Header Ads

ভয়াবহ বন্যায় অসহায় পিরগঞ্জবাসি, লাশ দাফনের জায়গাও নেই!

বাবা, কয়দিন ধরি হামরা পানির কারাগারোত বন্দী হয়া আছি। কেউ হামাক দ্যাখপ্যাও আইসে না, খাবারও পাইনা। এই বুড়া বয়সে দিনেরাতে ১ বার খায়া কি থাকা যায়? প্যাটের কষ্ট কি সহ্য করা যায়! চারিদিকে পানি আর পানি। ককন যে পানিত পড়ি মরি যাও বাবা। তোরা এ্যানা বাঁচাও বাবা।'
এভাবেই খুব অসহায় আর কান্নাজড়িত ক্ষীণ কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন শতবর্ষী সুকী মাই বেওয়া। তিনি চতরা ইউনিয়নের সোনাতলার বাসিন্দা। তার বাড়ির চারপাশে গলা পরিমান বন্যার পানি। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার বাড়ির টিনের চালার উপরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।খাবারের পাশাপাশি পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগছে সুকী মাই বেওয়া। সুকী মাইয়ের মতো ইউনিয়নটির কাঁটাদুয়ার গ্রামের শতবর্ষী মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন, সোনাতলার (ঝাকাপাড়া) লাল মিয়া, কুয়েতপুর মাঝিপাড়ার গনেশ চৌধুরী, গৌর চন্দ্র এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে পীরগঞ্জের করতোয়া নদীপাড়সহ উপজেলার ৩’শ ৩১টি গ্রামের মধ্যে প্রায় দু’শ গ্রামে বন্যা এবং জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে করতোয়া, আখিরা, যমুনেশ্বরী ও নলেয়া নদী ঘেঁষা ৯ ইউনয়নের ৮২ টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। গত ৩ দিনে পানিতে ডুবে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কিন্তু পীরগঞ্জকে এখনো বন্যা দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে সরকারি সাহায্যের অপ্রতুলতার মধ্যে স্থানীয় অনেকেই বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। চতরা বিজ্ঞান ও কারিগারি কলেজের পক্ষ থেকে বন্যার শুরু থেকেই বন্যার্তদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। 
ওই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রব প্রধান জানান, বন্যায় আমরা এলাকা দেখছি না। করতোয়া নদীর ত্রি-সীমানা রংপুর, গাইবান্ধা এবং দিনাজপুরের বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রামে আমরা কলেজের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার সরবরাহ এবং মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ওষুধও দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, চতরা ইউনিয়নের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী ব্যবসায়ী আলতাব হোসেনের দেয়া ১ লাখ টাকা এবং নিজেদের সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা বন্যার্তদের সহায়তায় কাজ করছি। এছাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সম্পাদক শাওন মিয়া, আ’লীগ নেতা মাসুদ মিয়া, চতরা ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ দিচ্ছে।
আগামী ২৮ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বানভাসীদের দুর্দশা দেখতে পীরগঞ্জে আসবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৫২৫ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউএনও কমল কুমার ঘোষ জানান, টুকুরিয়া ইউনিয়নে ৫ মেট্রিকটন, চতরায় ৪ মে. টন এবং কাবিলপুরে ৩ মে. টনসহ বন্যার্তদের জন্য সরকারিভাবে ২০ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারি সাহায্য আরও বাড়ানোর জন্য ইউপি চেয়ারম্যানরা জোর দাবি জানিয়েছে।
উৎসঃ   যুগান্তর
Powered by Blogger.