Header Ads

আদালতকে আর খাটো করার চেষ্টা করবেন না : হাইকোর্ট

রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের রায়ে ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার অদক্ষতা ও অযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।কিন্তু আদালতের আদেশ অনুসারে ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় মামলার ডেপুটি অ্যাটর্নিকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, ‘কোর্টকে আর খাটো করার চেষ্টা করবেন না। মার্চ থেকে বলে আসছি (ব্যবস্থা গ্রহণের)।’বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বুধবার এ মন্তব্য করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ ছাড়া ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। আর সচিবের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী।ওই দুই কর্মকর্তা হলেন- ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন।এর আগে ২১ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুসারে স্বাস্থ্য সচিব বুধবার হাজির হয়ে হাইকোর্টের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
এরপর স্বাস্থ্য সচিবের পক্ষে সোমবার একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। যাতে বলা হয়, ওই দুই কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে। অথচ আদালত জানতে চান কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যাখ্যা দিতে স্বাস্থ্য সচিবকে ২৩ আগস্ট তলব করেছেন হাইকোর্ট।ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার আদালতকে বলেন, ‘১৬ মার্চ থেকে বিবাদীরা বসে আছে। কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ওই ঘটনায় মোট ৭৬ শিশু মারা গেছে। আপনি (দুই কর্মকর্তা) বহাল তবিয়েতে আছেন। আর বলতেছেন, দেখতেছি।’
এ সময় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘আগে সতর্ক, তারপর বরখাস্ত। সতর্ক না করলে জটিলতার সৃষ্টি করতো।’
আদালত বলেন, ‘আপনিতো (দুই কর্মকর্তা) জামাই আদরে আছেন।’
মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘দু’জনকে বদলি বা বরখাস্ত কিছুই করেনি।’
তখন আদালত বলেন, ‘ব্যবস্থাতো নেওয়া হয়নি। আমরাতো আগে থেকেই বলে আসছি।’
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার এ বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
আদালত বলেন, ‘কোর্টকে আর খাটো করার চেষ্টা করবেন না। মার্চ থেকে বলে আসছি।’
এক পর্যায়ে কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘ব্যবস্থা নেওয়ার আগে শোকজ তদন্ত আছে। আমরা ব্যাখ্যা তৈরি করার জন্য সময় পাইনি। আমাদের সময় দরকার।’
তখন আদালত বলেন, ‘আগামীকাল যথাযথভাবে ব্যাখ্যা দেবেন। ৭৬ শিশু মারা গেলো। আপনার (সচিব) ছেলে মেয়ে এখানে থাকে না। যারা মারা গেছে, এরাতো মরার জন্য জন্মেছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এ দেশ গরিব হতে পারে। এভাবে শিশুরা মারা যাবে সে শিক্ষাতো কাউকে দেয়নি।’
poriborton
Powered by Blogger.