Header Ads

যুগসচেতনতা ও আলেম সমাজ:মাওলানা সাজিদুর রহমান সাজিদ

বৌদ্ধরা এতো খারাপ। এতো কূপমণ্ডুক ও উগ্র সাম্প্রদায়িক। রাখাইনে প্রায় সব মসজিদ মাদ্রাসা ও খানকা জ্বালিয়ে দিয়েছে। যে কয়েকটা মসজিদ এদের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেয়েছে, তাতেও আযান ও নামায বন্ধ। আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখকে বেছে বেছে নির্মম পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেছে। অশিতিপর বৃদ্ধ আলেম মাওলানা হুসাইন আহমদকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যুবক ও তরুণ আলেমরা পালাতে সক্ষম হয়েছেন। তারা বেঁচে গেছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বয়স্ক আলেম প্রায় সবাই বৌদ্ধরা কর্তৃক গণহত্যার শিকার হয়েছেন। এটা তারা করেছে মুসলমানদের নেতৃত্বশূন্য করার জন্যে। কোনো জাতিকে জাতিগতভাবে নির্মূল করতে জালেমরা এমনটি করে। উগ্র বৌদ্ধরাও করেছে।
-
মায়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের 'জাতিগত নির্মূল' এর গণহত্যার তাণ্ডবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যে ঢল নামে- যে মানবিক বিপর্যয়ের ঘণ্টাধ্বনি বাজে, তাতে বিশ্ববিবেক মর্মাহত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিশ্ববিবেক জেগে ওঠেছে। মায়ানমারকে নৃশংসতা বন্ধ করতে বলছে। নিন্দা করছে। চাপ দিচ্ছে। অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের চিন্তা করছে। মালদ্বীপ তো ইতিমধ্যে মায়ানমারের সাথে সব বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। ব্যতিক্রম রাশিয়া চীন ও ভারত। এরা এখনো মায়ানমারের সাথে আছে। রক্তপিপাসু সুচি যেভাবে রাখাইনে কিচ্ছু ঘটেনি ভাব তার ভাষণে প্রকাশ করেছে, তেমনি ওরাও একই ভাব ধরেছে। আর ইসরাইল বার্মাকে অস্ত্রসহায়তা দিচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের কত বড় সঙ্কট। ভারত আমাদের বন্ধু। সরকার গলা ফাটিয়ে বলে। কিন্তু দুর্দিনে ভারত আমাদের সঙ্গে নেই। আছে জালেমদের সঙ্গে। বন্ধুত্বের প্রকারগুলোর মধ্যে ভারত আমাদের কত নম্বর প্রকারের বন্ধু- এটা রীতিমত গবেষণার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মানবতা বিপন্ন লাঞ্ছিত বিপর্যস্ত, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ধেয়ে আসছে। কিন্তু এরা মানবতার সঙ্গে নেই। আছে নরপশু জালদেমদের পক্ষে। হায়! মানুষের সুরতে কত অমানুষের বাস জগতে! বড় বিচিত্র প্রাণীর আকর-ভূমি এ ধরিত্রি!!!
-
সুখের বিষয়, বাংলাদেশের আলেম সমাজ অনেক সচেতন। তারা রোহিঙ্গাসঙ্কটের শুরু থেকেই যখন অন্যরা গুরুত্ব দেয়নি তখন থেকেই তারা এটাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নির্যাতিতদের প্রতি দরদ ও সহানুভূতি প্রকাশ করে আসছেন। মিটিং মিছিল করছেন। প্রতিবাদ করছেন। নিন্দা জানাচ্ছেন। বার্মা দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি দিচ্ছেন। আরো অনেক কর্মসূচি পালন করছেন। বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করতে হাঁকডাক ও চিৎকার করছেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বমিডিয়া প্রত্যক্ষ করেছে, বড় মাপের বিশাল প্রতিবাদ, নিন্দা ও দাবিসংবলিত আয়োজন আলেম সমাজই করেছেন। অন্যরাও করেছেন, তবে তাদের মতো এতো বিশাল নয়। এখন তো সবাই জেগেছে। ইমরান এইচ সরকারের শাহবাগিরাও জেগেছে। মাশাআল্লাহ আলেম সমাজ আগের তুলনায় এখন অনেক সচেতন, সমাজসেবী ও সমাজহিতৈষী। তাদের সমাজবান্ধব ভূমিকা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে।
-
আলেম সমাজ ত্রাণ নিয়ে যে যেভাবে পারছেন রোহিঙ্গাশিবিরে ছুটে যাচ্ছেন। ক্ষুদ্র মাঝারি ও বিশাল আয়োজনে এ কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করছেন। কিছু বৃহৎ রাজনৈতিক দলও ত্রাণ দিয়েছে বা দিতে চেয়েছে। বিএনপি ২২ ট্রাক ত্রাণসামগ্রি নিয়ে গিয়েছিল; কিন্তু তাদের ত্রাণ দিতে দেয়া হয়নি। দুয়েক ট্রাক নিজেরা দিয়ে ফটোশেসন করে বাকি মাল প্রশাসনের ত্রাণগুদামে দিয়ে দিতে নাকি প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু এতে বিএনপি আশ্বস্ত হয়নি; তাই দেয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ২২ ট্রাকের বিশাল ত্রাণবহরের কথা শোনা গেলো। কিন্তু আশ্চর্য হবেন, আলেমরা একসঙ্গে ৩০ ট্রাকের বিশাল ত্রাণবহর নিয়ে রোহিঙ্গাশরণার্থী-শিবিরের পথ ধরেছেন। তাছাড়া বিচ্ছিন্ন ও ক্ষুদ্র আকারে যা দিচ্ছেন, সব একত্রিত করলে বাদ বাকি সবার প্রদত্ত ত্রাণ থেকে অনেক বেশি প্রমাণিত হবে। আলেম সমাজ যে জাতির খাদেম, সমাজসেবক- জাতি বুঝতে সক্ষম হচ্ছে। তারা এটাও বুঝতে পারছে, আলেম সমাজ সব ব্যাপারেই সচেতন। যেমন দ্বীনী ব্যাপারে, তেমনি দুনিয়াবি ব্যাপারে। যেমন শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারে, তেমনি রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারে। আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করি, তিনি আলেমদের যুগসচেতনতা দান করেছেন। 
মজলুম রোহিঙ্গাদের স্বার্থে যারা যেভাবে যতটুকু কাজ করেছেন ও করছেন- তারা যেন দুনিয়া-আখেরাতে এর উত্তম প্রতিদান লাভ করে প্রতিপালকের মহান দরবারে এ দোয়া রইলো।
Powered by Blogger.