Header Ads

বৌদ্ধ জঙ্গিদের হাত থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের ৪১২ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সীমান্ত পাড়ি

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতায় এবার সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-শিশু-পুরুষরাও। নির্বিচার হামলা, জ্বালাও-পোড়াও থেকে বাঁচতে কুতুপালং ক্যাম্পের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন ৪১২ রাখাইন হিন্দু। জিরো পয়েন্টে অপেক্ষমাণ আছেন আরও দুশতাধিক। তারা বলছেন, অন্তত ৮৬ জন হিন্দু রাখাইন প্রাণ হারিয়েছেন সহিংসতায়। 
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) উখিয়ার কুতুপালংয়ের পশ্চিম হিন্দু পাড়ায় ৪১২ জনকে একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে মানবেতর দিনযাপন করতে দেখা যায়। ৩ নম্বর হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মেম্বার স্বপন শর্মা রনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ১৬ জন হিন্দু মিয়ানমার থেকে এ গ্রামে আশ্রয় নেন। এরপর ৪১২ জনকে পরিত্যক্ত মুরগির খামারে আশ্রয় দেওয়া হয়।
তারা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রাখাইনের মংডুর চিকনছড়ি, ফকিরাবাজারসহ কয়েকটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে কিছু সশস্ত্র লোক তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের পুরো পাড়া ঘিরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে অনেককে গুলি করে হত্যা করছে। শিশু ও নারীদেরও নির্যাতন করা হচ্ছে। অনেকে পরিবার আতঙ্কে পাহাড়, ধানখেত ও বনজঙ্গলে লুকিয়ে আছে। কিছু হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাধা ও ভয়ের কারণে ঢুকতে পারছে না।
একই এলাকার বিজয় রাম পাল জানান, তিনি মংডুর চিকনছড়ি গ্রামে হালচাষ করতেন। কিন্তু সহিংসতা শুরুর পর থেকে তাদের গ্রামেও মুখোশধারীরা নিরীহ হিন্দুদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। প্রাণভয়ে তিনি কয়েকদিন পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন।
মংডু এলাকার কোয়াছং হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা দিজেন্দ্র জানান, তার অনেক আত্মীয়স্বজন থাকতেন ফকিরাবাজারে। সেখানকার ৮৬ জনকেই হত্যা করেছে কিছু সশস্ত্র বাহিনী।
ফকিরা বাজার থেকে পালিয়ে আসা মিলন মল্লিক বলেন, কিছু সশস্ত্র লোক তাদের গ্রাম ঘিরে ফেলে।এরপর ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অনেককে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। আমার পরিবারের অনেকের কোনো খবর পাচ্ছি না।
উখিয়ার কুতুপালংয়ের পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের হিন্দু পরিবারগুলোকে দেখতে যান জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, সহ সম্পাদক চঞ্চল দাশগুপ্ত ও অর্থ সম্পাদক স্বপন গুহ। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়ে তাদের আহারের ব্যবস্থা করেন।
অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন মিয়ানমারের সহিংসতায় হিন্দুরাও নিহত হওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাখাইনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর হস্তক্ষেপ করতে হবে। আর রাখাইনে নিরীহ হিন্দুদের ওপর হত্যা-নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, কুতুপালংয়ের পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের হিন্দু পরিবারগুলোকে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের মানবিক সহযোগিতা করা হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, মিয়ানমারে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে এবার বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে ছুটে আসছে হিন্দুরা। যারা এসেছে তাদের নিরাপত্তাসহ যাবতীয় মানবিক সহযোগিতা করা হবে।
উৎসঃ   banglanews24
Powered by Blogger.