Header Ads

ঈদের আগে চরম দুর্ভোগের হাতছানি সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে


সিরাজগঞ্জের প্রায় সবকটি মহাসড়কই খানাখন্দে ভরা। সেগুলো মেরামতে জেলার হাটিকুমরুল-ঢাকা, হাটিকুমরুল-বনপাড়া ও বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে বর্তমানে ইট দিয়ে ‘হেরিংবোন থেরাপি’ চালু রেখেছে সওজ। কিন্তু, কোনও চেষ্টাই সফল হচ্ছে না বৃষ্টির কারণে। ফলে ঈদের আগে ও পরে চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে, গত ৯ আগস্ট সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিরাজগঞ্জে মহাসড়ক পরিদর্শনে যান। সে সময় তিনি হাটিকুমরুল মোড়ের খানাখন্দ দেখে চরমক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিক  সিরাগঞ্জের সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফাকে প্রত্যাহার করেন মন্ত্রী। রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পাবনা অঞ্চলের অতিরিক্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে শোকজ করেন। জেলার সবকটি মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতে সর্বোচ্চ ১০ দিনের সময় বেঁধে দেন সেতুমন্ত্রী। সেই সময়সীমা গত ১৯ আগস্ট শেষ হয়েছে। কিন্তু, মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থা দূর হয়নি। বৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন খানাখন্দ বাড়ছে। এবরো-থেবেরো মহাসড়কের অনেক স্থানেই সওজের ‘হেরিংবোন থেরাপি’ উঠে রাস্তার কঙ্কাল বের হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)’র নিয়ন্ত্রণাধীন বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম গোল চত্বর থেকে নলকা সেতু পর্যন্ত ১৭ কি.মি. রাস্তা বর্তমানে ভাল রয়েছে। অথচ জেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের নলকা থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ৫ কি.মি. হাটিকুমরুল থেকে মান্নাননগর পর্যন্ত ১৫ কি.মি. বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের হাটিকুমরুল থেকে উল্লাপাড়ার শ্রীকোলা মোড় পর্যন্ত ১০ কি.মি. এবং একই মহাসড়কের হাটিকুমরুল মোড় থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কি.মি. পর্যন্ত মোট ৪৭ কি.মি. অংশে সারা বছরই খানাখন্দ সৃষ্টি হচ্ছে। তার উপর গত ক’দিনের বৃষ্টিতে অবস্থা আরো বেহাল হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে একদিকে যেমন ২/৩ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে অন্যদিকে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর কাদের জিলানী বলেন, ‘জেলার তিনটি মহাসড়কের অবস্থা এমনিতেই ভাল না। তার ওপর বৃষ্টির কারণে আরও বেহাল হয়েছে। ঈদের আগে এসব মহাসড়কে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়বে।’
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ‘সেতুর পশ্চিম পাড়ের গোল চত্বর থেকে নলকা সেতু পর্যন্ত রাস্তা সারা বছরই ভাল থাকে। এ অংশে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু, রোজার ঈদের আগে সিরাজগঞ্জ সওজ নিয়ন্ত্রণাধীন নলকা সেতুর খানাখন্দের কারণে ঈদের আগে-পরে টানা আড়াই মাস পর্যন্ত নলকা-কড্ডা-সয়দাবাদ মহাসড়কে ধীরগতি ছিল। ঈদের আগে কী হয় আল্লাহ জানেন।’
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘মহাসড়কে খানাখন্দ নিয়মিত ঠিকমত মেরামত না করার কারণে যানবাহনের ধীরগতি। ফলে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ সদস্যকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ সওজ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার সবকটি মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী গত ৯ আগস্ট সরেজমিনে এসে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেই ডেডলাইন মানা সম্ভব হয়নি। ৩/৪ দিন ভালভাবে বিটুমিনের কাজ করতে হবে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘হাটিকুমরুল মোড় থেকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের চান্দাইকোনার দিকে ১৭ কি.মি. অংশের খানাখন্দে ইট দিয়ে ‘হেরিংবোন’ করা হলেও বৃষ্টিতে আশেপাশে ফের নতুন নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেসব অংশেই মেরামত চলছে। জেলার সবকটি মহাড়কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কেও অসংখ্য পটলস ও খানাখন্দ রয়েছে। সেসবও মেরামত করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে গোলচত্বররের দিকে নলকা পর্যন্ত মহাসড়ক প্রতি মাসেই বিবিএ কর্তৃপক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ করে। তাদের আধুনিক মেশিনপত্র ও যথাযথ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু আমাদের সে ধরনের মেশিনারিজ বা বরাদ্দও নেই। সওজ থেকে ন্যাশনাল হাইওয়ের জন্য সম্প্রতি ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী (যিনি প্রত্যাহার হয়েছেন) আমাকে মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু, ওই অল্প পরিমাণ অর্থ দিয়ে সেটা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলায় সওজের নিজস্ব বিটুমিন মেশানোর জন্য ‘হট মিক্সিং প্লান্ট’, ‘গ্রেডার মেশিন’ এবং ‘এক্সক্যাভেটর’ প্রয়োজন। সেসব নাটোর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলায় আছে। কিন্তু আমাদের ভাড়া করে নিয়ে আসতে হয়।’
সওজ রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশন বলেন, সিরাজগঞ্জের ন্যাশনাল হাইওয়ে (এন-৫) বা মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেসব অর্থ যথাযথ খরচ না করে লোপাট করা হয়েছে- এমন অভিযোগে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ৯ আগস্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহার করেন। এমনকি আমাদেরকেও শোকজ করেন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের মহাসড়ক জরুরিভাবে খানাখন্দ মেরামত করা হচ্ছে। যেহেতু মন্ত্রী নিজেই দেখে গেছেন। তাই এসব মেরামত ও সংস্কারের জন্য জন্য বিশেষ বরাদ্দও দেওয়া হবে। আমি ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীও তদারকি করছি। কিন্তু, বৃষ্টির কারণে মেরামত কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
Powered by Blogger.