Header Ads

ষোড়শ সংশোধনী ছাড়া বিএনপির হাতে কোনো অস্ত্র নেই’, এটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় ছাড়া বিএনপির কাছে আর কোনো অস্ত্র নেই। এ রায় নিয়ে মওদুদ সাহেব লম্বা লম্বা কথা বলেন।’
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি একথা বলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আযোজন করা হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।এসময় পাকিস্তান ইস্যুতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বক্তব্য গণমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছে বলেও জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, লাস্টের (প্রধান বিচারপতির কথা) কথা মিডিয়ায় ভুলভাবে এসেছে। সেদিন অধঃস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের রুলস ফ্রেমের জন্য ছিল। আমরা অনেক সময় নিয়েছি। আমি আদালতে বললাম, বাইরের অবস্থা অনেক উত্তপ্ত। লম্বা করে সময় দেন। উত্তপ্ত কমলে এর একটা সমাধান হবে। উনি (প্রধান বিচারপতি) বললেন, আমরা কি উত্তপ্ত করছি? আপনারাইতো উত্তপ্ত করছেন। পাকিস্তানে তো রায়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেন। উত্থানে তো কিছু হয় নাই।
ষোড়শ সংশোধনীর মামলায় আমার তিনটি যুক্তি ছিল উল্লেখ করে মাহবুবে আলম বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া হয়েছে। তখন তারা (জজ) বলতেন, চতুর্থ সংশোধনীতে তো তা বদলে ফেলা হয়েছে। সেটি তো এখন আর নেই। উনারা আমাকে এটা বলে ট্যাকেল দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আমি বলেছি, ষোড়শ সংশোধনীকে সংশোধনী বলা যাবে না, এটা শুধু ৭২-এর সংবিধানের সঙ্গে কাটিং অ্যান্ড পেস্ট করা হয়েছে। রায়ে ওইভাবে বলা আছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার সঙ্গে কীভাবে ঝগড়া হয়েছে, আপনারা দেখেছেন। আমাদের ধীরস্থিরভাবে এগুতে হবে, যাতে কোনো রকম ভুল না হয়।
বিএনপি আমলে সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিচার করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, এসব মামলা স্থগিত করে তারা লম্বা বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলা বন্ধ করে রেখেছিল, কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা হামলার বিচার বন্ধ করে রেখেছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা বন্ধ করে রেখেছিল। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল মামলা, গ্যাটকো মামলা কোনোভাবে এগুনো যাচ্ছে না। যখন তাদের মামলা আসে তারা দলবল বেঁধে আদালতে যান। আমরা তখন অসহায় বোধ করি।
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকেন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। এই মামলাগুলো যদি নিষ্পত্তি করা যায় তাহলে তাদের মুখোশ উন্মোচন হবে।
বৃহত্তর ফরিদপুর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম মুনীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সদস্য সচিব শেখ ফজলে নূর তাপস প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বৃহত্তর ফরিদপুর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ ওবাঈদ হোসেন সেতু।
উৎসঃ   jagonews24
Powered by Blogger.