Header Ads

পুলিশের গাফিলতিতে বাবা-মা হারাল শিশু ফাতেমা

পুলিশের গাফিলতিতে আসল মায়ের কাছে যাওয়া হল না ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া ৮-৯ মাসের শিশু ফাতেমার।


প্রকৃত বাবা-মা খুঁজে না পাওয়ায় বুধবার ঢাকার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান শিশুটির অভিভাবক নির্ধারণ করে দেন।

শিশুটিকে পাওয়ার জন্য আবেদন করা নয় দম্পতির মধ্যে যাচাই-বাছাই করে আদালত মানবাধিকার কর্মী আইনজীবী সেলিনা আক্তার দম্পতিকে শিশুটির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব দেন।

একই সঙ্গে আদালত সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সেলিনা আক্তার দম্পতিকে শিশুটির নামে ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করার আদেশ দেন।

শিশু আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সাহাবুদ্দিন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ২২ আগস্টের মধ্যে এফডিআর করে সেই ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করে শিশুটিকে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) থেকে নেয়ার জন্য ওই দম্পতিকে আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ আদেশের মাধ্যমে শিশুটি তার নতুন মা পেল।

শিশুটির নতুন মা সেলিনা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, আমি আমার মেয়ের (শিশু ফাতেমা) জন্য একজন মা হিসেবে সবকিছু করব। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এতদিন আমি নিজেকে নিঃসন্তান বলে পরিচয় দিতাম। এখন আর আমি সেই (নিঃসন্তান) পরিচয় দিতে চাই না।

আদালতের মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে একটি ফুটফুটে সুন্দর সন্তান দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২৫ জুলাই শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে বের করার আদেশ দেন বিচারক। এরপর বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক আবু সাঈদ আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে জানান, শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে শিশুটির প্রকৃত বাবা-মাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শিশুটির প্রকৃত বাবা-মা দাবি করে কেউ কোনো লিগ্যাল নোটিশও দেননি। এছাড়া শিশুটি হারিয়ে গেছে বলে কেউ সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করেননি।

এর আগে ২৫ জুলাই শিশুটির ভাগ্য নির্ধারণে দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বিচারক অসুস্থ থাকায় এদিন নির্ধারণ করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ৯ জুলাই বিজি-০০৮৫ বিমানে জর্ডান থেকে দুবাই হয়ে ঢাকা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা একটি ফ্লাইটে স্বপ্না নামের এক যাত্রীর কোলে শিশু ফাতেমাকে রাখার অনুরোধ করেন তার মা। স্বপ্নাও মায়াবশত শিশুটিকে কোলে নেন।

শিশুটিকে কোলে নিয়ে স্বপ্না শিশুটির মায়ের সঙ্গে খোশগল্প করতে থাকেন।

রাত ৯টায় বিমানটি বিমানবন্দরে পৌঁছলে শিশুটির মা স্বপ্নাকে শিশুকে নিয়ে গোলচত্বর ওভারব্রিজের কাছে দাঁড়াতে বলেন এবং তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে বুকিংকৃত মালামাল গ্রহণ করে ওই স্থানে আসবেন বলে আশ্বাস দেন।

ওই দিন নির্দিষ্ট স্থানে ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্বপ্না তার বাসায় শিশুটিকে নিয়ে যান। পরের দিন বিকাল ৩টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে বিমানবন্দরের এপিবিএন পুলিশের কাছে আসেন। এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানায় জিডি করে পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।
Powered by Blogger.