; কিন্তু ত্রান কই? খোঁজা শুরু হলো। ৬৮টি গাড়ির মধ্যে ৬৭ টিতেই শুধু মানুষ, একটি গাড়ির পেছন দিকে পাওয়া গেলো অল্প কিছু ত্রানের প্যাকেট। পুলিশ সেই গাড়িটি ছেড়ে দেয়। বাকি সবাইকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।
সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের মূখপাত্র জেদান আল মূসা জানিয়েছেন, ত্রান বিতরণের কথা বলেই পুলিশের কাছ থেকে অনুমোদন চাওয়া হয়েছিলো। মানবিক কারণে সে অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু গাড়ি বহরে ত্রাণ ছিলো গৌণ। সঙ্গত কারণেই তা আটকে দেয়া হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রোডমার্চের অনুমোদন না পেয়েও অনুমোদন পাওয়ার দাবী কেন করেছিলেন উনি? সেখানেও লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর প্রতারণার কৌশল। অনুমোদন না পাওয়ার খবর চাউর হলে সংগৃহিত বিশাল অংকের অনুদানের টাকা ফেরত চাইতে পারেন দাতারা।তাই যেভাবেই হোক একটি রোডমার্চের শোডাউন না করলে যে নয়। আর তা করতে পারলেই কোটি টাকা জায়েজ। দুই’শ গাড়ির জন্য কোটি টাকার বাজেট হয়েছিলো। তাহলে গাড়ি ৬৮টি কেন? আর বহরে যোগ দেয়া গাড়িগুলোর মান দেখে যে কেউ বুঝতে পারবেন এ ধরনের লক্কর-ঝক্কর গাড়ি নিয়ে সিলেট-টেকনাফ দুই হাজার কিলোমিটারের (যাওয়া-আসা) সফর সম্ভব নয়। এর মানে উদ্যোক্তারা নিজেরাই জানতেন, রোডমার্চ সফল হবে না। আটকে দেয়া হবে, যেহেতু অনুমোদন নাই। কিন্ত এতদিনে সংগৃহিত টাকা হজম করতে হবে যে। তাই কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে কিছু গাড়ি নিয়ে রোডমার্চ শুরুর একটি মহড়া করা তাদের জন্য অনিবার্য ছিলো।হয়েছেও তাই।
আরো মজার তথ্য হলো, রোডমার্চের জন্য যেসব গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছিলো সেগুলোকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য রিজার্ভ করা হয়নি। কয়েক ঘন্টার জন্য তাদের রিজার্ভ করা হয়েছিলো। রিজার্ভকৃত গাড়ির একাধিক ড্রাইবার সহ উদ্যোক্তা সংগঠনের এক কর্মকর্তাই জানিয়েছেন এ তথ্য। তারা জানান, প্রতিটি গাড়ি ৩৫০০ টাকা করে ভাড়া করা হয়।
এখন হিসেব করুনতো.. এই ৬৮টি গাড়ির ভাড়া কত হতে পারে? দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা। প্রচার-প্রচারণাসহ সব মিলিয়ে ধরুন আরো দুই লাখ টাকা খরচ। অর্থাৎ পাঁচ লাখের মধ্যেই মামলা খতম। এক কোটি থেকে পাঁচ লাখ বাদ দিলে কত বাকি থাকে? ৯৫ লাখ টাকা।
মাশাআল্লাহ ! এমন ইস্যূ যদি বছরে দুয়েকবার আসে, তাহলে আগামি নির্বাচনের খরচ যোগাড় হয়ে যাবে অনায়াসেই।
মানবতার চাঁদর গায়ে নিয়ে শতাব্দীর সেরা বেঈমানী দেখলো আজ বিশ্ববাসি, তবে মজলুমের টাকা হজম করার মতো কোনো পেট এই দুনিয়ায় পয়দা হয়নি। কাজেই এর রেশ শুধু ব্যক্তি নয় যারা এর সাথে জড়িত তাদের আর একে লুকিয়ে রাখার জন্য যারা সুবিধাপ্রাপ্ত সবার নিজের ও পরিবারের গলা দিয়ে উগলে বেরুবে। সাধরন মানুষের বিশ্বাস নিয়ে যারা প্রতারনা করতে পারে তারা অন্তত মানবিক হতে পারেনা। এরকম মানবিক, স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও যারা নিজ স্বার্থ হাসিলের ধান্ধায় মগ্ন নিঃসন্দেহে এরা মানুষ হতে পারেনা !
সূত্র- সিলেট টু ডে ২৪.কম
Powered by Blogger.