Header Ads

রোহিঙ্গা গণহত্যা, সারা মুসলিম দুনিয়ার নেতাদের ফোন এরদোগানের

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়্যিপ এরদোগান। বিশ্ব মুসলিম দেশগুলোকে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য বিশ্বের অনেক মুসলিম নেতাকে ফোন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার তিনি কমপক্ষে আটটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এ নিয়ে ফোনে কথা বলেন। এ সময়ে তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ সহ সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সাউদ, কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমেদ আল সাবাহ ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভকে ফোন করেন। এ ছাড়া তিনি ফোন করেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, মৌরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহামেদ আউলড আবদেল আজিজ ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে।
তিনি কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্যও ফোনে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সূত্র বলেছেন, মিয়ানমারে মানবিক সঙ্কট সমাধানে এরদোগান ফোনে এসব নেতার প্রতি আহ্বান জানান মিয়ানমারের ওপর চাপ তীব্র করতে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও তুরস্কের অনলাইন ডেইলি আল সাবাহ। পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানাতে এরদোগান এই ফোনকল করেন। তিনি বলেন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, লিবিয়া ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা চলছে তাতে এই পবিত্র ঈদের দিনের আনন্দের ওপর কালো ছায়া ফেলেছে। ইসলামিক দুনিয়াকে গভীরভাবে বেদনাহত করেছে।
গত আট দিনের সহিংসতায় রাখাইনে সরকারি হিসাবে নূন্যতম ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে এটাই রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা। ইস্তাম্বুলে শুক্রবার তিনি নিজের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে মিলিত হন। এ সময় তিনি বলেন, সেখানে (মিয়ানমারে) গণহত্যা চলছে। তারা (বিশ্ববাসী) এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। যারা গণতন্ত্রের লেবাস পরে এই গণহত্যা চালাচ্ছে, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে যেসব মানুষ, তারাও এই গণহত্যায় দায়ী। সেনাবাহিনী বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ‘কট্টর সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে।
এরদোগান বলেছেন, মিয়ানমারে যা ঘটছে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া তুরস্কের নৈতিক দায়িত্ব। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এরদোগান বলেন, আগামী ১২ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা যখন সমবেত হবেন তখন রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরে আলোচনা করা হবে। গত ২৫ শে আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার শুরু। এদিনই পুলিশ বা নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থি রোহিঙ্গাদের হামলার জবাবে সেনাবাহিনী তীব্র আক্রমণ শুরু করে। এ ফল হিসেবে শরণার্থীর ঢল নামতে থাকে বাংলাদেশের দিকে, যদিও বাংলাদেশ তার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বেসামরিক রোহিঙ্গাদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।
মর্টার ও মেশিন গান ব্যবহার করে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। মিয়ানমারে বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যকার এই সহিংসতায় এই অঞ্চলে হিম অনুভূতি বিরাজ করছে। জাতিসংঘ রাখাইনে গণধর্ষণ, গণহত্যা হচ্ছে বলে প্রামাণ্য তথ্য পেয়েছে। তারা বলেছে, নবজাতক, কিশোর বয়সীদের নির্দয়ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। নৃশংসভাবে প্রহার করা হচ্ছে। গুম করে দেয়া হচ্ছে।
Powered by Blogger.