Header Ads

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে মায়ানমার অভিমুখে রোডমার্চ ২১ সেপ্টেম্বর।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে মায়ানমার অভিমুখে রোডমার্চ ২১ সেপ্টেম্বর।
হিউমিনিটি ফর রোহিঙ্গা’র চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী এডভোকেট এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বার্মায় গণহত্যা বন্ধের দাবীতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মায়ানমার অভিমুখে রোডমার্চ ঘোষণা করেছেন। আজ সিলেট নগরীর হোটেল গোল্ডেন সিটি’র হল রুমে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি দীর্ঘদিন যাবত বার্মায় রোহিঙ্গাসহ ভিন্নধর্মী লোকদের উপর নির্যাতন, নিপিড়ন চলছে। রোহিঙ্গাদের উপর ইতিহাসের জঘন্য বর্বরতা ও গণহত্যা চলছে। নারী শিশুদের ধর্ষণ করে টুকরোটুকরো করে কেটে ফেলা হচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে কোন বিবেকবান মানুষ নিশ্চুপ থাকতে পারেনা। বার্মায় বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের গণহত্যা বন্ধে সবাইকে সোচ্চার হয়ে কার্যকরী প্রতিবাদ গড়ে তুলা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকে পূণ্যভূমি সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের সহায়তায় হিউমিনিটি ফর রোহিঙ্গা’র উদ্যোগে বার্মা অভিমুখে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রোডমার্চের ঘোষণা করছি।
তিনি আরোও বলেন- দীর্ঘ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি অঞ্চল মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এক সময় রোহিঙ্গা’রা শাসন করলেও আজ তারা ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের জন্য দৌড়াচ্ছে। বিগত ২০০ বছরের ইতিহাসে বারবার রোহিঙ্গাদের উপর হামলা, নির্যাতন ও নিপিড়নের ষ্টীম রোলার চালানো হচ্ছে। তাদেরকে ভিনদেশী হিসেবে আক্রমন করে বাড়ীঘর, ব্যাবসা-বাণিজ্য জ্বালিয়ে ছাড়খাড় করে দেওয়া হচ্ছে। নিম্নে তাদের একটি পরিসংখ্যান তুলে হলো- ১ম বারঃ ১৭৮৪ সালে রাজা বোদাওপায়া আরাকান দখল করে তাঁর রাজধানী গঠন করলে রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমন শুরু হয়। ২য় বারঃ জাপান বার্মা (মিয়ানমার) দখল করে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করলে প্রাণ বাঁচাতে ২২,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ প্রবেশ করে।
৩য় বারঃ জেনারেল নে উইন ১৯৭৮ সালে অপারেশন ড্রাগন কিং-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব নথিবদ্ধ করার মাধ্যমে আদম শুমারি করার প্রাক্ষালে বিদেশিদের বাছাই করার নামে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে। এই সময় প্রায় ২,০০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করে পরে এড়ই ও টঘ-এর চাপে ফেরত নিতে বাধ্য হয়। সেবারও অনুপ্রবেশকারীরা তাদের হত্যা ধর্ষণের অভিযোগ আনেন।
৪র্থ বারঃ (সবচেয়ে বেশী) ১৯৯১-৯২ সালে ঞযব ঝঃধঃব খধি ধহফ ঙৎফবৎ জবংঃড়ৎধঃরড়হ ঈড়ঁহপরষ (ঝখঙজঈ) উত্তর রাখাইন রাজ্যে মুসলিম দমনের জন্য সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়। এই সময় তারা বাংলাদেশ বর্ডারঅব্দি নানা সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করে। এই সময় রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ্য, জমি দখল, স্থানান্তর, শারীরিক নির্যাতন, হত্যা ধর্ষণ করে তাদেরকে নিজেদের ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। মসজিদ ভেঙ্গে দেওয়া হয়, ধর্মিয় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়, মুসলিম নেতাদের লাঞ্ছিত করা হয়। এ ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ অগাস্ট ২০১৭ ইং থেকে পুণরায় মিয়ানমারের বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের উপর হামলা শুরু করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সীমান্তে এসে প্রবেশের চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) হিসাবে গত ১২ দিনে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাই অবিলম্ভে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত খুলে দেওয়া হোক। এবং আন্তর্জাতিকভাবে বার্মার গণহত্যা বন্ধে চাপ সৃষ্টির জন্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা পালন করার উদাত্ত্ব আহ্বান জানাচ্ছি।
বার্মা গণহত্যা বন্ধে দলমত নির্বিশেষে সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে তিনি একটি কর্মসূচী ঘোষণা করতে যাচ্ছি। অবিলম্ভে মায়ানমারে গণহত্যা বন্ধের দাবিতে আগামি ২১ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে বার্মা অভিমুখী রোডমার্চ ঘোষণা করছি। ঈমানী দায়িত্ব পালনে হিউমিনিটি ফর রোহিঙ্গা’র ব্যানারে আহুত রোডমার্চে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি। সকাল ১০ ঘটিকায় সিলেটের হুমায়ূন রশীদ চত্তর থেকে রোডমার্চ কাফেলা রওয়ানা হয়ে পতিমধ্যে হবিগঞ্জ, বি-বাড়ীয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের একাধিক ¯পটে পথসভা করে টেকনাফে গিয়ে মহাসমাবেশে মিলিত হবে। রোডমার্চ সফলে সিলেট ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটিসহ জাতীয় কমিটির মাধ্যমে ৩ সপ্তাহের ব্যাপক কর্মসূচী পালন করা হবে। মজলুম বার্মার রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতে আমরা সিলেটসহ গোটাদেশবাসীর সমর্থন, সহযোগিতা ও রোডমার্চে অংশীদার হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
কর্মসূচী:
২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা সিলেটের হুমায়ূন রশীদ চত্তর থেকে রোডমার্চের উদ্বোধনী যাত্রা।
২২ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় টেকনাফে রোডমার্চ পরবর্তী মহাসমাবেশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রোডমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার মুহতামিম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান, সমন্বয়কারী মদন মোহন কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল লেঃ পীর আতাউর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়েখ আব্দুল বছির, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা আলীনূর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী, ইউরোপ জমিয়ত নেতা মাওলানা হাফিজ লোকমান আহমদ, প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাদানী কাফেলা বাংলাদেশ-এর সভাপতি মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মনজুর আহমদ, যুবনেতা মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আবু বকর সরকার, মাওলানা কবির আহমদ, মুফতী মুতিউর রহমান, মাওলানা সালেহ আহমদ শাহবাগী, শেখ আলবাব হুসাইন, ছাত্রনেতা এম. বেলাল আহমদ, মাওলানা নাজিমুদ্দিন প্রমুখ।
Powered by Blogger.