Header Ads

বাংলাদেশে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা জাতিসংঘের


মারাত্মক বন্যার পরে ভয়াবহ খাদ্যাভাবে পড়ার (ডিভাস্টেটিং হাঙ্গার) ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বন্যায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমির ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বন্যার্তদের কাছে খাদ্য সরবরাহ দেয়াটাও ঝুঁকিতে পড়েছে। বুধবার বাংলাদেশের বন্যা ও বন্যার্ত মানুষদের বিষয়ে এ কথা বলেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টা র‌্যাডার এক বিবৃতিতে বলেছেন, বন্যার ধকল কাটিয়ে ওঠা বহু মানুষ সব কিছু হারিয়েছেন। তারা বাড়িঘর, সহায় সম্পদ, ফসল সব হারিয়েছেন। এসব মানুষের এখনই খাদ্যের প্রয়োজন। দীর্ঘ মেয়াদের তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তা ভয়াবহ এক সংকটের মুখে। লন্ডন থেকে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, এরই মধ্যে বাংলাদেশের বন্যা-আক্রান্ত দুই লাখেরও বেশি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাদ্য পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বুধবার বলেছেন, বন্যায় কমপক্ষে ১৩২ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৫ লাখ মানুষ। এবারের বন্যায় বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ তলিয়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতির এ দেশে এ অবস্থা রয়েছে গত দু’সপ্তাহ। ওদিকে এবারের বন্যায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে কমপক্ষে ৮০০ মানুষ মারা গেছে। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহারা হয়েছে। ত্রাণকর্মীরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও পানিবাহিত রোগ দেখা দিতে পারে। এর ওপর রয়েছে অব্যাহত বৃষ্টি। ডব্লিউএফপি বলেছে, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বহু পরিবার এখনও অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এখনও বাড়ি ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় নি। এসব মানুষ তীব্র খাদ্যাভাব ও দারিদ্র্যের মুখে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষকদের জীবনদায়ক হিসেবে দেখা হয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতি বছর এমন বৃষ্টিপাত হয়। এতে অনেক প্রাণহানি হয়। সম্পদের ক্ষতি হয়। কিন্তু অনেক বছরের মধ্যে এবারের বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহ বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বরা হয়েছে, কমপক্ষে ১০ হাজার হেক্টর (২৪ হাজার ৭১১ একর) জমির ফসল পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে আরো ৬ লাখ হেক্টর (১৪ লাখ ৮২ হাজার ৬৩২ একর) জমির ফসল। খাদ্য সহ দরকারি জিনিসপত্র কিনতে তিন মাসের জন্য এক লাখ বয়স্ক, অচল মানুষ, পুরুষ ছাড়া পরিবারকে চার হাজার টাকা করে দিচ্ছে ডব্লিউএফপি।
Powered by Blogger.