Header Ads

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাথে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠিত, ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ


মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয়, সর্বপ্রথম আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে মতামত জ্ঞাপন করতে আমাদেরকে আহবান করেছেন।এবং আপনার মাধ্যমে আমরা পুরো নির্বাচন কমিশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নি¤েœাক্ত মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরছি।
১. তত্ত্ববধায়ক সরকার
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, পেশীশক্তির ব্যবহার ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। অথচ তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এবং স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ আদালত কমপক্ষে আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। তাই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ তত্ত্বধায়ক ব্যবস্থা পুর্নবহালের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছে।
২. নারী সদস্য
রাজনৈতিক দল সমূহের সর্বস্তরে নারী সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, আমরা মনে করি এটা তাদের অনধিকার র্চচা। তথাকথিত অনেক প্রগতিশীল দেশেও এ ধরনের আইন নেই। দলগুলো নিজেদের স্বার্থেই শ্রেণী, পেশা ও জেন্ডার র্নিবিশেষে সর্বস্তরের জনতার আস্থা অর্জনে যা যা করণীয়, তা করবে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী । তারাও ভোটার, তাই দলগুলো নিজেদের প্রয়োজনেই নারী সদস্য করা এবং তাদেরকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ও পদায়ন করার কাজ করবে। অন্যথায় তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এ ব্যপারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অতি উৎসাহ প্রদর্শন বা অহেতুক বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রয়োজন নেই।
৩. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড
নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অত্যান্ত জরুরী। তাই নির্বাচনের এক বছর পূর্ব থেকেই রাজনৈতিক দলসমুহের জন্য অবাধ সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পরিবেশ তৈরীতে নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৪. অবৈধ ভোটার
বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক নন এমন লোকেরা যাতে ভোটার হতে না পারে , এবং ইতিপূর্বে হয়ে থাকলে যাচাই- বাছাই করে ভোটার তালিকাকে হাল নাগাদ করে অবৈধ ভোটার মুক্ত করতে হবে।
৫. কালো টাকা
জাতীয় নির্বাচনে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে অবৈধ ও কালো টাকার মালিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পথ রোধ করতে হবে। কালো টাকার ছড়াছড়ি নির্বাচনের স্বাভাবিকতা রোধ করে। তাই এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এবং নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৬. পর্যবেক্ষক নিয়োগ
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন চলাকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তীকালে এদের ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার জন্য জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে এক বছর পূর্বেই এ সকল সংস্থা ও কর্র্মীদের নাম পরিচয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
৭. সেনাবাহিনী নিয়োগ
দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসী বাহিনী থেকে নির্বাচনকে মুক্ত রাখতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনী নিয়োগ প্রয়োজন। নির্বাচনী তফসীল ঘোষনার দিন থেকে নির্বাচন পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নিয়োগের জন্য আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি। এবং নির্বাচনের পূর্ববর্তী দিন থেকে নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহণ, ভোট কেন্দ্রে অবস্থান, ভোটগণনা ও ভোটের ফলাফল পরিবহনে সেনাবাহিনী ও পর্যবেক্ষণ সংস্থাসমূহের উপস্থিতি প্রয়োজন বলে মনে করি।
৮. নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা
নির্বাচন কমিশনারবৃন্দসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশের নাগরীক হিসেবে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বিশেষ কোন দলের প্রতি সমর্থন থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু দায়িত্ব পালনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর প্রতিফলন ঘটানো সংবিধান, হলফ ও চাকুরীবিধির লঙ্গন। তাই তাদেরকে সম্পূর্ণ নিরেপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
৯. স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণে উৎসাহিত করা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর নমিনেশন পেপারের সাথে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার যে আইনটি এখনও বহাল আছে, আমরা এই ধারাটি বিলুপ্তির প্রস্তাব করছি।এটি নির্বাচনের পূর্বে আরেকটি নির্বাচন। দলীয় রাজনীতির বাহিরে সচ্চরিত্রের প্রার্থীদেরকে নির্বাচনে আসতে এই আইনের ফলে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে আমরা মনে করি।
১০. মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া ও নির্বাচনের তারিখের মধ্যে সময়সীমা বৃদ্ধি করা।
মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া ও নির্বাচনের তারিখের মধ্যে অন্তত ৪০ দিন সময় থাকা প্রয়োজন। এবং কারো প্রার্থীতা বাতিল ঘোষিত হলে যাতে আপিলের জন্য কিছু বেশী সময় পায়, তার সুযোগ রাখা উচিত।
১১. প্রবাসীদের ভোটারাধিকার নিশ্চিত করা।
লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী নাগরিক প্রবাসে অবস্থান করে দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখে আসছে। এ সকল প্রবাসীদের ভোটার করে তাদের ভোট প্রদানের সুব্যবস্থা করার জন্য আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি।া
দলের মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমীর নেতৃত্বে সংলাপ প্রতিনিধি দলে ছিলেনঃ
সাবেক মন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস
মাওলানা জহিরুল হক ভুইঁয়া
মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী
মাওলানা জোনায়েদ আল হাবীব
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া
মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী
মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।
মুফতি মুনির হোছাইন কাসেমী
মাওলানা জয়নুল আবেদীন


Powered by Blogger.