Header Ads

বাংলাদেশে এসেছে আরও অসহায় ২৭ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান

মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৪ আগস্ট রাতের সংঘর্ষের পর থেকে এক সপ্তাহে অন্তত ২৭ হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বরাতে বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।এতে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে ২৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এর আগে গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম বলেছিল, গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে প্রায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
আইওএম’র কক্সবাজার অফিসের প্রধান সানযুক্তা সাহানি সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন।
তবে তার তথ্যের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বাংলাদেশে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সম্বন্বয়কারী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী তারা ধারণা করছেন, রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলোতে মিয়ানামার সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে ২৭ হাজার ৪শ’ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলে আসছে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সীমান্তে কড়াকড়ি বজায় রেখেছে। তা সত্ত্বেও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
অনুপ্রবেশের কথা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও কত সংখ্যক রোহিঙ্গা নতুন করে সংঘর্ষের পর বাংলাদেশে ঢুকেছে, তা জানায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা রাখাইনের অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশন ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়। এতে মিয়ানমার সরকারের দেওয়া তথ্যে ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে আশ্রয় নিয়েছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা দু’দেশের মধ্যে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন পার করছেন।
এর আগে গতবছরের অক্টোবরে একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।
এদিকে সীমান্ত বরাবর নাফ নদী থেকে বিজিবি বৃহস্পতিবার ২০ রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকায় করে পালিয়ে আসতে গিয়ে সেটি ডুবে গেলে রোহিঙ্গারা মারা যায়।
এদিকে, ইউনিসেফ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেসব রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবার সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছে, তাদের জন্য তারা কক্সবাজারে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি দলে দলে আসা এসব রোহিঙ্গাদের ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। বাস্তুচ্যুত এসব পরিবারের নারী ও শিশুদের জন্য তারা বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খুলেছে।
উৎসঃ   পরিবর্তন
Powered by Blogger.