Header Ads

বাংলাদেশের প্রবেশ পথে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম

আমি জীবন রক্ষার জন্য দিগ্বিদিক ছুটতে থাকি। আমার অনাগত সন্তানকে রক্ষার জন্য আমি প্রাণপন ছুটতে শুরু করি। মাথায় কিছু ছিল না তখন। সবই কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো। ভয়ের তীব্রতায় আমি কেবল ছুটছিলাম।’ এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিস্ফোরণ আর আগুনে জ্বলতে থাকা রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আসা হামিদা।
বাংলাদেশের প্রবেশ পথে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম
রাখাইনের নিজ গ্রামে হঠাৎই একদিন গুলির শব্দ শুনে চমকে ওঠেন গর্ভবতী হামিদা। কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে দেখেন, জ্বলছে তার গ্রাম। আর কিছু ভাবতে পারেন না। সবকিছু তার শূন্য শূন্য লাগতে থাকে। নিজের জীবন নয় কেবল, তার ভেতরে ভূমিষ্ঠ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনাগত আরেক ভাগ্যহারার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
হামিদার সঙ্গে তার স্বামীও পালিয়ে আসছিলেন বাংলাদেশে। আসছিলেন বোন-সহ অন্যান্য পরিজন। তবে পৃথিবীর আদিমতম প্রাকৃতিক যন্ত্রণায় কাতর ছিলেন এই পূর্ণকালীন গর্ভবতী। বেঁচে থাকার আদি-অকৃত্রিম-চিয়ারত বৈশিষ্ট্য তাকে আগুন আর গুলি থেকে পালিয়ে বাঁচতে বাধ্য করেছিল ঠিকই, তবে কোনওভাবেই প্রসব বেদনার প্রাকৃতিক যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ ছিল না। ‘এ ব্যাথার কথা বলে বোঝানো যাবে না। কোনও ডাক্তার নেই, কোনও ওষুধ নেই। তীব্র ব্যথা…’ এভাবেই পরিস্থিতির বর্ণনা হাজির করেন তিনি।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ হামিদার গর্ভে থাকা সেই অনাগতের ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর দিয়েছে। জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে গিয়ে, পথের মধ্যেই আরেকজন রাষ্ট্রহীন-নাগরিকতাহীন, আশা-স্বপ্ন-ভবিষ্যতহীন আরেক মানব শিশুর জন্ম দিয়েছেন হামিদা।
বাংলা ট্রিবিউন
Powered by Blogger.