Header Ads

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, শাহীনূর পাশার জবাব

সফল রোড মার্চ দেখে যারা আমার ইজ্জতহানীর চেষ্টা করছেন, আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার পোস্ট। কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় ক্ষমা প্রার্থী।
বার্মার মুসলমানদের এই দুঃসময়ে কোন রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তি যখন শক্ত কোন কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারেনি, তখন ঈমানের তাকীদে এই দুঃসাহসিক রোড মার্চ কর্মসূচী হাতে নেয়ায় এক শ্রেণীর মানুষের চক্ষুশূল হলাম আমি। আমার চরিত্র নিয়ে নানা অপবাদে জর্জরিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে কোটি টাকার প্রতারণা।
কেউবা বলছেন আগামীতে মন্ত্রী হওয়ার জন্য আমার এই ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেন্জিং প্রোগ্রাম।
একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এই মাসের ৬ তারিখ সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকে আজ ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিন সময় হাতে পাই।
"হিউম্যানিটি ফর রুহিংগা বাংলাদেশ" নামে আমরা এক ঝাক কাফেলা দিবা রাত্রি রাজধানী ঢাকা ২ বার সহ ১০ টি জেলা সফর করি। আমার মুরব্বী হিসেবে ঐতিহ্যবাহী রেংগা মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান সাহেবকে প্রধান সমন্বয়কারী ও মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল আতাউর রহমান পীর স্যারকে সংগঠনের চীপ এডভাইজার ও রোড মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সিলেট সিটির কনভেনার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাই।
যেহেতু ইস্যুটি মানবিক। আমাদের গণ সংযোগ টিম এই ১৫ দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা সমিতি, মত বিনিময়, একান্ত বৈঠক সহ সহস্রাধিক মানুষের সাথে পরামর্শে মিলিত হই।
বিশাল এই কাজে সময়ের স্বল্পতাহেতু সকলের কাছে যেতে পারিনি, পরামর্শ নিতে পারিনি। তাই বাহক হিসেবে সিলেটে ২ টি সাংবাদিক সম্মেলন, ২ টি মত বিনিময় ও রাজধানীতে ১ টি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সকলের কাছে মেসেজটুকু পৌঁছানোর চেষ্টা করি।
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছিলাম ২ শতাধিক অথবা তার চেয়েও বেশী গাড়ী বহর আমাদের রোড মার্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত ২ টি লংমার্চ ও রোড মার্চে প্রত্যেকেই নিজ এলাকা থেকে গাড়ী ব্যবস্তা করে আসেন। এবারও সবার কাছে একই মেসেজ দেয়া আছে। আমরা গাড়ী ভাড়া করবো, এরকম কথা কোথাও বা সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়নি। তাহলে ২ শত গাড়ীর ভাড়া হিসেব করে এরকম কোটি টাকার স্বপ্ন জাতিকে যে গিলাবার ব্যর্থ চেষ্টা করলেন। আপনার হিন মানসিকতায় আফসোস ছাড়া কঠিন ভাষা ব্যবহার আমার পরিবার শেখায়নি।
আমাদের এই কর্মসূচীর সফলতা দেখে কতিপয় হিংসুটে প্রকৃতির মানুষ বিষোদগার করতে গিয়ে বলেছেন-- ২ শতাধিক গাড়ীর কথা বলে আমরা ফান্ডিং করেছি অথবা ত্রাণের কথা বলে মোটা অংকের চাঁদা সংগ্রহ করেছি। আরে ভাই, আমরা প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য যে দরখাস্ত করেছি তাতে রোড মার্চের কথাই বলা হয়েছে, ত্রাণ সম্পর্কিত একটি শব্দও লিখা হয়নি। চ্যালেন্জ দিলাম, সাংবাদিক হিসেবে আপনি প্রমাণ করুন। ত্রাণের অযৌক্তিক কথা ম্যানশন করে বলেছেন-- কোটি টাকা মানুষে দিয়েছে, আর এগুলোকে হজম করার জন্যই রোড মার্চের নাম নিয়ে টাকা আত্মসাত। আপনার বক্তব্য যে নির্জলা মিথ্যাচার, মিডিয়া লাইনের সবাই এ দু' সপ্তাহ থেকে দেখছেন। কারণ রোড মার্চের বিরুদ্ধে যারা নিজস্ব মতামত দিয়েছেন, তারা বলেছিলেন-- রোড মার্চে যে খরচ হবে, এই টাকাটা ত্রাণে দিলে উপকার হতো। আমরা যদি ত্রাণ দিতে হতো, তাহলেনা চাঁদার বিষয়টি আসতো। আসলেকি আমার উদারতায় চামচিকাও গাঢ়ে উঠতে চায়।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো-- অযৌক্তিক পাগলের প্রলাপ শুনিয়ে ইজ্জতহানী করতে পারবেন না-- যদি আল্লাহর নুসরত থাকে।
১৫ দিনে ১০ টি জেলা সফর করতে গিয়ে যেখানে ঘুমোবার ফুরসতই পেলামনা। সেখানে চাঁদা করার সময়টুকু কোথায়। ফেইসবুকে অথবা মিডিয়ায় দেখে দেশ ও প্রবাসের যেসব সুধী, বন্ধু বান্ধব ও দলীয় নেতাকর্মীরা যে সহযোগিতা করেছেন, এটাই আমাদের কালেকশন।
আমরা ত্রাণের জন্য পারমিশন চাইবো কেন? এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্ব- উদ্দোগে যাচ্ছে, সরকারও কোন বাধার সৃষ্টি করছেনা। আমরা ত্রাণ দিলেনা কালেকশনের প্রশ্ন। আমরা রোড মার্চের পারমিশন চেয়েছি। আমরা জেলায় জেলায় সফর করে মানুষকে রোড মার্চ কাফেলায় স্ব- উদ্দোগে গাড়ী নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছি। আমরা নিজে গাড়ী ভাড়া করে মানুষকে নিয়ে যাবার সেই অঢেল সম্পদ হিউম্যানিটি ফর রুহিংগা অথবা আমাদের নেই।
যেকারণে স্বেচ্ছায় যারা সাহায্য করেছেন, তাদেরকে মোবারকবাদ।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য হিউম্যানিটি ফর রুহিংগার রোড মার্চ ঘোষণার পর থেকে ১৫ দিনে অর্থাত আজকের রোড মার্চ পর্যন্ত মোট হিসেবটি ওদের দাত ভাংগা জবাব দিতে চ্যালেন্জ হিসেবে উপস্থাপন করলাম।
আমাদের পোস্টার, লিফলেট, বেনার, সাংবাদিক সম্মেলন ৩ টি, গণ সংযোগ এবং আজকের খরচ সহ মোট টাকা ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ২৫৩
মোট আয় ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭ টাকা।
ঘাটতি ৩৮ হাজার ২৪৬ টাকা।।
আয়ের খাত এবং ব্যক্তি ও সংস্থার নাম ও পরিমাণ উল্লেখ করলাম----
১. হাজী তখলিছ মিয়া, ডারবী Uk 20,000 টাকা।
২. ডাক্তার সৈয়দ খুররম-- রাগীব রাবেয়া হাসপাতাল 4000 টাকা
৩. কাইয়ূম কামালী ও হাফিজ সৈয়দ জুনায়েদ আহমদ Oldham Uk 10000 টাকা
৪. হিফজুল করীম মাশুক Uk 5000 টাকা
৫. মাওলানা মিলাদ, দারুল কুরআন মাদরাসা 5000 টাকা
৬. মাওলানা ছাদিকুর রহমান Oldham Uk 10000 টাকা
৭. বাদাঘাট শিবের বাজার সংস্থা কাপড় সহ কেশ 23400 টাকা
৮. হাজী মোহাম্মদ আলী, কাতার 25000 টাকা
৯. হাফিজ মাওলানা লোকমান খান 5000 টাকা।
১০. একজন পথিক গাড়ীতে 100 ( একশত টাকা) টাকা।
আমার নাম ও পীর আতাউর রহমান স্যার এবং ভাইস চেয়ারম্যান তৈয়্যবুর রহমান চৌধুরীর নামে রোড মার্চের যৌথ একাউন্টে এ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন
১১. আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, উমান 25000 টাকা
১২. উমান জমিয়ত থেকে আব্দুল হালীম সাতবাকী সাহেবের মাধ্যমে 36507 টাকা।
১৩. জনৈক ব্যক্তি 15000 টাকা
( সিরিয়াল ১১ থেকে ১৩ জমা হয়েছে ব্যাংকে 76507 টাকা)
১৪. মাওলানা জহিরুদ্দীন দরবস্তী দুবাই, বিকাশে 20 000 টাকা
১৫. আমাদের মাদরাসার ফুজালা ও বর্তমান ছাত্রদের গাড়ী ভাড়া করার জন্য এবং খুসরা ব্যক্তি গাড়ীর সিট বুকিং সহ তাদের কাছ থেকে সংগ্রহকৃত মোট টাকা 60 000 টাকা
১৬. মাওলানা কবির আহমদ খান
50 000 টাকা।
এই ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭ টাকার উপরে কোন ব্যক্তি যদি বলেন, এক টাকাও চাঁদা দিয়েছেন, অথবা প্রমাণ করতে পারেন, তাদের প্রতি ওপেন চ্যালেন্জ ছুড়তে বাধ্য হলাম।
ঘাটতি ৩৮ হাজার ২৪৬ আমার পকেট থেকে খরচ করেছি।
ব্যয়ের খাত:
#সিলেটে গোল্ডেন সিটি ইন্টারন্যাশনালে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ-- ২৭৮৯৯
#সকল শ্রেণীপেশার নাগরিকদের সাথে মত বিনিময়-- ৪৪৫০
# সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে মত বিনিময়ে আপ্যায়ন-- ৩৪০০
# ১০ টি জেলা সফর শেষে আপডেট জানাতে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ-- ১৫০০০
#পোস্টার,লিফলেট ই.৩৫২৩০
# পোস্টার লাগানো-- ২৬০০
# মিডিয়া সেল-- ৯৯০০
# প্রচার মিছিল-- ১২১০০
# সংগীত শিল্পীকে হাদিয়া-১৫০০
# শায়েস্তাগন্জে পথসভা- ৩০০০
# কক্সবাজারে ত্রাণ- ৭০০০
# ১০ দিন সফরে খাবার- ৯৪৩৫
# রোড মার্চের স্টেইজ- ৮০০০
# ১৬ দিন গাড়ী ভাড়া -৭২২৭৬
# রোড মার্চে গাড়ী - ৯৯০০০
# সাংবাদিক বাবত মিডিয়া সেল
২১৫০০
# গাড়ীর পেট্রল --৬৫০
# বিবিধ-- ২৬১৩
----------------------------------
৩৫২২৫৩
আশা করি ভদ্র লোকের জবাব পেয়েছেন। আশ্চর্য হলাম সদ্য হজ্ব ফেরত সাংবাদিক বন্ধুটি কি করে একজন মানুষের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার করতে পারেন।
আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য হেদায়াতের ফয়সালা করুন।

Powered by Blogger.