Header Ads

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব: আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী

হেফাজতে ইসলাম বালাদেশের নায়েবে আমীর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, শাইখুল হাদিস আল্লামা হাফিয তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী আজ এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের আরাকানে মুসলিম নারী ও শিশু নির্যাতন এবং নির্বিচারে গণহত্যা বন্ধের দাবী জানিয়ে বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বৌদ্ধসন্ত্রাসী ও সরকারী বাহিনী যৌথভাবে সরাসরি হত্যাকান্ড চালাচ্ছে। বর্তমান হত্যাকান্ড অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। বার্মার মগসন্ত্রাসীদের পৈচাশিক আর নির্মমতার কোন নজীর পৃথিবীতে নেই।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন থেকে নদীতে ভাসছে মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলমান শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ নারী পুরুষের বিকৃত লাশ। মায়ের সামনে মেয়েকে, মেয়ের সামনে মাকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে নির্বিচারে হত্যা করছে সরকারী বর্বর বাহিনী। তারা মুসলমানদের ঘর-বাড়ী, মাদরাসা ও মসজিদগুলি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, শিশুসহ সব বয়সী মানুষদেরকে দা দিয়ে কুপিয়ে মারছে, এমনকি জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতেছে। এরা সন্ত্রাসী, খুনি, এরা মানবতার শত্রু।
আল্লামা হবিগঞ্জী বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের ভাই বোন। এরা সন্ত্রাসী নয়, নিপীড়িত অসহায় মজলুম। এদের আশ্রয় দেয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতীত অসহায় মানুষদেরকে আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকরের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে বলেন, মিয়ানমারের নির্যাতীত মুসলিম মা বোনদের রক্ত নিয়ে যারা হোলি খেলায় মেতে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সোচ্চার হোন, কুটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করুন। মানবতার শত্রুদের মোকাবিলায় বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও রাষ্ট্রগুলোকে শামিল করুন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। এদের সাহায্য করুন। তাড়িয়ে দিয়ে আল্লাহর গজব ডেকে আনবেন না।
আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী জাতিসংঘ, ওআইসিকে মিয়ানমারের এই সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুসলমান হওয়াটাই কি আরাকানের নির্যাতীত নাগরিকদের অপরাধ? যে নির্যাতন আজ আরাকানে চলছে তার শতভাগের একভাগও যদি কোনও মুসলিম দেশে অমুসলিমদের ওপর করা হতো তাহলে বিশ্বসংস্থা ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের শক্তিধর দেশগুলো এভাবে নীরব ভূমিকা পালন করতো? তাই আরাকানে মুসলিম গণহত্যার উসকানিদাতা অং সান সূচির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিরোধী আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আজ রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিমরা নিজ জন্ম ভূমিতে অধিকারহারা। তারা নিজের আবাসভূমিতে নিষ্ঠুর বর্বরতম নির্যাতনের স্বীকার। মানবতাবাদী কোন রাষ্ট্র সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে না। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো আজ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। উগ্রজাতীয়তাবাদ আর ক্ষমতালিপ্সা মানুষের পাশবিকতাকে কতটা উসকে দিতে পারে, তারই বাস্তবচিত্র আরাকানের অসহায় মানুষের আর্তচিৎকার। উগ্রসাম্প্রদায়িকতা মানুষকে যে পশুতে পরিণত করে তার নিকৃষ্টতম উদাহরণ হলো আরাকানের বর্তমান চিত্র।
তাফাজ্জুল হক বলেন, আরাকানে মুসলমানের ওপর যে নির্যাতন চলছে তা জাহেলী যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এই করুণ পরিস্থিতিতে কোন বিবেকবান ও ঈমানদার মানুষ নিরব বসে থাকতে পারে না। আরাকানের নির্যাতীত মুসলমানদের পাশে দাড়ানো, যার যার সামর্থানুযায়ী সাহায্য করা সকল মুসলমানদের ঈমানী ও মানবিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, চরম বিপদে রোহিঙ্গা মুসলমানরা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসে তাদেরকে আমাদের বিজিবি অস্ত্রের মুখে ফেরৎ যেতে বাধ্য করে। ফলে এসব অসহায় নারী-শিশুসহ মানবেতর অবস্থায় জঙ্গল বা পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
আল্লামা তাফাজ্জুল হক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তা দিন, আল্লাহ্ আপনাদেরকেও এর প্রতিদান দিবেন। নতুবা আমরা কেউই আল্লাহর আযাব-গজব থেকে রেহাই পাবোনা
Powered by Blogger.