Header Ads

সেমাই জোটে দুপুরে, মাংসের অপেক্ষায় রাত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রবেশের পশ্চিম দিকের গেটের বিপরীত দিকে ফুটপাতে বসে কোলের শিশুকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছিলেন এক তরুণী। ছেঁড়া একটি প্লাস্টিকের মাদুরে শুয়ে থাকা নগ্ন শিশুটির মাথার নিচে বালিশও নেই।
কাঁথা দিয়ে বালিশ বানিয়ে তাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছেন ওই মা। কিন্তু শিশুটি গরমে ঘুম থেকে উঠে পড়ে।শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বেলা ১১টার দিকে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।
হঠাৎই রাস্তার বিপরীত দিক থেকে আনুমানিক ছয় সাত বছরের একটি মেয়ে ছুটে এসে মায়ের কাছে সেমাই খাওয়ার বায়না ধরে। শিশুটির মা খেঁকিয়ে বলে ওঠেন, ‘তোর নানী সেমাই টুকাইতে গেছে। দুপুর অইলে আইব, তহন খাইস।’
‘তাইলে মাংস খামু কহন’ শিশুটির এ প্রশ্নের উত্তরে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন ওই মা। এরপর নিচু স্বরে বলেন, ‘রাইতে রানলে খাইস।’ মায়ের মুখে এ কথা শুনে মন খারাপ করে আবার রাস্তার বিপরীত দিকে ফুটপাতের ঝুপড়ি ঘরে ছুটে চলে যায় শিশুটি।
কৌতুহলবশত এ প্রতিবেদক তরুণীর পরিবার ও ঈদ উদযাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার নাম শিউলি। তার দুই মেয়ে শাহনুর আর ফেরদৌসি। কোলের শিশুটি জম্মের আগেই স্বামী তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। দুই মেয়েকে নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঢামেক হাসপাতাল সংলগ্ন এ ফুটপাতেই দিন কাটে।
নিজে শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় অনেকটা মায়ের আয়-রোজগারেই নিত্যদিনের আহার জোটে তাদের।
আজ ঈদের দিনে কোনো আয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে শিউলি জানান, তাদের কাছে ঈদের দিন আর দশটা দিনের মতোই অতি সাধারণ। তবে এ দিনটিতে অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি খাবার ও আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়।
শিউলি আরও জানান, পর্যাপ্ত টাকা হাতে না থাকায় মেয়েগুলোকে সকালে সেমাই তৈরি করে না খাওয়াতে পারার বিষয়টি তাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। তাছাড়া শিশুদের পাশে বাবা না থাকায়ও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
উৎসঃ   jagonews24
Powered by Blogger.