Header Ads

যার যার সাধ্যমতো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম



দেশের উত্তরাঞ্চলসহ সরাদেশে সর্বগ্রাসী বন্যায় দুর্ভোগের শিকার অসহায় মানুষের পাশে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমত ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ঈমান-আক্বীদা ভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আজ (১৭ আগস্ট) বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী এই আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, মাত্র চার মাসের মাথায় চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়েক দফার বন্যায় গ্রাম-বাংলার কোটি কোটি কৃষক, মজদুর, গরীব মানুষ পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে দফায় দফায় বন্যায় ঘর-বাড়ী-জোত-জমি, খাদ্য-শস্য, ফসল, মাছ ও গবাদি পশু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাম-বাংলার মানুষ। সুতরাং এমন ভয়াবহ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ধর্ম-বর্ণ ও দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের প্রতিটি সমর্থবান ও সক্ষম মানুষকে বন্যাদুর্গত এলাকায় অসহায় দুঃস্থদের পাশে জরুরী ভিত্তিতে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে। নতুবা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। হেফাজত আমীর এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দুর্গত অসহায় মানবতার পাশে সহযোগিতার হাত নিয়ে দাঁড়ানোর প্রতি আমাদের পবিত্র মহান ধর্ম ইসলামে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে বহু নির্দেশনা ও উপদেশ এসেছে। যেমন- পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম কর্জ দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান’। (সূরা আল-হাদীদ, আয়াত ১৮)। আরো বলা হয়েছে, ‘আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে সাহায্যকামী ও বঞ্চিতদের হক’। (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত- ১৯)। হেফাজত আমীর বলেন, অনুরূপভাবে হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বিধবা ও অসহায়কে সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য’। হাদীসে আরো বলা হয়েছে, সাহায্যকারী ব্যক্তি এরূপ নামাযীর ন্যায়- যিনি নামায আদায়ে ক্লান্তিবোধ করেন না এবং এরূপ রোযাদারের ন্যায়- যিনি বিরামহীন রোযাব্রত পালন করেন’। (বুখারী- ৬০০৭; মুসলিম- ৭৬৫৯)।
যৌথ বিবৃতিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, ইসলাম অসহায় মানবতার প্রতি সাহায্য-সহযোগিতার পাশাপাশি সকলের ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ আচরণ, সাম্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয় এবং মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই তুল্য। সুতরাং ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বন্যাদুর্গত অসহায় মানবতার পাশে সহযোগিতা নিয়ে স্বচ্ছল জনসাধারণকে দাঁড়ানো মুসলমানদের জন্য ঈমানী দায়িত্বও বটে। তাঁরা বলেন, ব্যক্তিগত বা সম্মিলিত উদ্যোগে যার যার কাছাকাছি ও সুবিধাজনক বন্যাদূর্গত এলাকায় জরুরী ত্রাণসামগ্রী, নগদ অর্থ ও খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করে বিলি-বণ্টনের উদ্যোগ নিন। কারণ, দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বন্যার রূপ। বৃষ্টির পানি ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি মানুষ। সহায়-সম্বলহীন হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ও খোলা আকাশের নীচে মানবেতরভাবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বন্যাদুর্গত অনেকে। ফসল, বসতবাটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকাও সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের বহু জেলায়। সামান্য খাবারের জন্য হাকাকার দেখা দিয়েছে দুর্গত এলাকার লাখ লাখ নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুদের মাঝে। উপযুক্ত ত্রাণ সহযোগিতা ও আশ্রয় শিবির স্থাপন করা না গেলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরো বলেন, এখনো বৃষ্টি থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা-পদ্মা, মেঘনা, তিস্তা, ধরলাসহ দেশের ছোট-বড় প্রায় সব নদী ফুলে ফেঁপে উঠায় ভয়াবহ বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এর উপর পদ্মার উজানে ফারাক্কা, তিস্তার উজানে গজলডোবা ব্যারেজেসহ ভারতীয় অংশের ছোট বড় সকল বাঁধের গেটগুলো খুলে দেয়ার ফলে দেশের সব নদ-নদীতে ভয়াবহ আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। রংপুর বিভাগের প্রায় সব জেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় শুধু সেখানকার মানুষই যে দুর্দশাগ্রস্ত তা নয়, বরং আসন্ন পবিত্র কুরবানী মৌসুমে দেশে মারাত্মক পশু সংকট দেখা দিতে পারে বলেও আশংকা করা হচ্ছে। তাঁরা বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে যারা আয়-রোযগারে চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল, তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেই, বরং যারা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী ও মাছসহ পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারাও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
বিবৃতিতে হেফাজত আমীর ও মহাসচিব আরো বলেন, বন্যা দূর্গত অঞ্চলে সরকারী তরফ থেকেও যেমন সর্বোচ্চ সকল প্রকার সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, তেমনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ত্রাণ সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। এখানে গড়িমসি করার ও অন্যের উপর দায় চাপানোর যেমন অবকাশ নেই, তেমনি রাজনৈতিক কাঁদা ছোঁড়াছুড়িরও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, ইতোমধ্যে রাজনৈতিক কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয়ে গেছে। দূর্গত মানুষদের জন্য কার্যকর সহযোগিতার পরিবর্তে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা চরম অমানবিকতা। তাঁরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলসমূহ মানবিকতাবোধের পরীক্ষায় বার বার ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দ্বিধা করবে না। হেফাজত নেতৃদ্বয় দেশের আলেম সমাজের প্রতিও যার যার সাধ্যমতো বন্যাদুর্গত মানুষের সহযোগিতায় ভূমিকা রাখতে বিত্তশালী ও সমর্থবানদেরকে উদ্বুদ্ধকরণসহ সামাজিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, সরকারের তরফে কিছু ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলানায় মোটেই যথেষ্ট নয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী দেয়ার পাশাপাশি কম দামে খাদ্য ও অতি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।
Powered by Blogger.