Header Ads

আফগানিস্তানে ২৩৫ গ্রামবাসীকে মুক্তি দিয়েছে তালিবানরা

 


আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সারিপল প্রদেশে পাঁচ দিন আগে অভিযানকালে তালিবানরা জিম্মি হিসেবে যে ২৩৫ গ্রামবাসীকে আটক করে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা বুধবার এ কথা জানান।

প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র জাবি আমানি জানান, উপজাতিগুলোর প্রবীণ সদস্যের সঙ্গে আলোচনার পর তালিবানরা গ্রামবাসীদের মুক্তি দেয়। তবে, এরপরও অজ্ঞাত সংখ্যক বেসামরিক লোক তালিবানদের হাতে আটক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালিবানদের দখল করা এলাকা থেকে পালিয়ে আসা বেসামরিক লোকজন মসজিদ বা তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাসায় অবস্থান করছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সমস্যার স্থায়ী সমাধানও খোঁজা হচ্ছে বলে মুখপাত্র জানান।

আমানি বলেন, তালিবানরা সায়াদ জেলার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর সেখানকার মির্জাওয়ালাং গ্রামে নারী-পুরুষসহ ৫২ জন বেসমরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। নিহতরা বেশিরভাগ শিয়া এবং সংখ্যালঘু হাজারা জনগোষ্ঠীর।

তালিবান মুখপাত্র কারি ইউসুফ আহমাদি ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও মির্জাওয়ালাংয়ে বেসামরিক লোকজনকে হত্যার কথা অস্বীকার করেন।

আইএস এখন পর্যন্ত এই হামলার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি অথবা তারা তালিবানদের বিরোধী পক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলেনি। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন প্রদেশে আইএস-সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর সঙ্গে তালিবানদের যুদ্ধের খবর পাওয়া যায়। আফগানিস্তানে আইএস-সমর্থিত গ্রুপগুলোর বেশিরভাগ তালিবানদের দলছুট সদস্যদের নিয়ে গঠিত।

টানা দু’দিন তীব্র লড়াইয়ের পর আফগান বাহিনীকে হটিয়ে গত ৫ আগস্ট তালিবানরা সারিপল প্রদেশের ওই এলাকা দখল করে। তবে মুখপাত্র আমানি জানান যে, এলাকাটি পুনর্দখলের জন্য আফগান নিরাপত্তা বাহিনী শিগগিরই অভিযান শুরু করেবে।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সারিপল হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান।

এদিকে বুধবার পরওয়ানা প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মূল সামরিক ঘাঁটি বাগরাম এয়ারফিল্ডে বন্দুকধারীরা চার নারী কর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে একজন নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হয় বলে প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জেনারেল জামান মামজি জানান।

কেউ তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। গত জুনে এই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তালিবানরা ছয় আফগান নিরাপত্তা রক্ষীকে হত্যা করে।
Powered by Blogger.