Header Ads

প্রধান বিচারপতিকে না সরালে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, বিচারপতি মানিক

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, প্রধান বিচারপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন। প্রধান বিচারকের আসন থেকে তাঁকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে। এটি না হলে তাঁর মেয়াদের আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে আরো বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তো শপথ ভঙ্গ করেছেন। ’ তিনি বলেন, “আমি মনে করি, তাঁর আর প্রধান বিচারপতি থাকার কোনো যোগ্যতাই নেই, এখতিয়ারই নেই। তিনি নিজে বিচারকের চেয়ারে বসে বলেছেন যে ‘আমি দিনেরবেলা শান্তি পিস কমিটির সদস্য ছিলাম তবে রাত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছি। ’ এটা তো ডাবল স্টান্ডার্ড। এটি তো মুনাফেকি।বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শীর্ষক’ ওই আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে সভায় সাবেক বিচারপতি শামসুল হুদা বলেন, ‘অনেক পলিটিক্স করেছেন।বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘তিনি আরো অত্যন্ত জঘন্য কথা বলেছেন, আমাদের পার্লামেন্ট নাকি অকেজো, অর্থাৎ ডিসফাংশনাল। পার্লামেন্ট যদি ডিসফাংশনাল হয় গত তিন মাসে আগে তাঁর যে বেতন বাড়ল, তা কোন পার্লামেন্ট বাড়াল?’
একটি দৈনিক পত্রিকার নাম উল্লেখ করে সেই পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে আপিল বিভাগের এই সাবেক বিচারপতি বলেন, ‘হাইকোর্ট এলাকায় আইএসআই গোয়েন্দার লোক হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তি এই রায় দিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই যে একটি শক্তিকে, দেশবিরোধী চক্রকে যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না তাদের ক্ষমতায় আনার জন্য, একটি অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনার জন্য তিনি যে কাজ করেছেন, শপথ ভঙ্গ করেছেন, এ জন্য এখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আছেন তাঁর মাধ্যমে আমরা দাবি করব তাঁর যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা মহামান্য রাষ্ট্রপতি করেন। ’
শামসুদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, ‘সেদিন যদি গোলটেবিল বৈঠকে জ্বালাময়ী বক্তৃতা খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক না দিতেন তাহলে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি হতো না, আপনারা এখন নিশ্চিত থাকতে পারেন। কারণ মীর কাসেম আলীর সঙ্গে বিচারপতির সিনহার একটা ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছিল। ’ তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করার পর বিএনপি এখন চাচ্ছে এই পার্লামেন্টকে বাতিল করার। সুতরাং আরো পাঁচ মাস কিন্তু এই প্রধান বিচারপতি আছেন। এই পাঁচ মাসে তাঁর থলে থেকে আর কী বের হবে, তা আমরা জানি না। আমরা শঙ্কিত। আমরা চাই, আর কোনো ক্ষতি যেন না করতে পারেন তার আগেই প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ চেয়ারে বসে আপনি যদি বঙ্গবন্ধুকে দেখতে না পান তাহলে বলতে হবে আপনার প্রভু আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান নাকি আপনার নেতা জিয়াউর রহমান, মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে—তা আপনাকে বলতে হবে। ’
একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বিচারপতি সিনহা যে রায় দিয়েছেন তার দু-একটি শব্দ এক্সপাঞ্জ করে সমস্যার সমাধান হবে না। যদি এই রায়কে আমরা বৈধতা দিই তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ’
আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন ও ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী।
উৎসঃ   kalerkantho
Powered by Blogger.