Header Ads

আওয়ামীলীগ পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

কোরবানির পশুতে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠন ও সড়কে পুলিশ চাঁদা তুলছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। গরু প্রতি চার হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে। একটি সিন্ডেকেট তৈরি করে সীমান্তের বিভিন্ন করিডোর থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। শুধু বৈধভাবে সাতক্ষীরা চারটি করিডোর দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ আরো বেশি। গরুপ্রতি ৫০০ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় করার কথা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে গরুপ্রতি ৪ হাজার ২০০ টাকা করে। আর এসব টাকা কয়েকটি সরকারি সংস্থার কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা , ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা, এক শ্রেণীর দালাল চক্র ও রাজস্ব অফিসের দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া , দেবহাটা ও কালিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু প্রবেশ করছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন’শ ভারতীয় গরু সাতক্ষীরার সীমান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।গরুর মাংস সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে এবং দাম কমাতে সম্প্রতি ভারতীয় গরু প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্ত সীমান্তে ভারতীয় গরু আনার ক্ষেত্রে ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে সরকারের সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা কাস্টমস্ অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, সাতক্ষীরার কুলিয়া, সোনাবাড়িয়া, সাতানি ও বসন্তপুর পৃথক চারটি করিডোর দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে থাকে। ওই চারটি করিডোর দিয়ে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে গরু এসেছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৮ টি। এরমধ্যে ২০১৭ সালে জানুয়ারি মাসে এসেছে ২৫ হাজার ১ শত ৭৩ টি। ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে ১৫ হাজার ৫ শত ৪৭ টি। মার্চ মাসে ৩ হাজার ৫ শত ৯৯ টি। এপ্রিল মাসে ২৭৫ টি। মে মাসে ১ হাজার ৩ শত ৮২ টি। জুন মাসে ২ হাজার ৫ শত ৭২ টি। জুলাই মাসে ৩ হাজার ২ শত দুইটি এবং চলতি আগষ্ট মাসে (১৫ আগষ্ট পর্যন্ত ) ৩ হাজার ৮ শত ৩৪ টি গরু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩’শ ভারতীয় গরু সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু প্রবেশ সম্পতি বেড়ে তা দ্বিগুণ হয়েছে।
২০১৬ অর্থবছরে জুলাই মাসে কুলিয়া সীমান্ত দিয়ে ১৮১১টি, সোনাবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ৫৪৭ টি, সাতানি সীমান্ত দিয়ে ২০৮ টি ও বসন্তপুর সীমান্ত দিয়ে ১২৫৪ টি গরু এসেছে। সেপ্টেস্বর মাসে ৪৬৫০টি, অক্টোবর মাসে ১৫৪৮১টি, নভেম্বরে ১৬০৫৭টি ও ডিসেম্বরে ২০২০৭ টি গরু এসেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে দুই থেকে তিন শত গরু আসছে। এসব গরু কাষ্টম করিডোর করে বৈধ করা হয়। তাতে খরচ হয় গরু প্রতি ৫১০ টাকা। এরপর এসব গরু রাজধানিসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কিনে নিয়ে যায় ব্যাপারীরা। তবে অবৈধভাবে ভারত থেকে গরু আনা হয় অনেক বেশি। যার হিসাব সরকারের কাছে নেই্।
ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা সীমান্তে ব্যাপক ভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে।
অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলেন, গরুর মাংস সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে ভারতীয় গরু প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে সরকার। কিন্তু চাঁদাবাজির কারণে সরকারের সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া এসব গরু ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলাতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে কয়েক দফায় চাঁদা দিতে হয় বলে গরু ব্যবসায়ীরা জানান।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্র দাশ জানান, জেলায় এবার ৩২ হাজার গরুসহ ৫৩ হাজার বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যা দিয়ে কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে আরও ১০ হাজার পশু অন্য জেলায় পাঠানো সম্ভব। ভারতীয় গরু না আসলেও কোন সমস্যা নেই। বরং ভারতীয় গরু আসার কারণে দেশীয় খামারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শীর্ষনিউজ
Powered by Blogger.