Header Ads

আমরা রোহিঙ্গা আমাদের আনন্দ করতে নেই !

সবাই যখন ঈদের নামাজ আর কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত তখন সীমান্তের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে চলছে কান্নার রোল। স্বজনহারা নারী-পুরুষ বিলাপ করছে। কারো স্বামী, কারো মা-বাবা কারো বোন বা সন্তান মারা গেছে মিয়ানমারের রাখাইনের সহিংসতায়। গতবছরও তারা একসঙ্গে ঈদ করেছে নামাজ পড়েছে মসজিদে। গরু কোরবানি দিয়েছে একসঙ্গে। কিন্তু নির্মম সহিংসতা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে রোহিঙ্গাদের জীবন থেকে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম তুমব্রু আশারতলি চাকঢালা সীমান্তের জিরো লাইনে এখনো বাস করছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। রোদ-বৃষ্টিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।বিজিবির বাধা অতিক্রম করে যারা এখনো অনুপ্রবেশ করতে পারেনি তারা জিরো লাইনে পাহাড় টিলাতে ঝুঁপড়ি ঘর তৈরি করে বাস করছেন। অনেকে পাহাড়ের ছন, বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী ঘরও তৈরি করেছে। কিন্তু মনেতো শান্তি নেই। স্বজনদের হারিয়ে নিঃস্ব তারা। ঈদের আনন্দ নেই তাদের মাঝে।
তুমব্রুর কোনা পাড়ার কাছে জিরো লাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গা হামিদুল্লাহ বলেন, ঈদের নামাজও পড়তে পারিনি আমরা। কেউ কেউ চুরি করে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে তুমব্রুর মসজিদে নামাজ আদায় করেছে। কিন্তু বেশির ভাগই বৃষ্টির মধ্যে কষ্টে রয়েছে।’
হাবিবুল্লাহ আহম্মেদ জানান, কোরবানি দেওয়া দূরের কথা একবেলা খাবারই জোটে না।
দীন মুহাম্মদ জানান, শরনার্থী শিবির ও স্থানীয়রা কিছু মাংস দিয়েছে। তাতেই খুশি। আল্লাহ চাইলে আগামী বছর কোরবানি করা হবে।
রোহিঙ্গা নারী তসলিমা বলেন, গত বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করেছি আর আজ আমার কেউ নেই। কল্পনাও করিনি আমার জীবনটা এমন হবে। মগ(রাখাইন) আর্মিরা আমার স্বামী, বাবা ও ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে। তাদের কোনো খোঁজ এখনো পাইনি। শুনেছি তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রাণ ভয়ে এদেশে পালিয়ে এসেছি।
‘আমার জীবনে আর ঈদ আসবে না’ এই কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তসলিমা।
ওপারের ফকিরা বাজার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা হামিদুল্লাহ বলেন, অনেক কষ্ট করে এপাড়ে এসে ঈদের নামাজ পড়েছি। স্থানীয়রা সাহায্য-সহযোগিতা করছে। বাচ্চারা বার বার জিজ্ঞাসা করছে আমরা কোরবানি দিব না বাবা। কিন্তু অবুঝ বাচ্চাকে কি করে বোঝায় আমরা তো রোহিঙ্গা আমাদের আনন্দ করতে নেই।’
ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কিছু মাংস শিবিরগুলোতে পৌঁছে দিতে। এছাড়া স্থানীয়রা নানাভাবে সহায়তা করছে মানবেতর জীবনযাপনকারী রোহিঙ্গাদের।
উৎসঃ   পরিবর্তন
Powered by Blogger.