Header Ads

এবার সুষ্ঠু ভোট না হলে দেশ উ. কোরিয়া হবে: আসিফ নজরুল

নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে না পারলে বাংলাদেশে উত্তর কোরিয়ার মতো অবস্থা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির ‘বাকস্বাধীনতা হরণের’ অভিযোগের মধ্যে এ মন্তব্য করলেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে করণীয়' শিরোনামে এক গোলটেবিল আলোচনায় আসিফ নজরুল বলেন, “আগামী নির্বাচনে কমিশন ব্যর্থ হলে এদেশে উত্তর কোরিয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হবে। সেটি আমরা হতে দিতে পারি না, একথা নির্বাচন কমিশনকে মনে রাখতে হবে।”
বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একমাত্র দেশ উত্তর কোরিয়া। দেশটির শাসক কিম জং উনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনসহ নানাবিধ অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ওই বৈঠকে আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন মানে সুষ্ঠু নির্বাচনই, ভুয়া নির্বাচন বা ভুয়া প্রতিনিধি নির্বাচন নয়। আর সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে কী হয় সেটা গত চার বছর আমরা দেখেছি।
“সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন, এমনকি সরকারও ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। সেজন্যই বাম মোর্চার ২০ জনের মিছিল, ইমরান এইচ সরকারের ত্রাণ তৎপরতায়ও সরকার ভয় পায়, হামলা করে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে ভীত হয়ে পড়ে সরকার, সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচিত না হলে সরকার তার নিজের অস্তিত্ব নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হয়। তাদের এমনভাবে কাজ করা উচিত যাতে জনগণ সন্দেহ না করে।”
আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপকে অর্থহীন মনে করেন কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ দেখে মনে হচ্ছে, তারা অসহায়, অন্যদের মতামত নিয়ে তারা তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। দেশে-বিদেশে কখনোই এমনটা দেখিনি।"
সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন 'স্বাধীন সচিবালয়' ও 'জনবলসহ' অন্যান্য সুবিধায় দক্ষিণ এশিয়ায় 'তাত্ত্বিকভাবে' বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের নির্বাচন কমিশন তো ফার্স্ট ক্লাস। তাহলে এত টেনশন কেন? আর শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন কোথায় হয়? নর্ডিক কান্ট্রিগুলোতে ৯৯ ভাগ হয়, আমেরিকাতেও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না।"
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “যে কোনো দলীয় সরকারের অধীনেই পারফেক্ট নির্বাচন হতে পারে, তবে শতভাগ পারফেক্ট হবে সেটি বলছি না। সেজন্য সে রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
“আমার তো মনে হয়, কেন রাজনীতি করলাম না, একজন এমপি ওয়ান টাইমে ৩০০-৫০০ কোটি টাকা বানায়, এত টাকা আসে কোথা থেকে?”
১৯৯০ সালের পর থেকে প্রশাসনে ‘চরমভাবে দলীয়করণ' হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা দরকার, সেটা জরুরি। এখন নির্বাচন কমিশন কীভাবে সেটি নিশ্চিত করবে তা দেখতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের উপর মানুষের কতটা আস্থা আছে সেটাও দেখতে হবে। নানা কর্মকাণ্ডে তাদের অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ।”
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনে ‘না’ ভোট রাখা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান, সেনা মোতায়েন, সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানান।
পরে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের একটা সিকিউরিটি প্ল্যান নেওয়া জরুরি। আর ২০১৪ সালের পরিনাম যেন সামনে না হয়, আরেকটা বিতর্কিত নির্বাচন হলে আমরা চরম সমস্যায় পড়ব। সেটি হয়ত আমরা সামলাতে পারব না।”
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বিচারপতি কাজী এবাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
Powered by Blogger.