Header Ads

নাফ তীরে নতুন কারবালা, রিজভি

মুসলমানের কি কোনো মানবাধিকার থাকবে না? মুসলমানরা কি নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারবে না? তাদের কোনো অধিকার নেই?
তারা গুজরাটে থাকতে পারবে না, তারা রাখাইন রাজ্যে থাকতে পারবে না, ফিলিস্থিনিরা তার নিজ এলাকায় থাকতে পারবে না। ওদের কি মানবাধিকার নেই? বেঁচে থাকার অধিকার নেই? ওদের সন্তানরা পঙ্গুত্ব বরণ করবে, হয় চলে যাও দেশ ছেড়ে না হয় হত্যার শিকার হও।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
এসময় তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের উপর এই নৃশংস অত্যাচার শুধু আজকের বিষয় না, শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে এই অত্যাচার চলে আসছে। মিয়ানমার এক সময় আমাদের চট্টগ্রাম দখল করে নিয়েছিলো। মুঘল শাসক শায়েস্তা খানের সময় চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধার করা হয়।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, যারা বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী তাদের মূল কথা হলো অহিংসা, তোমরা হিংসা করো না। তাদের লোকেরা এতো ভয়ংকর বর্বরতা করতে পারে এটাতো কল্পনাও করা যায় না।
এ সময় তিনি ভারত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যারা বিশ্বের অন্যতম প্রধান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করেন, তারা অং সান সূ চি’র নীতিকে সমর্থন করলেন। মোদি সাহেব সমর্থন করলেন। আমরা বিস্মিত! আমরা হতবাক হয়ে গেলাম। এ কেমন কথা?
বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে রিজভি আহমেদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তিনি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য অনেক দেশকে বলছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। আজকে রোহিঙ্গারা ঈদের দিন নাফ নদীর তিরে শুয়ে ছিলো।
এক টুকরো মাংসের জন্য এক শিশু মায়ের কাছে আকুতি জানিয়েছিলো। তার মা এক ফোঁটা পানি দিতে পারেনি, মাংস তো দূরে থাক। সেই ফোরাত তীরে যেভাবে কারবালা অবরোধ করে রাখা হয়েছিলো, ইমাম বাহিনীর সন্তানদেরকে যেভাবে পানি দেয়নি, সেই নতুন কারবালা তৈরি হয়েছে নাফ নদীর তীরে। নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই। কিন্তু কত দিন?
তিনি বলেন, আজকে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন মুসলিম দেশ যেভাবে জাগ্রত হয়েছে, জাতিসংঘ যেভাবে প্রতিবাদ করছে, অন্যান্য দেশ যেভাবে কথা বলছে, এক সাথে সোচ্চার হয়ে জোরালো একটা অবস্থান বাংলাদেশ সরকারের দেখা যাচ্ছে না।
এ সময় তিনি সকলের প্রতি রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজনে এ মানববন্ধন পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।
বাংলানিউজ
Powered by Blogger.