Header Ads

আ’লীগের ভরসা হেভিওয়েটে প্রতীকেই গুরুত্ব বিএনপির

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘মর্যাদার আসন’ হিসেবে পরিচিত সিলেট-১-এ নানা প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে প্রধান দুই দলে পুরোদমে চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নানা তৎপরতা। পরস্পরকে ঘায়েল করতে কোনো কোনো সময় কাদা ছোড়াছুড়িতেও লিপ্ত হচ্ছেন তারা। এদিকে নিবিড়ভাবে মাঠ পর্যবেক্ষণ করছে দলগুলোর হাইকমান্ড। কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে কোনো দলই প্রার্থিতার ব্যাপারে ন্যূনতম ধারণা দিতে চাচ্ছে না। শাসক দলের লক্ষ্য, সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও সদর নিয়ে গঠিত মর্যাদার এ আসন ধরে রাখা। বিএনপি চায়, আসনটি পুনরুদ্ধার। তবে নির্বাচনের জয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ ভরসা রাখছে হেভিওয়েট প্রার্থীর ওপর। আর প্রার্থীর চেয়ে প্রতীককেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

তবে আগামী নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দু’দলের জন্য রয়েছে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ। বিজয় নিশ্চিত করতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেই হবে দল দুটিকে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য প্রধান সমস্যা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ ইসলামী দলগুলো। এছাড়া রয়েছে দলীয় কোন্দল। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনের নামে ইসলামী মূল্যবোধ ও মর্যাদা রক্ষার ইস্যু নিয়ে আড়ালে ঐক্য তৈরি হয়েছে যুব ও তরুণ বয়সীদের মধ্যে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাসক দলের সমালোচনায় তৎপর। অন্যদিকে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলের অভ্যন্তরে চরম অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব। পাশাপাশি রয়েছে সুবিধাবাদী নেতাদের গোপনে সংগঠনবিরোধী অপতৎপরতা।

সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও তুলনামূলকভাবে বিএনপিতে নেই। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম এ আসনে নির্বাচন করবেন- এমন আলোচনা অতীতে শোনা গেলেও তিনি এরই মধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় এখন হেভিওয়েট কেউ নেই বললেই চলে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, তারা হেভিওয়েটে বিশ্বাসী নন। মানুষ এবার ভোট দেবে প্রতীক ও দল দেখে।

সিলেট-১ আসন দেশবাসীর কাছে ‘মর্যাদার আসন’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। কারণ অনেকেরই বিশ্বাস, এ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে। এমনকি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে সিলেট-১ ছাড়া ১৮ আসনেই পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা। তখনও সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। স্বাধীনতা-পরবর্তী নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট-১ আসনের বর্তমান এমপি। হেভিওয়েট এ প্রার্থী আগামীতে আর নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিকল্প হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছে অর্থমন্ত্রীর সহোদর ড. একে আবদুল মোমেনকে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের নির্দেশে তিনি মাঠে রয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। ড. একে আবদুল মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধির দায়িত্বে ছিলেন। অথচ তাকে মাঠে রেখেই এখন খোদ অর্থমন্ত্রীই ফের নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি চা বাগানের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে শ্রমিকদের কাছে ভোটও চেয়েছেন। এদিকে মুহিত-মোমেনকে মাঠে রেখেই সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। দলের নেতারা বলছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করবেন- এমন গুঞ্জন ছড়ানোর পর অর্থমন্ত্রী তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। ঘোষণা দিয়েছেন ফের নির্বাচনের। তবে অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পরও অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ একই আসনে নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড়। এছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান তৎপর থাকলেও প্রার্থিতার ব্যাপারে এতদিন মুখ খুলেননি। তবে দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। নিজে প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে কামরান বলেন, দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশেই সবকিছু হবে। দলের স্বার্থে শুধু মহানগর নয়, এর আশপাশের উপজেলাগুলোয়ও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। নেত্রী যদি নির্বাচন করতে বলেন, আমার আপত্তি নেই। মনোনয়ন যাকেই দেয়া হোক, আমাদের লক্ষ্য একটাই, সেটা হল বিজয়।

মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। দলের জন্য জেল খেটেছি। বয়স অনেক হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ করেছি। সেই কারণে দলীয় সভানেত্রীর আশীর্বাদে তৃতীয়বারের মতো কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছি। গত নির্বাচনেও এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলাম; কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রার্থী ছিলেন বলে তা প্রত্যাহার করি। এবার তিনি নির্বাচন করবেন না, এটা অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। ২২ মার্চ সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কর্মী সম্মেলনে আমি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। ওই সম্মেলন মঞ্চে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় দলের নেতাকর্মীরা আমাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। সবার মুখেই তখন আলো দেখতে পেয়েছি। অন্ধকার দেখেছি শুধু আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবারের সদস্যদের মুখে।

এদিকে আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুসারীদের অভিযোগ, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পরও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক নেই। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি ব্যর্থ। এ কারণেই সিলেট অঞ্চল থেকে এবার ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তারা বলেন, মিসবাহ সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে থাকার সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। এটা সাংগঠনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। গত নির্বাচনে সিলেট জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মাত্র তিনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এমন অবস্থায় তার প্রার্থী হতে চাওয়াটা দলের অনেক নেতাকর্মীও মানতে পারছেন না।

এ বিষয়ে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘আমরা আকাশ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসিনি। তৃণমূলে কাজ করে কেন্দ্রে স্থান পেয়েছি। আবুল মাল আবদুল মুহিত দলের নেতাকর্মীদের জন্য কিছুই করেননি। আকাশ থেকে পড়ে মন্ত্রী হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। তাই মনোনয়ন বোর্ড দলের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি ত্যাগের কথা বিবেচনা করে আমাকেই মনোনয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা।’

অর্থমন্ত্রীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ বলেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ তর্কের খাতিরে এসব কথা বলছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত জেলার প্রতিটি উপজেলা ঘুরে তৃণমূলকে শক্তিশালী করেছেন। তখন যেসব কমিটি ছিল, তা ছিল পকেট কমিটি। সেগুলো ভেঙে গণতান্ত্রিক ধারায় কমিটি করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ আসনে বিজয়ী হতে হলে আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। ব্যক্তির আগে দলের চিন্তা করতে হবে। কাকে মনোনয়ন দিলে জয়ী হবেন, সেটা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালোভাবেই জানেন।

সিলেট-১ আসনের প্রার্থী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে জানান, এসব বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। মনোনয়নের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে প্রার্থীর মূল যোগ্যতা হিসেবে প্রধান্য পাবে দলের জন্য ত্যাগ,ং নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা। তিনি বলেন, সিলেট-১ আসনের এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নির্বাচন করবেন না বলে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী না হলে এ আসনে অনেকেই হয়তো প্রার্থী হতে চাইবেন- এটাই স্বাভাবিক। তিনি যখন আবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মনোনয়ন বোর্ডই দেবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ডা. শাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, দেশে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। দলের নেতাকর্মীদেরও প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে এবার উত্তীর্ণ হবেন ত্যাগী নেতারাই। যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছেন, সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন- এমন প্রার্থীকেই দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। সিলেট ১ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী আছে কিনা- জানতে চাইলে জীবন বলেন, সারা দেশে খালেদা জিয়া এবং ধানের শীষের বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। তাতে হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রয়োজন নেই। দলের যে কেউ প্রার্থী হলেই বিজয় নিশ্চিত। তিনি বলেন, মর্যাদার সিলেট-১ আসনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী হিসেবে চান স্থানীয় নেতারা। এ ব্যাপারে নেত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত দেবেন।

তবে এ পর্যন্ত সিলেট-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি সিলেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেট সদর আসনে বিএনপির সাবেক এমপি খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে। সিলেট বিএনপি তথা নগরীতে খন্দকার আবদুল মালিক এখনও আলোচিত নাম। বিএনপি নেতারা বলছেন, খন্দকার মালিকের পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে সিলেটবাসী অবশ্যই তার মূল্যায়ন করবেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তার বাবার নামে থাকা খন্দকার মালিক ফাউন্ডেশন নিয়ে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯১ সালে সিলেট বিভাগের ১৯টির মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা ধরাশায়ী হলেও এ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন খন্দকার আবদুল মালিক। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির যুগান্তরকে জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আসনটি দলকে উপহার দেয়ার চেষ্টা করব।

এদিকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী দেয়নি জাতীয় পার্টি। পরে ১৯৯৬-এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করা হয় বাবরুল হোসেন বাবুলকে। ওই নির্বাচনে তিনি ভোট পান ৪০ হাজার ১৭৫টি। ওই নির্বাচনে এরশাদ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন। নির্বাচনে ৫৯ হাজার ৭১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার করা হয় হুমায়ুন রশীদকে। এরপর ২০০১ সালে জাতীয় পার্টিসহ ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠন হলে এ আসনে প্রার্থী হন জাতীয় পার্টির আবদুল মুকিত খান। ওই নির্বাচনে তিনি ৬.৮৩ শতাংশ ভোট পান। এবার প্রার্থিতার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ওপর। সিলেটের নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ সিদ্দিকী যুগান্তরকে জানান, এ বিষয়ে এখনও কথা বলার সময় হয়নি। আরও দু’তিন মাস অপেক্ষা করুন সবই জানতে পারবেন।

দুই দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল : আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুই দলের ভেতরেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। নির্বাচনের আগে বিদ্যমান এ দ্বন্দ্ব মেটানো না গেলে এর প্রভাব ভোটের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এর মধ্যে সিলেট আওয়ামী লীগে অতীতে প্রয়াত দুই নেতাকে কেন্দ্র করে দুই বলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। একদিকে ছিলেন প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ। অপরদিকে ছিলেন প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। যেটি ‘স্পিকার’ ও ‘সামাদ’ বলয় বলে স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত ছিল। পরে স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী মারা গেলে এ বলয়ের নেতৃত্বে আসেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। নেতাকর্মীদের মতে, শীর্ষ এ তিন নেতার মৃত্যুর পর দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ এখন ত্রিধাবিভক্ত। যদিও এ বিভক্তি তেমন একটা দৃশ্যমান নয়। তবে সম্প্রতি দলের এ বিভক্তি কিছুটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী মুহিত ও তার ভাই মোমেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার পরও তাদের চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ নিজেই তার প্রার্থিতা ঘোষণা করায় এ বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ফলে মন্ত্রী মুহিতের বিপরীতে এখন মিসবাহকে কেন্দ্র করে আলাদা বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের রয়েছে আলাদা বলয়।

অন্যদিকে সিলেট বিএনপিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর দুটি বলয় এখনও বিদ্যমান। দুটি বলয়ের নেতাদের সম্পর্ক এখনও তেলে-জলে। বিএনপির সিলেট জেলা ও মহানগরের কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর এ বিরোধ ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তবে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসাইনের দাবি, স্থানীয় বিএনপিতে এখন কোনো গ্রুপিং নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ। দলীয় প্রার্থী নিয়ে নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। দল যাকে ধানের শীষ দেবে, তাকে বিজয়ী করতে সবাই মাঠে নামবেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ ইসলামী দলগুলো ফেক্টর : গত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। হেফাজত ও ইসলামী দলগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটে বলে মনে করছেন খোদ দলটির নেতাকর্মীরা। যদিও সিটি নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হেফাজতের বিশাল সমাবেশে পানি ও শরবত সরবরাহ করা ছাড়াও তাদের মঞ্চে বক্তব্যও রেখেছিলেন; কিন্তু নির্বাচনে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। হেফাজতে ইসলাম সিলেট মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান যুগান্তরের কাছে দাবি করেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। নির্বাচন নিয়ে এ সংগঠনের কোনো ধরনের চিন্তা-ফিকির নেই। সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন কয়েকটি ইসলামী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। হেফাজত এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেনি। আগামীতে জোট করার কোনো সম্ভাবনাও নেই।-সুত্রঃ যুগান্তর
Powered by Blogger.