Header Ads

“আরাকানে গণহত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নেয়ার দাবীতে সমাবেশ করবে হেফাজত

আগামী ৬ অক্টোবর ককসবাজারে মহাসমাবেশ সফল করুন

আল্লামা আহমদ শফী

 হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক, শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. মিয়ারমারের আরাকানে মুসলমানদের ওপর পৈশাচিক গণহত্যা, নির্যাতন ও বিতাড়ন বন্ধ এবং নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আরাকানে ফেরত নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় আরাকানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা একান্ত প্রয়োজন। মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা বিশ্বসংস্থা ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, আরাকানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্যে নিরাপত্তা জোন তৈরী করতে হবে। মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে বিশ্বনেতৃবৃন্দকে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও মানবতার পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নৃশংস গণহত্যা পরিচালনার দায়ে এবং মানবতার বিরোধী অপরাধের কারণে থেইন সেইন সরকার ও অন সান সূচীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সরকার ও বৌদ্ধদের কাছে মানবিকতা বলতে কিছুই নেই। তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বতম হত্যাকান্ড চালিয়ে মানবাধিকার ভুলুণ্ঠিত করেছে। মানবতার শত্রু মিয়ানমারের জালেম সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বার্মার সকল পণ্য বর্জন করতে হবে। তাদের সাথে সকল কুটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।
আজ বিকেল ৩টায় দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত ওলামায়ে কেরামের এক বিশেষ জরুরী সভায় সভাপতির ভাষণে হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. উপরোক্ত কথা বলেন।

সভায় অন্যান্যদেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজত মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারীর শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুগ্নমহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকীম, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী, ঢাকা মহানগরীর মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, খুলনার মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলান সরোয়ার কামাল আজিজী, ককসবাজার জেলার সহসভাপতি মাওলানা হাফেজ সালামতুল্লাহ, সেক্রেটারী মাওলানা ইয়াছিন হাবিব, মাওলানা হাফেজ মুবিন, উত্তর জেলার মাওলানা মীর মোহাম্মদ ইদরিস, হাফেজ মোহাম্মদ ফায়সাল, মাওলানা সরোয়ার কামাল, মাওলানা মোহাম্মদ লোকমান প্রমূখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৬ অক্টোবর শুক্রবার ককসবাজারে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় এবং বিভিন্ন শরনার্থী ক্যাম্পে মসজিদ, মক্তক, মাদরাসা নির্মাণ, টিউবওয়েল বসানো এবং টয়লেট নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সভাপতির ভাষণে আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা অবর্ণনীয়। তাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু অভিভাবক হারা। বিভিন্ন ক্যাম্প ও এলাকায় শরণার্থীরা শিশুখাদ্য, পানি, ঔষধ ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকটে রয়েছে। এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যার যার অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে বিভিন্ন ক্যাম্পে মসজিদ, মক্তক, মাদরাসা নির্মাণ করা হবে। টিউবওয়েল বসানো এবং টয়লেট নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মিশনারী এনজিও গুলো যেন সেবার অন্তরালে অসহায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করতে না পারে তার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, মিয়ানমারের আরকানে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব যেন আরাকানে গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের ওপর উপর্যুপরি চাপ প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়, সে জন্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছে। দেসবাসীর পক্ষ থেকে বিশ্ব জনমত তৈরী করার জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় “আরাকানে গণহত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে মিয়ানমারে ফেরৎ নেয়ার দাবীতে আগামী ৬ অক্টোবর শুক্রবার ককসবাজারে হেফাজতের পক্ষ থেকে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মহাসমাবেশ সফল করার জন্য আমি সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার প্রতি আহবান জানাচ্ছি ।


হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করে দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলিমরা এমনিতেই চরম দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে, সবধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত, তাদের নাগরিকত্বও দেয়া হয়নি। এবার তাদে বসত বিটা থেকে উচ্ছেদ করে গ্রামগুলো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা নিজ দেশ ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে ময়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের প্রবেশ ঠেকাতে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে‘মরিচগুঁড়ার স্প্রে ও স্টান গ্রেনেড’ ছুড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ভারতের এই জঘন্য আচরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। নির্যাতিতদের আশ্রয় না দিয়ে ‘মরিচগুঁড়ার স্প্রে ও স্টান গ্রেনেড’ছুড়ে ভারত ইতিহাসে আরেকটি লজ্জাজনক কালো অধ্যায় সৃষ্টি করছে। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যের অবসানে জাতিসংঘের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধ ও তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য জোর দাবী জানান।


Powered by Blogger.