Header Ads

রোহিঙ্গা গণহত্যায় জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তায় ইমরান খানের নিন্দা

মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও দুর্দশায় জাতিসংঘের নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির প্রধান ও দেশটির ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান।
শনিবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেসকে লেখা একটি খোলা চিঠিতে তিনি এই নিন্দা জানান।জাতিসংঘের তরফ থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্দশায় সরব ভূমিকা পালন এবং জোড়ালো মানবিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ২০১৫ সালের জুনে জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা একটি চিঠির বিষয় উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বসংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি এবং এ কারণে আজকে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চলছে এবং এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আজকে আবারো আমার ও আমার দলের (পিটিআই) পক্ষ থেকে বলতে হচ্ছে যে, মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের অব্যাহত দুর্দশা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণহত্যায় জাতিসংঘ ক্রমাগত নিরবতা পালন করছে এবং সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকারের মৌলিক নীতি অনুসরণ করতে এবং গণহত্যা থেকে মানুষদের রক্ষা করতে জাতিসংঘের ব্যর্থতা একটি লজ্জাজনক অধ্যায়।’
পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘রুয়ান্ডার গণহত্যায় চাপের মুখে জাতিসংঘের ম্যান্ডেটে মানবিক হস্তক্ষেপের নীতি বিশেষভাবে যোগ করা হয়েছিল কিন্তু জাতিসংঘ আবারো নিপীড়ন ও গণহত্যা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার এই গণহত্যার শিকার মায়ানমারের রোহিঙ্গারা।’
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক তোষণ নীতি থেকে কোনো শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। যে তোষণ নীতি বিশ্বকে অবশেষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। রুয়ান্ডার গণহত্যার প্রেক্ষাপটে এটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে, গণহত্যার হুমকিতে থাকা মানুষদের কোনো ধরণের বৈষম্য ছাড়াই রক্ষায় জাতিসংঘ দৃঢ়ভাবে মানবিক হস্তক্ষেপের নীতিমালা জারি করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, জাতিসংঘ এ পর্যন্ত তার নিজস্ব সনদকে উজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ 
তিনি বলেন, ‘১৯৭০-এর দশকের পর থেকে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন নিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা প্রদর্শন অত্যন্ত হতাশাজনক। মানবাধিকার ও মানবিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত ভণ্ডামি রোহিঙ্গা সঙ্কটের ফলে ব্যাপকভাবে সবার সম্মুখে উন্মোচিত হয়েছে।’
জাতিসংঘের মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে ইমরান খান বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবিক হস্তক্ষেপের অধিকার দেয়ার জন্য যারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা এই মুহূর্তে এটি প্রতিষ্ঠা করতে অনিচ্ছুক। শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিপীড়ন থেকে মানুষকে রক্ষা করা জাতিসংঘের দায়িত্ব এবং মহাসচিব হিসাবে এটির বাস্তবায়ন করা আপনার কর্তব্য।’
তিনি বলেন, ‘মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ও গণহত্যা বন্ধে ও তাদের অমানবিক দুর্দশার অবসান ঘটানোর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপনের জন্য আপনার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
সূত্র: ডন নিউজ
Powered by Blogger.