Header Ads

রোহিঙ্গা গণহত্যা, বিতাড়নের আসল নীলনক্সা ফাঁস

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের গণহারে হত্যা ও দেশান্তরি হতে বাধ্য করার নেপথ্যে যে নীলনক্সা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে তৈরি করেছে তা বর্তমান আউং সান সুচি সরকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ষড়যন্ত্রের এ নীলনক্সা উদ্ঘাটন ফাঁস হয়েছে। একে একে উন্মোচিত হচ্ছে এর স্বরূপ। মোদ্দা কথায় ফাঁস হচ্ছে সকল ষড়যন্ত্র। সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য মিলেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়ায়ও এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমও ওপারের সূত্রসমূহের তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমারে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগ শুরু হওয়ার পর শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সে দেশের সরকার রাখাইন রাজ্যকে বেছে নিয়েছে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো সুফল আসবে বলে সামরিক জান্তার মদদপুষ্ট কথিত গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি-নির্ধারক মহলের ধারণা।
কারণ হিসেবে আরও বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথা হয়ে আছে। বহুজাতিক কোম্পানিসহ বিদেশীদের মোটা অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ যাতে হাতছাড়া না হয় সে লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা ও বিতাড়িত করে রাখাইন রাজ্যকে বিনিয়োগবান্ধব করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েই তারা রোহিঙ্গাদের ওপর মরণ কামড় দিয়েছে। এবারের সেনা অভিযান রাখাইনকে রোহিঙ্গামুক্তকরণ অভিযান। অপরদিকে, রাখাইন রাজ্যে সে দেশের নাগরিক তথা বৌদ্ধ ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছে তাদেরও সরিয়ে নেয়ার তৎপরতা শুরু হয়ে তা অব্যাহত রয়েছে।
মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এতই বেশি যে, তা বুধবার পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখে পৌঁছেছে। সীমান্তে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়িয়ে তা কক্সবাজার শহরাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃতি লাভ করছে। ষাটের দশক থেকে মূলত রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন ও গণহারে নির্যাতন শুরু হয়। এ বর্বরতা কখনও দীর্ঘস্থায়ী আবার কখনও সাময়িক হয়েছে।
’৮২ সালে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়। এখন শুরু হয়েছে সমূলে নিধন ও বিতাড়ন প্রক্রিয়া। যার কারণে প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের শঙ্কা হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে ইতোমধ্যে সরকারী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতা বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরদিকে, এনএলডি নেত্রী আউং সান সুচি সর্বশেষ আবারও বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের সরকারী তৎপরতা জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, দশকের পর দশক সামরিক শাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ দেশটির ওপর বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের অবরোধ আরোপিত ছিল। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হওয়ার পর গত বছর আউং সান সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সরকার গঠন করেছে। আর অবরোধ প্রত্যাহার হওয়ায় বিশ্বের বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর এখন মিয়ানমারের প্রতি। ইতোমধ্যে সেখানে বহুজাতিক বহু কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। পাইপ লাইনে আছে আরও অনেকে। বর্তমান সিটওয়ে সমুদ্র বন্দরসহ (সাবেক আকিয়াব) রাখাইন রাজ্যটি বিভিন্ন সম্পদে ভরপুর। সমুদ্রে রয়েছে তেল ও গ্যাস সম্পদ। আর সমতলে রয়েছে বনজ, মৎস্যসহ আরও নানাবিধ সম্পদারাজি।
এ অবস্থায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পুরো রাখাইন (সাবেক আরাকান) রাজ্যকে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সরকার। সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথ পুঁজি বিনিয়োগে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী বিদেশী বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ অধ্যুষিত এই রাখাইন রাজ্য। রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিকত্ব ও সকল অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানাভাবে সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। যার কারণে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে।
এ অবস্থায় বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা অবারিত করতে রাখাইন রাজ্যকে রোহিঙ্গাসহ সে দেশের নাগরিকদের সরানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গারা তা মানতে নারাজ। উল্টো রাখাইন রাজ্য নিয়ে তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে ইতোপূর্বেকার সামরিক জান্তা বারে বারে হামলে পড়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারও একই পথ অনুসরণ করছে। যা ইতোপূর্বেকার বর্বরতার সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
জনকণ্ঠ
Powered by Blogger.