Header Ads

আওয়ামী আইনজীবীদের বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘন্টা পর প্রধান বিচারপতির কি হবে?

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের ইস্যুতে বিচার বিভাগ ও নির্বহী বিভাগ এখন শুধু মুখোমুখি অবস্থান নয়, মারমুখী অবস্থান নিয়েছে। রাজনীতি উত্তপ্ত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে পদত্যাগ করতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা।
আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে দেয়া পর্যবেক্ষণ ও রায় প্রত্যাহার করে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তা না হলে এক দফা আন্দোলনে যাবার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট বারের সামনে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এসময় পাকিস্তানের সাথে তুলনা দেয়ায় প্রধান বিচারপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেন নেতারা।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রায়ের পর্যবেক্ষণে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, সেটি অসাংবিধানিক। এসময় ২৪ আগস্টের মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রত্যাহার করে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানান তারা।
এ অবস্থায় কি ঘটতে যাচ্ছে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ভাগ্যে। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা ও সরকারের ওপরের মহলে কথা বলে জানা গেছে, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় ও পর্যবেক্ষণে উঠে আসা আদালতের ‘আপত্তিকর’ বক্তব্যগুলো প্রত্যাহারের জন্য নানা মাধ্যমে চেষ্টা করেছে সরকার। সে ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সাথে সমঝোতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সাথে বৈঠকও করেন সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। কিন্তু ওই বৈঠকে কোনো ধরনের সমঝোতা না হওয়ায় পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের দিকে মনোযোগ দেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে গত রোববার আদালতে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতির কিছু মন্তব্য সরকারকে আরো ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বিশেষ করে ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে’ প্রধান বিচারপতির এমন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি খুব কঠোরভাবে নিয়েছেন।
সোমবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়। যে পাকিস্তানকে আমরা হারিয়েছি তার সাথে আমাকে তুলনা করা হয়েছে। সব সহ্য করতে পারি কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা সহ্য করব না।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও রোববার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়’।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির কঠোর সমালোচনা, সমঝোতা বৈঠক ও নানামুখী চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি নিজ অবস্থান বদলাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু রোববার প্রধান বিচারপতির দেয়া বক্তব্যে তার কোনো ইঙ্গিত বহন না করে উল্টো সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সে জন্য রায় ও পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহারে কোনো ধরনের সংলাপ, সমঝোতার দিকে না গিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার দিকেই যেতে চান সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস প্রধান বিচারপতিকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যে পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার না করা হলে এক দফা আন্দোলনের দিকে যাবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ষোড়শ সংশোধনীর রায় ছাড়াও অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির বিধিমালাসংক্রান্ত আইন ও নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্বে প্রধান বিচারপতির ওপর সরকারের অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে চরম বিবাদে জড়িয়েছে সরকার ও বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায়। এসব কারণে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বিকল্প ভাবনাই নীতিনির্ধারকদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি কাজ করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।
purboposhchimbd
Powered by Blogger.