Header Ads

রোহিঙ্গা গণহত্যার সমাপ্তি ঘটাতে যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওআইসি

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার সমাপ্তি ঘটাতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওইআইসি একটি কন্টাক্ট গ্রুপ গঠন করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত গোলাম-আলি খসরু।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমি মুসলমান দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’ মুসলিম দেশের কন্টাক্ট গ্রুপ নামে একটি গ্রুপ গঠনে তারা সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে এ গ্রুপ গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।

এরমধ্যে রোহিঙ্গা সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে ইসলামী দেশগুলো যোগাযোগ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ তৎপরতার কঠোর নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, মানবিক বিপর্যয় রোধে সবার চেষ্টা করা উচিত।
রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু নিয়ে বাংলাদেশের সহায়তায় ইন্দোনেশিয়া
বিশ্বের সর্ববৃহত মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিয়ে বাংলাদেশের বোঝা লাঘবে ইন্দোনেশিয়া সহায়তা দেবে। ঠিক কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা নিয়ে বাংলাদেশের সাথে আলোচনা চলবে। রাখাইনে মানবিক সঙ্কটের অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা সফরকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে বৈঠক করেন তিনি।
মারসুদি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডুডু তিনটি বার্তা দেয়ার জন্য আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। প্রথমত, উদ্বাস্তু ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি বোঝার জন্য ইন্দোনেশিয়ার সহানুভূতি প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, এ বোঝা লাঘবে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো। তৃতীয়ত, মাঠপর্যায়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্দোনেশিয়ার সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। কী ধরনের সহায়তা দেয়া যেতে পারে তা নিয়ে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাবো।
রোহিঙ্গাদের পক্ষে সোচ্চার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান
গত আটমাসে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়েপ এরদোগান। মি: এরদোগান সরাসরি বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে।
মি: এরদোগানের মতো এতোটা জোরালো অভিযোগ অন্য কোন রাষ্ট্র প্রধান করেননি।
গত মঙ্গলবার মি এরদোগান সরাসরি ফোন করেছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সু চি-কে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে মিস সু চি’র কাছে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা সচক্ষে দেখতে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি আমিনে এরদোগান আজ ভোরে ঢাকায় এসেছেন।
তার সাথে আছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। আজই তাদের টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার কথা।
সুচিকে দেয়া ‘প্রেসিডেন্ট পদক’ প্রত্যাহারের দাবি পাকিস্তানের এমপিদের
মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান এবং সরকারের কার্যত প্রধান নেতা অং সান সু চিকে দেয়া প্রেসিডেন্ট পদক প্রত্যাহারের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের সংসদ সদস্যরা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধ করতে এমনকি এর বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে সু চি ব্যর্থ হওয়ায় এ আহ্বান জানানো হয়।
পাকিস্তানের সংসদের উভয়কক্ষের মানবাধিকার কমিটির প্রধানরা এ আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে বিশেষ তহবিল দেয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এছাড়া, মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং দেশটির পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান তারা। রোহিঙ্গা সমস্যা অবিলম্বে সমাধানের জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি এবং জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও বলেছেন পাক সংসদ সদস্যরা।
রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান বন্ধ করুন : মিয়ানমারকে ৪ মুসলিম দেশ
এ সঙ্কটের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা এবং ব্যাপক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর খবরে’ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজ্জাক এক টুইট বার্তায় ‘মিয়ানমার এবং এ অঞ্চলের কল্যাণের স্বার্থে রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের এ গুরুতর দুর্দশার অবসানের’ আহ্বান জানান।
দণি-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশগুলো থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মারসুডি মিয়ানমার সফর করছেন এবং তিনি সে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানের সাথে দেখা করে এ সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। দেখা করেছেন অং সান সু চি’র সাথে।
মিয়ানমারের সাথে সবধরনের যোগাযোগ স্থগিত করেছে মালদ্বীপ।
কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে।
মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানে মিয়ানমার ফুটবল দলের সাথে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। কারণ কিছু সামাজিক মাধ্যমেই ম্যাচের সময় প্রতিবাদ-বিােভ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
উৎসঃ   নয়াদিগন্ত
Powered by Blogger.