Header Ads

রোডমার্চ যাত্রা কাল, সকলের সহযোগিতা চাইলেন শাহীনূর পাশা

 মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির সেনাবাহিনী ও সরকারের পৈশাচিক নির্যাতনের প্রতিবাদে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে (২১ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে টেকনাফ অভিমুখে রোডমার্চ করবে ‘হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা বাংলাদেশ’। আজ বুধবার দুপুরে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন  আয়োজকরা।    রোডমার্চের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান,  সংগঠনের চেয়ারম্যান, রোডমার্চের আহবায়ক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী।

তিনি জানান, মাত্র কয়েকদিনের নোটিশে সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সফর করে যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি রোডমার্চ কর্মসুচিতে।  টেকনাফে প্রায় সহ¯্রাধিক গাড়ি নিয়ে এই রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।  শুক্রবার বিকেলে ককসবাজারে সমাবেশের মাধ্যমে রোডমার্চ কর্মসুচি সমাপ্ত হবে। তিনি রোডমার্চ সফলের জন্য গণমাধ্যম কর্মী ,প্রশাসন, সিলেটসহ দেশবাসীর দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রোডমার্চ এর সমন্বয়কারী লে:কর্নেল (অব) আতাউর রহমান পীর, রোডমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি সিলেট মহানগরের সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা হাফিজ মাওলানা লোকমান আহমদ খান,হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গার সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান,মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা আলী নূর,  মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী, হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মিডিয়া সমন্বয়কারী মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা মুতিউর রহমান, মাওলানা সৈয়দ শোয়াইব আহমদ,মাওলানা কায়সান মাহমুদ আকবরী প্রমুখ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায়  খলিফায়ে মাদানী আল্লামা আব্দুল মোমিন শায়খে ইমামবাড়ীর উদ্বোধনী বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে সিলেট নগরীর হুমায়ুর রশীদ চত্বর থেকে রোডমার্চ কাফেলা যাত্রা শুরু করবে।  প্রথমে শায়েস্তাগঞ্জ যাত্রা বিরতী করে পথ সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য,  পরে দুপুরে যাত্রা বিরতি হবে বি-বাড়ীয়ার জামিয়া দারুল আরকামে। এবং রাত্রী যাপন হবে ফেনি জেলার লালফুল মাদরাসা মাঠে।শুক্রবার বাদ ফজর চট্রগ্রামের পথে রোডমার্চ কাফেলাযিাত্রা করে বিকেলে ককসবাজারে সমাবেশের মাধ্যমে
অনুষ্ঠানিক সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে।রোডমার্চে নেতৃত্ব দিবেন সংগঠনের আহবায়ক মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী।

শাহীনূর পাশা চৌধুরী জানান, মহান আল্লাহপাকের অশেষ কৃপায় , দেশবাসীর সর্মথন ও আপনাদের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা এই রোডমার্চের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বিশ্ববিবেকের সাড়া জাগাতে সক্ষম হবো বলে আমি দৃঢ় আশাবাদি।

হাজার বছরের আরাকান রাজ্যের আদিবাসী রোহিঙ্গাদের যেভাবে হত্যা, বর্বর নির্যাতন করা হচ্ছে, তা ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। বাংলাদেশ মানবতায় সাড়া দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছে। তবে, তাদেরকে অবশ্যই তাদের নিজের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। বিপন্ন রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়ায় বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।একই সাথে এই গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে আরো জোরালো ভূমিকা পালনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে সেখানে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের  করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য আমাদের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

কেনো এই রোডমার্চ?
অসহায় শিশু,নারী-পুরুষের গগন বিদারি কান্না,আর তাদের (রোহিঙ্গাদের) রক্তাক্ত অবস্থা দেখে নিজেকে কিছুতেই স্বাভাবিক রাখতে পারছিলামনা। বিবেকের তাগিদেই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে আমি এই কর্মসুচিতে এগিয়ে এসেছি। আশা করছি এর ফলে মিডিয়ার কল্যানে কিছুটা হলেও বিশ্ববাসীর দরবারে আমাদের আহবান পৌছাবে।
আমরা রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারসহ তাদের নিজ দেশে ফিরত পাঠানোর জন্য জাতিসংঘকে আহবান জানাই। আর এজন্য আরাকানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা সমযের দাবি বলে মনে করছি।এই কর্মসুচির সাথে  কোন ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধ বা অস্পষ্ট কোন এজেন্ডা নেই আমাদের।আমরা জাতিকে সঠিক ম্যাসেজটা পৌছিয়ে দিতে চাই।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে আমাদের উপর অর্থাৎ মুসলিম জনগণ ও রাষ্ট্রের উপর এবং নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের উপর যে দায়িত্বগুলো আরোপিত তা হলো;
১.মানবিক
২.রাজনৈতিক
৩.সামরিক
অগ্রাধিকার বলে একটা কথা আছে,সেই অগ্রাধিকার নীতির আলোকে আমাদের প্রধান কর্তব্য কী? তা আমাদেরকে বলে দিয়েছে আমাদের অভিজ্ঞতা, যে অভিজ্ঞতাটা আমরা আবিষ্কার করেছি বাংলাদেশের খোলা আকাশের নীচে বৃষ্টিভেজা রোহিঙ্গা আর্তনাদের মধ্যে। অর্থাৎ আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া চাই মানবিক। যাতে ওপারে যারা আটকে আছে তাদের উদ্ধার করা যায়,জঙ্গলে জঙ্গলে ছুটাছুটি করা মা, শিশুদের নিরাপদ স্থানে পৌছানো যায়, যেন ওদের পেটে ক্ষুদার জ্বালা না থাকে, ওদের গা যেন বৃষ্টিতে না ভিজে,বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে,শৌচের জন্য অস্থির হয়ে যেতে না হয়,আগুন জ্বালিয়ে ভাত রান্না করতে পারে,ঝাঁকে ঝাঁকে মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে পারে, ডায়রিয়া ম্যালোরিয়াসহ নানা রকমের প্রকোপ থেকে রক্ষা পায়,……..ইত্যাদি।
৮ দফা করণীয়:
১.স্থায়ী পরিকল্পনা,দীর্ঘমেয়াদী কৌশল।
২.শক্তিশালী ফান্ড।
৩.স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ। স্বল্পসংখ্যক স্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক ও বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ।
৪.ঢাকা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মনিটরিং সেল গঠন।
৫. ত্রান বিতরণ ও সার্বিক নিরাপত্তাবিধানে সেখানে (উখিয়া-টেকনাফে) সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন।
৬.রোহিঙ্গা ইস্যু স্থায়ী সমাধানে সরকারি ভাবে কোটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করতে হবে।
৭. মিয়ানমারের সাথে আপাতত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ রাখা উচিত বলে আমরা মনে করি।
৮. আরাকানে শান্তি রক্ষিবাহিনী মোতায়ন করা।
-সিলেট রিপোর্ট: 
Powered by Blogger.