Header Ads

রাখাইনে উত্তেজনা, নিহত ৮৯

 
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্তচৌকিতে ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিদের’ হামলার জের ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ কমপক্ষে ৮৯ জন নিহত হয়েছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ১২। অন্য ৭৭ জনকে ‘জঙ্গি’ বলে দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে সংঘর্ষ ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায় দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির কার্যালয়।

রাখাইনে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত কমিশনের প্রধান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। খবর আল জাজিরার।

রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের এই সমন্বিত হামলার ঘটনায় সংকট নতুন মাত্রা পেল। ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাখাইন রাজ্য। শুক্রবার ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

একসময়ে ‘হারাকা আল-ইয়াকিন’ নামে পরিচিত এ গ্রুপটিই গত বছরের অক্টোবরে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছিল। মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা গেরিলাদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসী ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশ পোস্ট ঘিরে ফেলে এ হামলা চালায়। রাত ৩টার দিকে প্রায় দেড়শ হামলাকারী খামারা এলাকায় একটি সেনা ক্যাম্পে ঢোকার চেষ্টা করলেও প্রতিরোধের মুখে পিছিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে সরকারের বিবৃতিতে।

মিয়ানমারের সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এই সশস্ত্র সংঘাত চলছে রাখাইন রাজ্যের রাথেডং শহরকে ঘিরে, যেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়নামার সরকার ব্যাপক সংখ্যায় সেনা মোতায়েন করেছিল।

সেখানে নতুন করে সেনা অভিযানের মুখে অনেক রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকারও চেষ্টা করছিল।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী শুক্রবার ভোরবেলা অন্তত বিশটি পুলিশ ফাঁড়িতে মুসলিম জঙ্গীরা হামলা চালায়।

মিয়ানমারে সরকারি এক বিবৃতিত বলা হয়েছে “উগ্রপন্থী বাঙালি বিদ্রোহীরা রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় ঘরে তৈরি বোমা, বিস্ফোরক নিয়ে পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে সমন্বিত আক্রমণ করে।”

মিয়ানমার সরকার রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গাদের বোঝাতে ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এরা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ঢোকা অবৈধ অভিবাসী।


সামরিক বাহিনীর একজন অধিনায়ক ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সেখানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

কোন নিরপেক্ষ সূত্র থেকে অবশ্য মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের এসব ভাষ্য যাচাই করা যাচ্ছে না।

মংডু শহরের একজন বাসিন্দার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, সেখানে লোকজন গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবরে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি নামে একটি জঙ্গি গোষ্ঠী, যাদের নাম আগে কখনো শোনা যায়নি, একই ধরণের এক হামলা চালিয়েছিল মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রতিনিধি আজকের ঘটনার পর উভয় পক্ষের প্রতি সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কোফি আনান বলেছেন, তিনি এই সর্বশেষ হানাহানির খবরে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা সেদেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হন।


Powered by Blogger.