Header Ads

রাখাইনে আরও সেনা পাঠাবে মিয়ানমার, জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে না

রাখাইন রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি ও রোহিঙ্গাপ্রধান এলাকাগুলোতে মার্শাল ল' বলবৎ করতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি দেশটির সরকার।
বরং বেসামরিক সরকারের পরিস্থিতি মোকাবেলার সামর্থ্য রয়েছে দাবি করে রাখাইনে সেনা ও পুলিশ পাঠানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থাং তুন এ কথা জানান। খবর দি ইরাবতী।
এর আগে রাজধানী নেইপিদোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট তিন চ্যাওয়ের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ বৈঠকে রাখাইন রাজ্য এবং মিয়ানমারে আইনের শাসনসংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বৈঠকে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচি, দুইজন ভাইস প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, সেনাপ্রধান, উপসেনাপ্রধান; স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনডিএসসি) সদস্যরা উপিস্থত ছিলেন।
গত বছর সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম ১১ সদস্যের এনডিএসসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থাং তুন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সুচির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন তুন। এনএলডি সরকার পরিস্থিতির ওপর চোখ রাখছে বলে জানান তিনি।
রাখাইনে সামরিক শাসন জারি করা হবে কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইরাবতীকে তুন বলেন, রাখাইন পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। পরিস্থিতি সামলানোর মতো যথেষ্ট সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।
গত ২৯ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী রাখাইনের বুতিডং. মংডু ও রাতিডং টাউনশিপে সামরিক শাসন জারির অনুরোধ জানালেও তাতে সরকার সাড়া দেয়নি।
বুধবার তুন বলেন, সরকার সঙ্ঘাতপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সেনা পাঠাবে।
বৈঠকে মার্শাল ল' জারির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্বাস্তু হয়ে পড়া মানুষকে পুনর্বাসনের বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ভোররাত থেকে রাখাইনে সীমান্তরক্ষী পুলিশের সঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যদের সংঘাত শুরু হয়। এতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন। এর মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বাকিরা আনসার সদস্য ছিল।
এ ঘটনার পর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী বিতাড়ন অভিযান শুরু করে। তারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে হানা দিয়ে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করছে এবং ২৬শ বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে।
অভিযানকালে অন্তত ৪০০ রোহিঙ্গা নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা। এদিকে অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
তবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র উ জাও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৩৭১ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে এবং ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উৎসঃ   যুগান্তর
Powered by Blogger.