Header Ads

ভয়বহ মানবিক বিপর্যয়: বিশ্বসমাজ নির্বিকার -সাজিদুর রহমান সাজিদ

বার্মায় চলছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। লোমহর্ষক আপরাধ চলছে মানবতার বিরুদ্ধে। সম্ভবত চলছে শতাব্দীর নিকৃষ্টতম গণহত্যা। মগের মুল্লুক বার্মার বর্গি সন্ত্রাসি যুবকরা অংসান সুচি সরকারের সেনা-সহায়তায় চালাচ্ছে বর্বরতম নিপীড়ন। রোহিঙ্গা নাগরিকদের কচুকাটা করা হচ্ছে। আগুনে পোড়ানো হচ্ছে। ধরে ধরে জবাই করা হচ্ছে। গুলি করা হচ্ছে। কেটে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে। নাফ নদীর বুকে ভেসে যাচ্ছে অগণিত আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার লাশ। ঘর-বাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তের বাংলাদেশিরা স্বচক্ষে সে আগুনের লেলিহান শিখা দেখছে। এমনকি যারা ভয়ে পলায়ণরত- তারাও বাঁচতে পারছে না। তাদেরও গুলি ছোঁড়া হচ্ছে। পথে পথে লাশ পড়ছে। নো মেনস ল্যান্ডে লাশ পড়ছে। পারাপারোদ্যত রোহিঙ্গাদের লাশ নৌকায় পড়ছে, পানিতে ভাসছে।
রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা সবচে' বেশি নির্যাতনের শিকার। নারীদের গণধর্ষণ করা হচ্ছে। ধর্ষণ করতে করতে মেরে ফেলা হচ্ছে। পৌঢ়া যুবতী কিশোরি- এমন কোনো রোহিঙ্গা ভাগ্যবান নারী নেই, যে ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। মায়ের বুক থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে আছড়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। শিশুর গলা কাটা হচ্ছে। জীবন্ত শিশুকে ডোবায় ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কেটে কুচিকুচি করা হচ্ছে। এমনকি দুগ্ধ পানরত শিশুকে মায়ের বুক থেকে কেড়ে নিয়ে মায়ের সামনে ছুরিকাঘাতে নির্মম হত্যা করে মৃত শিশুর কাছে সেই মাকে বর্গি বর্বর সেনানীরা গণধর্ষণ করেছে। এ দৃশ্য কি সহ্য করা যায়? 
শুধু কি তাই? রোহিঙ্গা বলতে যে কোনো ধর্মাবলম্বিই হোক- তাকে মারা হচ্ছে। চলমান গণহত্যায় এ পর্যন্ত ৬২ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। ৪১২ জন হিন্দু প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। 
বর্বর মধ্যযুগীয় নিপীড়ক ও নরপিশাচ হন্তারক হিসেবে আইএসকে দুষা হয়। বিশ্ববাসী দেখছে বর্গি বার্মিজরা সেই আইএস থেকে কোনো অংশেই কম না। এরা আইএস থেকে বোধ হয় আরো বেশি জঘন্য, আরো বেশি বন্য, আরো বেশি বর্বর, আরো বেশি অমানুষ। 
আগে পত্রপত্রিকায় পড়তাম, অংসান সুচি নাকি গণতন্ত্রিপন্থী। শান্তিপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। কিন্ত হাল যামানায় আমরা কী দেখছি? তার দল ক্ষমতায় আসার পর রাখাইন রাজ্যে আরো বেশি অশান্তির দাবানল জ্বলে ওঠেছে। তার সেনাবাহিনী স্থানীয় গুণ্ডা ও বৌদ্ধভিক্ষুদের নিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর এমন জঘন্যভাবে হামলে পড়ছে, যেমন জঙ্গলের হিংস্র পশুরাও পড়ে না। সেই সুচি আবার সেনাবাহিনীকে সাবাস দিচ্ছেন। বাহবা দিচ্ছেন। তাদের হিংস্রতাকে অকুণ্ঠ সমর্থন করছেন। কে বলেছে ওই সুচি গণতন্ত্রিপন্থী? এবার তার মুখোস উন্মোচিত হয়েছে। ওই সুচি হিটলার। হিটলার থেকেও জঘন্য। হিটলার থেকেও আরো বেশি খারাপ। হিটলারের হাতে যতো রক্ত- সুচির হাতে তারচে' কম না। বিশ্বসমাজের কাছে আব্দার জানাই- এ কলঙ্কিণী সুচির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়া হোক। সে এর যোগ্য নয়। ওকে নোবেল দিয়ে অজান্তে নোবেল পুরস্কারটিকেই কলঙ্কিত করা হয়েছে। দেশি পরদেশি পরের কথা। কোনো মানুষ, সে যদি মানুষ হয়- এভাবে ঠাণ্ডামাথায় গণহত্যা চালাতে পারে না।
আমরা চরম বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- বিশ্বসমাজ এ গণহত্যার বিরুদ্ধ জোরালা প্রতিবাদমুখর নয়। তারা ফলপ্রসূ ও কার্যকর কোনো ভূমিকা নিয়েও এগিয়ে আসছে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তাপরিষদে আলোচনা হচ্ছে। নিন্দা করা হচ্ছে। কিন্তু বিবৃতি প্রকাশ করা যাচ্ছে না। গণচীন নাকি সে বিবৃতিকে আটকে দিচ্ছে। কিন্তু কেন? কিন্তু কেন? কিন্তু কেন? চীন কি মানুষের দেশ না? এদের কি নিরস্ত্র নিরন্ন অসহায় মানবতার দুর্দশা বুঝবার মতো মানবিক বোটুকুও নেই? আশ্চর্য! 
এ নির্যাতিত হিন্দু-মুসলিম রোহিঙ্গারা মার খেতে খেতে একদিন যদি ঘোরে দাঁড়ায়, একদিন যদি প্রতিরোধব্যুহ রচনা করে ইস্পাত কঠিন শক্তিতে মুক্তিপাগল হয়ে যায়, একদিন যদি মুক্তিসংগ্রামের খুনরাঙা পথের দামাল পথিক হয়ে যেতে বাধ্য হয়--- তাহলে? তখন? তখন এদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসি আখ্যা দেবার ঘৃণ্য কসরৎ তো করা হবে না? 
আব্দার করছি, বিশ্ববাসী আগান। এ গণহত্যা বন্ধে ভূমিকা রাখুন। সন্ত্রাসি যেই হোক আন্তর্জাতিক আদালতে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করুন। একটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কে ঠেকান। জালেমকে জুলুম থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিন। পৃথিবীর মানবেতিহাসে হয়তো আপনারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
Powered by Blogger.