Header Ads

বাংলার শাইখুল আরব ওয়াল আযম: কথা আর স্মৃতি

বাংলার শাইখুল আরব ওয়াল আযম: কথা আর স্মৃতি

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
দিনের সূর্যটাকে দিনে অতো মনে পড়ে না। সূর্যের প্রখর আলোর জোয়ারে আলোটাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়। অথচ সূর্য ছড়াচ্ছে আলো আর আলোতে পথ দেখছি আমরা। সূর্যটাকে খুব মনে পড়ে যখন সে ডুবে যায়; রাত আসে। অন্ধকারের ঘন-কালোয় সূর্যের গুরুত্ব সকল প্রাণীই বুঝে নেয়। তাই তো ভোরের আলো ফুটতেই পৃথিবীর ঘুম ভাঙ্গে, শাখায়-শাখায় পাখি জাগে। এমনই কিছু মানুষ এ দুনিয়াকে দেয় আলো আর পথ দেখায় হাজারো বনী-আদমকে। মুক্তা যেমন সব বাজারে মেলে না তেমনি সেসব অসাধারণ মানুষ সব সময়ে আসে না। এ পৃথিবীতে তাঁরা ক্ষণজন্মা; কালজয়ী। তাঁরা যখন চলে যান সূর্যটা ডুবে যায়। সব নীরব হয়ে যায়।
তেমনি এক কালজয়ী মহান রাহবার বাংলার শাইখুল আরব ওয়াল আযম শাহ মুহাম্মাদ হাজী ইউনুচ সাহেব রহ.। ইন্তিকালপূর্ব পর্যন্ত তিনি একদিকে যেমন ছিলেন চট্টলার প্রাচীন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সম্মানিত পরিচালক অন্যদিকে সমগ্র বাংলাদেশের আলিম-সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে তিনি ছিলেন পূর্বসূরী বুযুর্গবৃন্দের সার্থক উত্তরাধিকার এবং সর্বজনমান্য অভিভাবক। দেশের সুপরিচিত বৃহৎ দ্বীনি-জামিয়াগুলোর মাজলিসে শূরার প্রধান হিসাবে একদিকে যেমন হযরত হাজী সাহেব রহ. আলিম-সমাজকে দিয়েছেন সার্থক অভিভাবকত্ব, দিয়েছেন ভবিষ্যতে পথচলার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তেমনি গণমানুষকে দিয়েছেন আল্লাহর পথে ফিরে আসার চেতনা।
এত বড় একজন মহান-পুরুষ সম্পর্কে যখন লিখতে অনুরোধ করা হলো হাত কেঁপে উঠলো লেখকের। যাঁর ভাগ্যসমৃদ্ধ সাহচর্য লাভে যখন লেখক ব্যর্থ; লেখকের স্মৃতিতে যাঁর অনেক-অনেক কুড়ানো মানিকের অনুপস্থিতি সেখানে এই পঙ্গু-লেখকের কলম হয়ে পড়ে অসহায়--কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তবুও বিবেকের দায়বদ্ধতার আর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জবাবদিহিতার চাপ বাধ্য করে ন্যূনতম কিছু রেখে যাবার জন্য; আমাদের পূর্বসূরীবৃন্দের সোনালী অতীত সম্পর্কে উত্তরসূরীদের কাছে কিছু স্মরণ দিয়ে যাবার জন্য। তাই, হাজারো জানার ও অনুভবের সীমাবদ্ধতার রাস্তা পাড়ি দিয়ে ক'কলম লিখে যাচ্ছি যা নিশ্চয় আপনারা যোগ্য-ব্যক্তিবর্গের কাছে আগেই শুনে থাকবেন। লেখকের এ লেখা হতে পারে কিছু চর্বিতচর্বণ। মনে করছি, তবুও বড় মানুষের দস্তরখানের হাঁড় চিবানোর পরশটাও অনেক বড়।
হযরত হাজী সাহেব রহ. জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম হিসাবে নির্বাচিত হন কুতুবুল আকতাব মুফতী আজীজুল হক সাহেব রহ.এর জীবদ্দশাতেই। হযরত মুফতী সাহেব রহ.এর হাতেই হাজী সাহেব হুযুর রহ. জামিয়া পটিয়ার পরিচালকের দায়িত্ব পান। হযরত হাজী সাহেব রহ. কেমন করে জামিয়া পটিয়ায় এলেন সেই কাহিনী বড় বিস্ময়কর। সেই কাহিনী শুনেছি বেশ আগে মুরুব্বীদের মজলিস থেকে। তখন পটিয়া মাদরাসা সবে কৈশরকালে পড়েছে। আস্তে-আস্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততা বাড়ছিল। জামিয়া পটিয়ার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠাতা মুফতী আযীযুল হক সাহেব রহ. হাটহাজারী এলেন স্বীয় উস্তায আল্লামা হাবীবুল্লাহ সাহেব রহ. এর কাছে মাদরাসা বিষয়ে পরামর্শ নিতে। মুফতী সাহেব রহ. হযরত হাবীবুল্লাহ রহ.এর কাছে মাদরাসার জন্য একজন আমানতদার হিসাব-রক্ষকের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন। যেহেতু সেটা ছিল পারস্পরিক আনুগত্যের জামানা তাই হযরত মুফতী সাহেব রহ. হাবীবুল্লাহ সাহেব রহ.এর নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। আল্লামা হাবীবুল্লাহ সাহেব রহ. কিছুক্ষণ পর বলে উঠলেন: বান্দা তো আমানতদার দু'জন দেখতে পাচ্ছি। একজন চলে গেছেন আরেকজন বেঁচে আছেন। হযরত মুফতী সাহেব রহ. সবিনয়ে জানতে চাইলেন: হযরত, কে তিনি, যিনি বেঁচে আছেন? জানতে চাওয়ার উত্তরে হযরত হাবীবুল্লাহ সাহেব রহ. বললেন: অমুক জায়গায় একটা প্রাইমারি স্কুল আছে, সেখানে মাস্টার ইউনুস নামে একজন লোক পাবে তাকে নিয়ে এসে মাদরাসার হিসাবের দায়িত্ব বুঝিয়ে দাও। খুব সম্ভবত প্রাইমারি স্কুলটি হযরত হাজী সাহেব হুযুর রহ. এর বাড়ির নিকটবর্তী কোন স্থানে ছিল। কথামতো হযরত মুফতী সাহেব হুযুর রহ. হাজী সাহেব হুযুরকে এনে জামিয়া পটিয়ার হিসাব-বিভাগের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। (পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, লেখকের বর্ণনাকৃত ঘটনার ভাবকে প্রাধান্য দানের, বর্ণনাভঙ্গীকে নয়। কারণ, দীর্ঘদিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রকৃত বর্ণনা পর্যায়ক্রমিক রিওয়ায়েতের প্রভাবের কারণে অভিন্ন নাও হতে পারে।) এভাবেই হযরত হাজী সাহেব হুযুর রহ. জামিয়া পটিয়ায় পদার্পণ করেছিলেন। কী আল্লাহর মহিমা! তখন কে জানতো এই মাস্টার ইউনুচ সাহেবকেই একদিন রব্বুল আলামীন শাইখুল আরব ওয়াল আযমের সিংহাসনে বসাবেন।
জামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল আলম হযরত মুফতী আযীযুল হক সাহেব রহ. প্রথম যখন পটিয়া মাদরাসার পরিচালক হিসাবে হযরত হাজী সাহেব হুযুর রহ.কে পূর্ণ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন সেই সময়কালীন এক ঘটনা লেখকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। এই ঘটনাও লেখক উলামায়ে কেরামের মজলিস থেকে শুনেছেন। জামিয়া পটিয়ার মুহতামিমের দায়িত্ব প্রথম যখন হাজী সাহেব হুযুর রহ.কে বুঝিয়ে দেয়া হয় সে-সময় শিক্ষাগত যোগ্যতায় আরও এগিয়ে থাকা ব্যক্তিবর্গ শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে-সময় বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনাও হচ্ছিল যে, আরও যোগ্য-লোক তো ছিলেন পরিচালক হবার যোগ্যতায় ইত্যাদি, ইত্যাদি। ক্রমে আলোচনার কথা হযরত মুফতী সাহেব হুযুর রহ.-এর গোচরীভূত হল। বিষয়টি গোড়াতেই সমাধান করতে হযরত মুফতী সাহেব রহ. সব শিক্ষকমণ্ডলীকে একসময় ডেকে বসালেন। হযরত রহ. সবার উদ্দেশে বললেন: ইউনুচ সাহেবকে মাদরাসার দায়িত্ব দেয়ায় আপনাদের মাঝে কিছু কথা হচ্ছে শুনতে পাওয়ায় আজ আপনাদেরকে এখানে ডেকেছি সেই কারণ ব্যাখ্যা করতে। এরপর হযরত রহ. বলতে লাগলেন: সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার আপনারা বাড়িতে যান দায়িত্ব শেষে আবার শনিবার সকালে ফিরে আসেন। আমি দেখি, শনিবার সকালে সবাই এসে পুকুরে পা ধুয়ে নিজনিজ কামরায় চলে যান। কিন্তু ইউনুচ সাহেবকে দেখি তিনি এসেই আপনাদের মতো পা ধুয়ে নিজ কামরায় চলে যান না। আমি দেখি তিনি কোন ছেলেকে দিয়ে তাঁর কাপড়ের থলেটা কামরায় পাঠিয়ে দেন। আর নিজে মাদরাসার এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত সব ঘুরেঘুরে দেখেন। কোথায় কোন কিছু পড়ে আছে কিনা, মাদরাসার কোন জিনিস নষ্ট হচ্ছে কিনা, কোথাও কোন মাটি দিতে হবে কিনা ইত্যাদি তদারক করে তবেই ইউনুচ সাহেব কামরায় যান। বিষয়টি আমার নযর কেড়েছে। আমার মনে হলো, ইউনুচ সাহেবের কাছে মাদরাসার দরদ সবার চাইতে বেশি। তিনি এই মাদরাসার ভবিষ্যৎ অভিভাবকের জন্য সব চাইতে যোগ্য। তাই তাঁর কাঁধেই মাদরাসার দায়িত্ব তুলে দিয়েছি। এর পর আর কেউ কোন কথা বলেন নি।
হযরত হাজী সাহেব হুযুর রহ. শুধু কি মাদরাসার অভিভাবক ছিলেন? না, তিনি ছিলেন এক প্রশস্ত-অন্তর আর মহৎ-হৃদয়ের মানুষ। তাই তো তিনি ছিলেন সকল আত্ফালুল মুসলিমীন বা মুসলিম-সন্তানদের অভিভাবক। হযরতের এই মহৎ অন্তঃকরণের পরিচয় মিলে জামিয়া পটিয়ার ইত্তেহাদের আওতাধীন একটি মাদরাসা পরিদর্শনের ঘটনায়। এই ঘটনাও লেখক শ্রদ্ধেয় উলামায়ে কেরামের মজলিস থেকে সংগ্রহ করেছেন। যদ্দূর মনে পড়ে মাদরাসাটি সম্ববত বান্দরবানে হযরতের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। একবার হযরত মাদরাসাটি পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ছাত্রদের হাজিরা-দেখাতে বললেন। হযরত সেটি হাতে নিয়ে ক'জন ছাত্র সেদিন অনুপস্থিত ছিল সেটা জানাতে বললেন। তালাশ করে দেখা গেল সেদিন দু'জন ছাত্র অনুপস্থিত। হযরত কারণ জানতে চাইলেন দায়িত্বশীলদের কাছে। তারা কোন উত্তর দিতে না পারায় তিনি তাদের বাড়িতে টেলিফোনে খবর নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিলেন। হযরতের নির্দেশে খবর নিয়ে জানা গেল একজন জ্বর ওঠার জন্য, অন্যজন গাড়িভাড়া না থাকার কারণে আসতে পারে নি। হযরত দায়িত্বশীলদেরকে নির্দেশ দিলেন মাদরাসার পক্ষ থেকে অসুস্থজনের বাড়িতে লোক মারফত চিকিৎসা-খরচ পাঠিয়ে দিতে। আর বললেন: বাকি ছাত্রটিকে বলে দিন কারো কাছ থেকে কর্জ করে মাদরাসায় চলে আসতে। সে আসলে মাদরাসার পক্ষ থেকে ছেলেটির রাহখরচ আদায় করে দেবেন। এরপর হযরত হাজী সাহেব হুযুর রহ. দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে যা বললেন তা রীতিমত শিউরে ওঠার মত। হযরত বললেন: দেখ, আমরা বিদেশ ঘুরে, মানুষের দ্বারেদ্বারে গিয়ে যে টাকা-পয়সা নিয়ে আসি সব এই তালিবে ইলমদের কথা বলে। নয় তো আমাদেরকে কে টাকা দেবে? এঁরা আল্লাহর মেহমান। তাঁদের কথা বলে যে টাকা আমরা আনি সেটা তাদের-ই জন্য খরচ করতে হবে। তা না হলে আর দরকার কি! হযরত এই বিষয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দিলেন মাদরাসার কর্তৃপক্ষকে। আল্লাহু আকবার! কত বড় হৃদয়ের মালিক হলে এমনভাবে বলা যায়। হাকীমুল উম্মাহ হযরত থানভী রহ. যথার্থই বলেছেন: মাদরাসা গড়ার জন্য প্রথম শর্ত উদার ও প্রশস্ত-হৃদয় পরে শিক্ষাগত যোগ্যতা। তাই আলিম-আওয়াম সবার কাছে হযরত হাজী সাহেব রহ. কেবল আলিম-সমাজ আর মাদরাসার অভিভাবক ছিলেন না, ছিলেন আত্ফালুল মুসলিমীনেরও স্নেহপরায়ন অভিভাবক যা ইসলামী খিলাফা'র খলীফাবৃন্দের ব্যক্তিত্বের সাথেই মানায়। এমন কালজয়ী মহান-মানুষ কি আর জন্ম নেবে?
প্রবন্ধের শেষে এসে শাইখুল আরব ওয়াল আযম হযরত হাজী ইউনুচ সাহেব রহ. এর সাথে লেখকের একটি বিজড়িত স্মৃতির কথা উল্লেখ করতে হয় নেহায়েত আমাদের মহাত্মা বুযুর্গবৃন্দের সামান্য পরশ যে অসামান্য প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে তা হৃদয়ঙ্গম করাতে। স্মৃতি যদি আমাকে বিভ্রান্ত না করে তবে মনে পড়ে সালটা ১৯৮৭-র দিকে হবে। আমি তখন সবে কলেজ-জীবন ত্যাগ করে জামিয়া বাবুনগরে শিক্ষা-গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমনি একদিন দুপুরের দিকে হযরত হাজী সাহেব রহ. বাড়ির পাশে নাজিরহাট বড় মাদরাসায় কী এক প্রয়োজনে আগমন করলেন। তখন আমি একেবারে তরুণ। বাবা আমাকে নিয়ে হযরত রহ.-র কাছে উপস্থিত হলেন আমার জন্য দোয়া চাইতে; কিছু নাসীহাহ নিতে। মনে আছে, নাজিরহাট বড় মাদরাসার দফতরে অনেক উলামায়ে কেরামসহ হযরত রহ. কথা বলছিলেন। এক-পর্যায়ে বাবা সালাম দিয়ে হযরতের কাছে আমার কথা তুললেন। আমি মাথা নিচু করে বসে আছি। বুকে অনন্ত ডর ভর করে আছে। হযরত কি কি বলেছিলেন সব মনে নেই। কিছু নাসীহাহ তো অবশ্যই করেছিলেন। এরপর হযরত রহ. আমার মাথাটি টেনে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ দুই হাত বুলাতে থাকেন। দোয়াও করছিলেন। অবশেষে বিদায় নিয়ে চলে আসতে হল হযরতের ব্যস্ততার জন্য। আমার স্পষ্ট মনে আছে, হযরত রহ.-র হাতের পরশ আমার পুরো সত্ত্বায় এক অপূর্ব প্রভাব সৃষ্টি করে যা আজও অনুভব করি। আহলুল্লাহবৃন্দের হাতের পরশ যে কত মোহনীয় তা প্রত্যক্ষ-অভিজ্ঞতা ছাড়া উপলব্ধি করা অসম্ভব। এই ছোট্ট-স্মৃতিই এখন লেখকের অমূল্য সম্বল যা আজও পথ দেখায়।
মুহতারাম পাঠকবৃন্দ, পরিশেষে একটি কথা আরয করতে চাই নিতান্ত আহত-হৃদয়ের আর্জিতে। আজ আমরা আমাদের সেই সোনার মানু্ষগুলোর জামানা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। ফুলের বাগান থেকে ক্রমে দূরে সরে গেলে যেমন খু্শবু অপরিচিত হয়ে ওঠে তেমনি দূরবর্তী সময়ে অবস্থানের কারণে আমাদের কাছে আজ সেই সোনার মানুষগুলো যাঁরা অহোরাত্র আল্লাহর সন্তুষ্ঠির পেছনে দৌড়েছেন, নিখাদ সুন্নাহর অনুশীলনে প্রতিক্ষণ ব্যয় করেছেন কেমন জানি অপরিচিত হয়ে উঠেছেন। এ লজ্জা--এ ব্যর্থতা--এ দায়ভার কেবল-ই আমাদের। কিন্তু কেন এমন হল? স্তর পরম্পরায় আমরা আমাদের পূর্বসূরীদের বার্তা আর জীবনাচরণ পরবর্তী-প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ থেকেছি। এর খেসারত এখন দিতে হচ্ছে চলমান তরুণ-সমাজের কাছে আমাদের সোনালী ব্যক্তিবর্গ বিস্মৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ফলে, আমাদের উদীয়মান তরুণ কওমী ছাত্র-সমাজ হয়ে পড়ছে অভিভাবকহীন অনাথশিশুর মত। আজকের কওমী-প্রজন্ম হারিয়েছে হাতে হাত রাখার চিরাচরিত ঐতিহ্যের বন্ধনে আনুগত্যের শপথ নেয়ার আবেগ। এটা চরম আত্মঘাতী। এই বাংলার জমীনে অনেক কালজয়ী মহান-পুরুষ জন্মেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা তাঁদের মূল্যায়ন করতে পারি নি যথার্থ অর্থে। ফলে, অনেক মনীষী বেখবরে বিদায় নিয়েছেন নীরবে-নিভৃতে। বাংলার শাইখুল আরব ওয়াল আযম হাজী শাহ মুহাম্মাদ ইউনুচ রহ. এমনই এক মহাত্মা, ক্ষণজন্মা কালজয়ী ব্যক্তিত্ব যাঁর পরশ ও প্রভাব কওমী-অঙ্গনে এক মুকুটহীন সম্রাটকেই নির্দেশিত করে। আমাদের উচিৎ আমাদের সোনালী মনীষীবৃন্দের পবিত্র জীবন ও অনু্শীলনকে বর্তমান প্রজন্মের জীবনে পৌঁছে দেয়া এবং সেই দায়িত্ব পালনের পদ্ধতিরূপে পর্যাপ্ত ইতিহাস ও গবেষণা নির্মাণ করা। অন্যথায় আসমানী শাস্তি আমাদেরকে জর্জরিত করবে।
Powered by Blogger.