Header Ads

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে চায় মালয়েশিয়া

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের হাত বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া।
সমুদপথে পালিয়ে আসা বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না পাঠিয়ে তাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার নৌ বাহিনীর প্রধান।
শুক্রবার রয়টার্সকে তিনি এ কথা জানান।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা তাদের অধিকার বিশেষ করে দেশটির নাগরিকত্ব চেয়ে আসছে।
আর সরকার দীর্ঘদিন সেই দাবিকে উপেক্ষা করে আসছে। শুধু উপেক্ষা নয়, রীতিমত রাষ্ট্রীয় মদদে দমনপীড়ন চালানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর, যার সর্বশেষ নজির গত ২৪ আগস্ট।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার আগেই রাখাইন অবরুদ্ধ করে রাখে। এরই বদলা নিতে রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে ওইদিন প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রায় ৪০০ জনকে হত্যা করেছে এবং সৈন্যরা ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ পরিচালনা করেছে।
মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির মহাপরিচালক জুলকিফ্লি আবু বাকার বলেন, নতুন করে সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা আন্দামান সাগর থেকে দক্ষিণে শত শত কিলোমিটার দূরের মালয়েশিয়ায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়া ইতোমধ্য এক লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য মোলিক প্রয়োজনীয়তাগুলো প্রদান অব্যাহত রাখব এবং অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত আছি।’
এখনো পর্যন্ত দেশটিতে নতুন করে কোনো উদ্বাস্তু প্রবেশ করেনি বলে তিনি জানান।
মালয়েশিয়া এখনো পর্যন্ত ইউএন শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি। একারণে দেশটিতে শরণার্থীদেরকে অবৈধ অভিবাসী হিসাবে অভিহিত করা হয়।
এদিকে, থাইল্যান্ড জানিয়েছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের গ্রহণ করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফর রিফিউজি (ইউএনএইচসিআর) -এর নিবন্ধিত প্রায় ৫৯,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। তবে আনফফিশিয়াল সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
সূত্র: রয়টার্স ও আরটিএনএন থেকে
Powered by Blogger.