Header Ads

রোহিঙ্গাদের অজানা ইতিহাস, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া

অফুরন্ত প্রাচুর্যে ভরপুর হাজার বছরেরও বেশী সময় ধরে স্বাধীন ছিল যে জাতি দুর্ভাগ্যের বিষয় আজ তারা রাষ্ট্রহীন নাগরিক। পৃথিবীতে সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর নাম 'রোহিঙ্গা'। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। কারা সমৃদ্ধ এই রোহিঙ্গা জাতিকে রাষ্ট্রহীন আর সবচেয়ে হতভাগা জাতিতে পরিণত করল? এক কথায় এর উত্তর ১৯৬২ সাল থেকে চলমান মিয়ানমারের সামরিক সরকার।
বর্তমান মিয়ানমারে যে লিখিত ইতিহাস রক্ষিত রয়েছে, তাতেই দেখা যায় আরাকানে কমপক্ষে ১২শ বছর আগে মুসলমানদের রাষ্ট্রশক্তির গোড়াপত্তন হয়। তা ছাড়া মিয়ানমারের সংবিধানে বুনিয়াদি জাতির যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তাতেও রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের একটি বুনিয়াদি জাতি। সে মোতাবেক কোনোভাবেই বলা যায় না যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। কিন্তু সব ঐতিহাসিক তথ্য- প্রমাণ চাপা দিয়ে আর বাস্তবতা উপেক্ষা করে দীর্ঘ দিন ধরে বলা হচ্ছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, তারা বহিরাগত, বাংলাদেশের নাগরিক।
মিয়ানমার সরকার রাষ্ট্রীয় আইন করে কেডে নিয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার।
অথচ রোহিঙ্গা একটি ভাষাভিত্তিক জাতির নাম। রোহিঙ্গা একটি ভাষার নাম।
১৯৬০সালে রেঙ্গুন রেডিওতে রোহিঙ্গা ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে তখন রোহিঙ্গাদের বুনিয়াদি জাতি হিসেবে অভিহিত করা হয়। রাখাইন রাজ্য সম্পর্কে উইকিপিডিয়াতে যে বিবরণ রয়েছে, তাতেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারেরে একটি বুনিয়াদি (ইন্ডিজেনাস) জাতি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপর দিকে ১৯৪৭, ১৯৪৮, ১৯৫১, ১৯৫৬ এমনকি ১৯৯০সালে সামরিক সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচনেও রোহিঙ্গাদের থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অনেকে। রোহিঙ্গা নেতারা বার্মার মন্ত্রিসভাসহ উঁচুপদও অলঙ্কৃত করেছেন মিয়ানমারের স্বাধীনতা লাভের পরেও।
মিয়ানমারের স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৪৭ সালে আরাকান থেকে এমএ গাফ্ফার ও সুলতান আহমদ তৎকালীন বার্মার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫১লালে পাঁচজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বার্মায়। তাদের মধ্যে জোহরা বেগমসহ আরো একজন নারী এমপির নাম জানা যায়। ১৯৫৬সালে ছয় রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সুলতান মাহমুদ তখন বার্মার স্বস্থ্যমন্ত্রী হন। ১৯৯০সালে রোহিঙ্গাদের ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ফর হিউম্যান রাইটসের অধীনে চারজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারা হলেন, সামছুল আনোয়ারুল হক, চিদ লেউইন এব্রাহাম, ফজল আহমদ ও নূর আহমদ। কিন্তু সামরিক সরকার তখন রোহিঙ্গাদের এ দল নিষিদ্ধ করে এবং প্রায় সব নেতাকে জেলে নিয়ে তাদের উপর নির্যাতন চালায়। ২০০৫ সালে শামছুল আনোয়ারুল হককে ৪৭ বছরের জেল দেয় সামরিক সরকার।
সৌজন্য দৈনিক নয়া দিগন্ত।
Powered by Blogger.